নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কলকাতার চোরবাগানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন সহনাগরিক। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতদের পরিবারগুলিতে। প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা ও অপূরণীয় ক্ষতির মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা। এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা নিয়ে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ জনপ্রতিনিধিরা।
চোরবাগানের দুর্ঘটনায় মৃতদের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাকরাহাটের বাসিন্দা স্নেহা ভাণ্ডারী এবং হাওড়ার সালকিয়ার বাসিন্দা বিকাশ ভট্টাচার্য রয়েছেন। তাঁদের বাসভবনে উপস্থিত হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রতিনিধিরা। নিহতদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এই কঠিন সময়ে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়।
চোরবাগানের দুর্ঘটনায় ১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে একাধিক পরিবারের গভীর শোক ও অসহায়তার ছবি। আচমকা দুর্ঘটনায় প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা কোনও আর্থিক সাহায্য দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবুও এই পরিস্থিতিতে পরিবারগুলিকে কিছুটা সহায়তা দেওয়া এবং তাঁদের পাশে থাকার বার্তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সেই লক্ষ্যেই বাকরাহাটে স্নেহা ভাণ্ডারীর বাসভবন এবং হাওড়ার সালকিয়ায় বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে পৌঁছে তাঁদের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুঃখের মুহূর্তে পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়।
নিহতদের পরিবারের প্রতি সরকারের দায়িত্ববোধের কথা তুলে ধরে সরকারি উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এই সহায়তা কোনওভাবেই তাঁদের অপূরণীয় ক্ষতির বিকল্প হতে পারে না। তবে শোকের এই কঠিন সময়ে পরিবারগুলিকে কিছুটা সহযোগিতা করা এবং ভবিষ্যতেও তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে, প্রিয়জনকে হারানোর এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁরা যেন নিজেদের একা মনে না করেন। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সহায়তা করা এবং তাঁদের পাশে থাকা প্রশাসন ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ফলতা বিধানসভার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা এবং সাতগাছিয়ার বিধায়ক অগ্নিশ্বর। তাঁদের উপস্থিতিতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে সমবেদনা জানানো হয়।
দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৯ জনের মৃত্যু তাঁদের পরিবারগুলির জীবনে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। অর্থনৈতিক সহায়তা সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা থেকে যায় দীর্ঘদিন। তাই এই ধরনের পরিস্থিতিতে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত স্নেহা ভাণ্ডারী ও বিকাশ ভট্টাচার্যের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সেই মানবিক দায়িত্বের কথাই তুলে ধরা হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
প্রিয়জন হারানোর বেদনা কখনও মুছে যায় না। তবুও দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের কষ্টের ভাগীদার হওয়া এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই মানবিকতার পরিচয়। চোরবাগানের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার এই উদ্যোগ সেই বার্তাই বহন করছে।