Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-টোয়েন্টির আগে বড় ধাক্কা ভারতের! চোটের কারণে ছিটকে গেলেন ঈশান কিষান   •   দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নির্ণায়ক টেস্টে নতুন ওপেনার নিয়ে নামছে অস্ট্রেলিয়া, দল ঘোষণা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার   •   সাম্রাজ্যবাদী ও ট্রাম্পপন্থী শক্তিকে পরাজিত করে ব্রাজিলে ফের লুলার জয়! চতুর্থবার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত লুলা দা সিলভা   •   তমলুক সাংগঠনিক জেলার কাকগেছিয়ায় বিজেপির নতুন কার্যালয়ের ভূমিপূজন, উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী   •   রেলপথে জুড়ল পূর্ব ও পশ্চিম ভারত! সাঁতরাগাছি থেকে জয়পুরের খাতিপুরা পর্যন্ত নতুন এক্সপ্রেস পরিষেবার সূচনা   •   পরিপক্ব ও মানসম্মত ড্রাগন ফল উৎপাদনে বাড়ছে গুরুত্ব, স্বাদে ও গুণমানে ক্রেতাদের তৃপ্তি

৩০ অক্টোবর বারুইপুরে বিজেপির মেগা জনসভা, ‘অনুপ্রবেশ হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে রণকৌশল চূড়ান্ত

26 Oct 2026
09:08 AM


বারুইপুর: আগামী ৩০ অক্টোবর বারুইপুরের NIC গ্রাউন্ডে ‘অনুপ্রবেশ হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিজেপির জনসভা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই জনসভাকে ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। সভায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। দক্ষিণ সুন্দরবন-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক বিজেপি কর্মী-সমর্থক এই জনসভায় যোগ দেবেন বলে আশাবাদী দলীয় নেতৃত্ব।

জনসভাকে সফল করে তুলতে আজ অনুষ্ঠিত হয় গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ, বিভাগ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব। সভার প্রস্তুতি, কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং জনসংযোগ বাড়ানোর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করাই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

রেকর্ড ভিড়ের লক্ষ্যে বিজেপি নেতৃত্ব

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভাগীয় নেতৃত্বের তরফে দেবাংশু পান্ডা জানান, এবারের জনসভায় রেকর্ড সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল, দক্ষিণ সুন্দরবন এবং প্রান্তিক এলাকাগুলি থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বারুইপুরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের আশা, জনসভায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিজেপিকে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে।

‘অনুপ্রবেশ হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে জনসভায় দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে। অনুপ্রবেশের বিষয়, গণতন্ত্র এবং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব কী বার্তা দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

তবে জনসভায় ঠিক কত মানুষের সমাগম হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিপুল জনসমাগমের লক্ষ্য নিয়েই সাংগঠনিক স্তরে প্রস্তুতি এগিয়ে চলেছে।

চার সাংগঠনিক জেলাকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিস্তীর্ণ ভৌগোলিক এলাকা এবং বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দলীয় কর্মী-সমর্থকদের একত্রিত করা বিজেপির কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ। সেই কথা মাথায় রেখেই প্রদেশ, বিভাগ এবং জেলা নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তুতি বৈঠকে চারটি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের উপস্থিতি জনসভাকে ঘিরে দলের পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। কোথায় কীভাবে প্রচার চালানো হবে, কীভাবে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জনসভার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে এবং কীভাবে সর্বাধিক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সাংগঠনিক স্তরে তৎপরতা চলছে।

জেলা নেতৃত্বের লক্ষ্য, শুধু জনসভায় ভিড় বাড়ানো নয়, একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দলের সাংগঠনিক শক্তি ও জনভিত্তি আরও মজবুত করা।

পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বারুইপুরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্ব

সামনেই পুরসভা নির্বাচন। তার আগে বারুইপুরকে কেন্দ্র করে বিজেপির এই জনসভাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। নির্বাচনের আগে জনসভা, কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় করা এবং জনসংযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক জমি শক্ত করার চেষ্টা যে কোনও দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপিও সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই বারুইপুরে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি তুলে ধরতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে বারুইপুরের গুরুত্ব রয়েছে। সেই কারণে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জনসভা সফল করার পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা নেতৃত্ব। আগামী পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সভা বিজেপির সংগঠনকে কতটা চাঙ্গা করতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে জনসভায় মানুষের উপস্থিতি এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে সভার সাফল্য ও পরবর্তী সাংগঠনিক কর্মসূচির উপর।

উন্নয়ন ও রাজনৈতিক বার্তা—দুই দিকেই নজর

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় নাগরিক পরিষেবার মতো বিষয়গুলি রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির আসন্ন জনসভায় কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পায়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন জেলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

দলীয় নেতৃত্বের আশা, এই জনসভা কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে এবং আগামী দিনের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গতি আনবে। বিশেষ করে দক্ষিণ সুন্দরবন ও জেলার প্রান্তিক এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সভাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, আগামী ৩০ অক্টোবর বারুইপুরের NIC গ্রাউন্ডে বিজেপির প্রস্তাবিত জনসভাকে ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রদেশ থেকে জেলা—সব স্তরের নেতৃত্বের সমন্বয়ে সভাকে সফল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন নজর, জনসভায় কতটা মানুষের সমাগম হয় এবং পুরসভা নির্বাচনের আগে এই কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপি কতটা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তার দিকে।

৩০ অক্টোবরের এই জনসভা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে কি না, এখন সেটাই দেখার।