Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
অভিনেতা জিতের বাড়িতে নবরাত্রি পুজোয় মাতারাণীর দর্শন, বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী   •   কোলাঘাটে ফুচকা খেয়ে শিশু-সহ শতাধিক অসুস্থ! পাঁশকুড়া হাসপাতালে ভর্তি, এক শিশুকে স্থানান্তর তমলুকে   •   সালমান খানই কি প্রথম লক্ষ্য ছিলেন? টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় নতুন মোড়, তদন্তে একাধিক প্রশ্ন   •   ব্রিটিশদের চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতীয় মল্লযোদ্ধার গর্জন! দ্য গ্রেট গামার অবিশ্বাস্য উত্থানের কাহিনি   •   মার্কো জানসেনকে ঘিরে প্রশংসার বন্যা, শেষ দিনে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা   •   মার্কো জানসেনের কাছে দলই সবার আগে, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে প্রোটিয়াদের জয়ই বড়

মার্কো জানসেনকে ঘিরে প্রশংসার বন্যা, শেষ দিনে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা

22 Oct 2026
07:27 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার মার্কো জানসেন। তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্যে সিরিজে সমতা ফেরানোর স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়েছে প্রোটিয়াদের। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে থাকলেও শেষ দিনের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সম্পূর্ণভাবে হার মানাতে এখনও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে স্বাগতিক দলকে। এমন পরিস্থিতিতে জানসেনের পারফরম্যান্স এবং তাঁর লড়াকু মানসিকতা ঘিরে প্রশংসার ধারা অব্যাহত রয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই বাঁহাতি পেসার দ্বিতীয় টেস্টে শুধু বল হাতে উইকেট নিয়েই থেমে থাকেননি, ব্যাট হাতেও দলের বিপর্যয় সামলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রথম ইনিংসে ৮৫ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁর এই দ্বিমুখী পারফরম্যান্সের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন অলরাউন্ডারের কাছ থেকে যে ধরনের অবদান প্রত্যাশা করা হয়, জানসেনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। 

ব্যাট হাতে বিপর্যয় সামলে ঘুরে দাঁড়ানো

দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে একসময় যথেষ্ট চাপে পড়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দুই দিনের পর তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক দল ১১০ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচের ছবিটা বদলে দেন জানসেন।

বাভুমা এক প্রান্তে ধৈর্য ধরে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে জানসেন পরিস্থিতি অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের উপর চাপ তৈরি করেন। দুজনের জুটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা শুধু বিপর্যয় কাটিয়েই ওঠেনি, বরং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বড় রানের ভিতও তৈরি করে।

জানসেনের ৮৫ রানের ইনিংসটি এসেছে ১০০ বল থেকে। তাঁর এই ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতা, পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতা এবং দলের প্রয়োজনে দায়িত্ব নেওয়ার পরিচয়। বাভুমার ১৭৯ রানের ইনিংসের সঙ্গে জানসেনের অবদান যোগ হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথম ইনিংসে ৪২৫ রানে পৌঁছে দেয়, নয় উইকেট হারানোর পর ইনিংস ঘোষণা করা হয়। 

এই ইনিংসের গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত রানসংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রথম ইনিংসে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বের করে আনার ক্ষেত্রে জানসেনের ব্যাটিং ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, লোয়ার অর্ডারে নেমেও তিনি দলের জন্য বড় অবদান রাখতে সক্ষম।

বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস

ব্যাট হাতে দলের জন্য মূল্যবান রান সংগ্রহ করার পর বল হাতে জানসেনের সামনে ছিল আরও বড় পরীক্ষা। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলতে শুরু থেকেই আগ্রাসী বোলিংয়ের প্রয়োজন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই দায়িত্ব দারুণভাবে পালন করেন তিনি।

চতুর্থ দিনের সকালে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে জানসেন দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ের ভিত নাড়িয়ে দেন। স্কট বোল্যান্ডকে আউট করার পর ট্রাভিস হেডের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নেন তিনি। এরপর ম্যাট রেনশ, অ্যালেক্স ক্যারি এবং বিউ ওয়েবস্টারকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি পেসার।

মাত্র ৩৩ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়ার ফলে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হয়ে যায় মাত্র ৯৯ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকা পায় ৩২৬ রানের বিশাল প্রথম ইনিংসের লিড। এরপর ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক দল। 

এই স্পেল জানসেনের বোলিং দক্ষতার পাশাপাশি তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। নতুন বলের সুবিধা কাজে লাগানো, ব্যাটারদের উপর ধারাবাহিক চাপ বজায় রাখা এবং সুযোগ পেলেই উইকেট তুলে নেওয়া—সব মিলিয়ে তাঁর বোলিং দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচ জয়ের খুব কাছে নিয়ে গিয়েছে।

প্রশংসায় প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও

জানসেনের এই পারফরম্যান্সের পর প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যেও তাঁর সামর্থ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন তারকা পেসার ডেল স্টেইন তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্টেইন জানসেনকে বিশ্বের সেরা ক্রিকেটার বলে প্রশংসা করেছেন। যদিও এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, তবুও এই মন্তব্য জানসেনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের প্রভাব তুলে ধরে। 

