নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: সিনেমা দেখতে গিয়ে মাল্টিপ্লেক্সের খাবারের কাউন্টার থেকে প্যাটিস কিনে বিপাকে এক দর্শক। অভিযোগ, প্যাটিস খেতে গিয়ে তা থেকে দুর্গন্ধ পান তিনি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাল্টিপ্লেক্সের মতো জনবহুল বিনোদনকেন্দ্রে বিক্রি হওয়া খাবারের গুণমান ও খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী মিন্টু মুখার্জি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় সিটি সেন্টার পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরকেও বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকায় একটি বহুজাতিক শপিংমলের পাশে অবস্থিত মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন মিন্টু মুখার্জি। সিনেমা দেখার সময় খাবারের কাউন্টার থেকে একটি প্যাটিস কেনেন তিনি। কিন্তু সেই খাবার খেতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি। তাঁর অভিযোগ, প্যাটিসটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। খাবারের এমন অবস্থা দেখে স্বাভাবিকভাবেই তার গুণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় তাঁর।
সিনেমা দেখতে গিয়ে অনেকেই মাল্টিপ্লেক্সের খাবারের কাউন্টার থেকে পপকর্ন, প্যাটিস, স্যান্ডউইচ-সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার কেনেন। ফলে সেখানে বিক্রি হওয়া খাবারের গুণমান বজায় রাখা এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গায় খাবার থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মিন্টু মুখার্জির দাবি, প্যাটিস থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার বিষয়টি তিনি কাউন্টারের কর্মীদের জানান। অভিযোগ, এরপর কর্মীরা খাবারটি বদলে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, দুর্গন্ধযুক্ত খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠলে শুধু সেটি বদলে দিলেই কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?
তাঁর বক্তব্য, একটি খাবার খারাপ হওয়ার পেছনে সংরক্ষণ পদ্ধতি, খাবারের সতেজতা কিংবা অন্যান্য কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শুধু একজন ক্রেতাকে অন্য খাবার দিয়ে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। একই কাউন্টার থেকে অন্য ক্রেতাদের কাছেও এমন খাবার বিক্রি হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
যদিও প্যাটিসটি ঠিক কী কারণে দুর্গন্ধযুক্ত ছিল, খাবারটি কতক্ষণ ধরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কিংবা খাবারের গুণমান পরীক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে মাল্টিপ্লেক্সে বিক্রি হওয়া খাবারের গুণমান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মিন্টু মুখার্জি। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের ঘটনায় যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনও ক্রেতাকে একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়।
এই দাবিতে তিনি সিটি সেন্টার পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরকেও বিষয়টি জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
মিন্টু মুখার্জির আরও অভিযোগ, ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর আশঙ্কা, পরবর্তীতে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা তদন্তে গেলে সংশ্লিষ্ট প্যাটিসটি আর কাউন্টারে পাওয়া নাও যেতে পারে। ফলে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
এই কারণেই শুধু অভিযোগ গ্রহণ করেই থেমে না থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, খাবারের গুণমান নিয়ে অভিযোগ উঠলে দ্রুত নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ পদ্ধতি খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা উচিত।
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের তদন্তের ফলাফল বা সংশ্লিষ্ট মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সামনে আসেনি। অভিযোগের সত্যতা ও খাবারের প্রকৃত অবস্থা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
শপিংমল ও মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে যাওয়া মানুষের কাছে খাবারের কাউন্টার একটি পরিচিত জায়গা। বিশেষ করে পরিবারের সঙ্গে সিনেমা দেখতে গেলে অনেকেই সেখান থেকে খাবার কেনেন। তাই এই ধরনের প্রতিষ্ঠানে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ এবং বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার বিক্রি করা হচ্ছে কি না এবং খাবারের গুণমান নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারী।
দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের এই অভিযোগ তাই শুধু একটি প্যাটিসের গুণমানের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ক্রেতাদের স্বাস্থ্য, খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম পালন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ববোধের বিষয়টিও।
মিন্টু মুখার্জির দাবি, এই ঘটনার যথাযথ তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন অভিযোগ না ওঠে, তার জন্য নিয়মিত নজরদারি চালানো প্রয়োজন। কোনও খাবার নিয়ে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ করা উচিত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এখন দেখার, এই অভিযোগের ভিত্তিতে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে। দুর্গন্ধযুক্ত প্যাটিস বিক্রির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে খাবারের গুণমান ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে কোনও অনিয়ম পাওয়া যায় কি না, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সিনেমা দেখতে গিয়ে কেনা খাবার যদি নিরাপদ না হয়, তবে বিনোদনের জায়গাতেও ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিয়মিত খাদ্য সুরক্ষা নজরদারির মাধ্যমেই প্রকৃত পরিস্থিতি সামনে আনা প্রয়োজন।