নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ বর্তমানে ১-১ ব্যবধানে সমতায় রয়েছে। ফলে কেপটাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা তৃতীয় ও শেষ টেস্ট কার্যত সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়ার দলে নজরকাড়া পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন ওপেনার হিসেবে ম্যাথিউ রেনশর খেলার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। অন্যদিকে, নিক ম্যাডিনসন ও ব্যাকআপ উইকেটকিপার স্যাম হার্পারকে টেস্ট দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তরফে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিরিজের শেষ ম্যাচে অন্তত একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামতে পারে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই টেস্টের অভিজ্ঞতা, ব্যাটারদের সাম্প্রতিক ফর্ম এবং দলের খেলোয়াড়দের ফিটনেস—সব দিক বিবেচনা করেই চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচন করা হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রথম টেস্টে ২১৪ রানে জয় পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে দক্ষিণ আফ্রিকা। গকেবেরহায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে এক ইনিংস ও ৩১ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনে প্রোটিয়ারা। ফলে শেষ টেস্টে দুই দলের কাছেই জয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
একদিকে সিরিজ জিতে সফর শেষ করতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া, অন্যদিকে ঘরের মাঠে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সিরিজ নিজেদের দখলে নেওয়ার লক্ষ্য থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকার। এই পরিস্থিতিতে দুই দলের ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগের পারফরম্যান্সই ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ওপেনিং জুটি। নিক ম্যাডিনসনকে দলে ফিরিয়ে আনার পর তাঁর কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে চারটি ইনিংসে তিনি মাত্র একবার দুই অঙ্কের রান পেরোতে পেরেছেন বলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ম্যাথিউ রেনশের সামনে আবারও নিজের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাঁহাতি এই ব্যাটারকে ওপেনিংয়ে খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত একাদশ এবং ব্যাটিং অর্ডার সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগে দলের নির্বাচক ও অধিনায়কই নেবেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি শুরুতেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারেন। তাঁর সঙ্গে রেনশ খেললে বাঁহাতি-বাঁহাতি জুটি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। সেই জুটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে দুই ব্যাটারের পরিকল্পনা, পিচের আচরণ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণের ওপর।
শেষ টেস্টের আগে অস্ট্রেলিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্টিভ স্মিথের ফিটনেস। ঘাড়ের সমস্যার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ম্যাচের আগের অনুশীলনে ফিটনেস পরীক্ষা করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্মিথ খেলতে পারলে অভিজ্ঞতার দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিভাগ শক্তি পাবে।
তবে চলতি সফরে স্মিথের ব্যাটিং পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তাই শেষ টেস্টে তাঁর সামনে বড় রান করার পাশাপাশি দলের বিপর্যয়ের সময় ইনিংস সামলানোর চ্যালেঞ্জও থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ভূমিকা অনেক সময় ফল নির্ধারণ করে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার দলে আরও একটি ইতিবাচক দিক হল ক্যামেরন গ্রিন ও জশ ইংলিসের ফেরার সম্ভাবনা। চোটের কারণে তাঁদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গ্রিনের ব্যাটার হিসেবে খেলার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে তিনি বোলিং করার মতো সম্পূর্ণ ফিট কি না, সে বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে।
গ্রিন দলে ফিরলে মিডল অর্ডারে অস্ট্রেলিয়া অতিরিক্ত শক্তি পেতে পারে। অন্যদিকে, জশ ইংলিসের প্রত্যাবর্তন উইকেটকিপিং ও ব্যাটিংয়ের বিকল্প বাড়াতে পারে। তবে তাঁদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ম্যাচের আগে শারীরিক সক্ষমতা ও দলের কৌশলের ওপর।
তৃতীয় টেস্টের জন্য প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে রয়েছেন—
প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক)
স্কট বোল্যান্ড
অ্যালেক্স ক্যারি
কুপার কনোলি
ক্যামেরন গ্রিন
জশ হ্যাজলউড
ট্রাভিস হেড
জশ ইংলিস
ম্যাথিউ কুনেম্যান
মার্নাস লাবুশেন
নাথান লায়ন
মাইকেল নেসার
ম্যাথিউ রেনশ
স্টিভ স্মিথ
মিচেল স্টার্ক
বিউ