প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার ভারনন ফিল্যান্ডারও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জানসেনের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতে ৮৫ রানের ইনিংস খেলে জানসেন দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে সাহায্য করেছেন।

তবে জানসেনের সাফল্যকে শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফল হিসেবে দেখছেন না দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটমহল। দলের অন্যান্য বোলারের সহযোগিতা, ফিল্ডারদের দক্ষতা এবং অধিনায়কের কৌশলও এই সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। জানসেন নিজেও সতীর্থদের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বোলাররা ভালো বল করলেও ফিল্ডারদের সমর্থন ছাড়া সেই প্রচেষ্টাকে সাফল্যে পরিণত করা কঠিন। 

শেষ দিনের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে সমীকরণ

চতুর্থ দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান করেছে। এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসের তুলনায় ১৭০ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা। অর্থাৎ দক্ষিণ আফ্রিকাকে আবার ব্যাট করতে নামানোর আগে অস্ট্রেলিয়াকে এখনও উল্লেখযোগ্য রান তুলতে হবে। অন্যদিকে ম্যাচ জিততে স্বাগতিকদের প্রয়োজন আর ছয়টি উইকেট। 

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ট্রাভিস হেড ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিনের শেষে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে অপর প্রান্তে ছিলেন স্কট বোল্যান্ড। হেডের ব্যাটিং দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য শেষ দিনের লড়াইকে কিছুটা কঠিন করে তুলতে পারে। তাই বড় লিড থাকা সত্ত্বেও স্বাগতিকদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই।

দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের লক্ষ্য থাকবে দিনের শুরুতেই উইকেট তুলে নেওয়া। দ্রুত উইকেট পড়লে অস্ট্রেলিয়ার লেজের ব্যাটারদের উপর চাপ বাড়বে এবং ম্যাচের ফল নির্ধারণ করা সহজ হবে। কিন্তু হেড যদি দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকতে পারেন, তা হলে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বাঁচানোর জন্য আরও মরিয়া চেষ্টা করবে।

এই পরিস্থিতিতে জানসেনের ভূমিকা আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রথম ইনিংসে তাঁর পাঁচ উইকেট নেওয়ার অভিজ্ঞতা দক্ষিণ আফ্রিকাকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তবে শেষ দিনের পিচের অবস্থা, আবহাওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের প্রতিরোধের উপরও ম্যাচের গতিপথ নির্ভর করবে।

সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্য

তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১৪ রানে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ফলে দ্বিতীয় টেস্টে জয় স্বাগতিকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে জিততে পারলে সিরিজ ১-১ ব্যবধানে সমতায় ফিরবে দুই দল। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া যদি শেষ দিনের লড়াইয়ে ম্যাচ বাঁচাতে পারে, তা হলে সিরিজে এগিয়ে থাকার সুযোগ বজায় থাকবে তাদের। 

সেই কারণেই জানসেনের পারফরম্যান্স দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথম টেস্টে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দলের একাধিক খেলোয়াড়কে দায়িত্ব নিতে হত। বাভুমার বড় ইনিংস, জানসেনের ৮৫ রান, সাইমন হারমারের অবদান এবং বোলারদের সম্মিলিত সাফল্য প্রোটিয়াদের ম্যাচে এগিয়ে দিয়েছে।

এখন শেষ দিনের লড়াইয়ে সেই অগ্রগতি ধরে রাখাই প্রধান লক্ষ্য। ক্রিকেটে টেস্ট ম্যাচের শেষ দিনে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই যতক্ষণ না শেষ উইকেট পড়ছে, ততক্ষণ ম্যাচের ফল নিশ্চিত বলা যায় না।

জানসেনের কাছে দলের সাফল্যই বড় পরীক্ষা

একজন অলরাউন্ডারের সাফল্য কেবল ব্যাটিং বা বোলিংয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে সাহায্য করার ক্ষমতা, নিজের দায়িত্ব বুঝে খেলা এবং চাপের মুহূর্তে কার্যকর অবদান রাখাই তাঁর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে জানসেন এই তিনটি ক্ষেত্রেই নজর কেড়েছেন। ব্যাট হাতে বিপর্যয় সামলানো থেকে শুরু করে বল হাতে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেওয়া—দুই ক্ষেত্রেই তিনি দলের প্রয়োজনে এগিয়ে এসেছেন। শেষ দিনে তাঁর উপর আবারও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পড়তে পারে।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এই ম্যাচ শুধু একটি টেস্ট জয়ের লড়াই নয়, সিরিজে ফিরে আসারও সুযোগ। জানসেনের মতো অলরাউন্ডারের পারফরম্যান্স সেই লক্ষ্যে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে ক্রিকেটে শেষ কথা বলে মাঠের ফলাফলই। তাই প্রশংসার মাঝেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে শেষ দিনের প্রতিটি বলের জন্য সতর্ক থাকতে হবে।