Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
অভিনেতা জিতের বাড়িতে নবরাত্রি পুজোয় মাতারাণীর দর্শন, বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী   •   কোলাঘাটে ফুচকা খেয়ে শিশু-সহ শতাধিক অসুস্থ! পাঁশকুড়া হাসপাতালে ভর্তি, এক শিশুকে স্থানান্তর তমলুকে   •   সালমান খানই কি প্রথম লক্ষ্য ছিলেন? টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় নতুন মোড়, তদন্তে একাধিক প্রশ্ন   •   ব্রিটিশদের চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতীয় মল্লযোদ্ধার গর্জন! দ্য গ্রেট গামার অবিশ্বাস্য উত্থানের কাহিনি   •   মার্কো জানসেনকে ঘিরে প্রশংসার বন্যা, শেষ দিনে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা   •   মার্কো জানসেনের কাছে দলই সবার আগে, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে প্রোটিয়াদের জয়ই বড়

মার্কো জানসেনের কাছে দলই সবার আগে, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে প্রোটিয়াদের জয়ই বড়

22 Oct 2026
07:22 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  ক্রিকেটের মাঠে ব্যক্তিগত সাফল্য একজন খেলোয়াড়কে পরিচিতি এনে দেয়, কিন্তু দলের প্রয়োজনে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়াই একজন প্রকৃত ক্রিকেটারের পরিচয়। দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ অলরাউন্ডার মার্কো জানসেনের ক্রিকেটজীবনে এই মানসিকতার প্রতিফলন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বল হাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে আঘাত হানা, ব্যাট হাতে কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরা কিংবা ফিল্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা—সব ক্ষেত্রেই নিজের ভূমিকা দিয়ে দলকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন তিনি। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং কঠিন মুহূর্তে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকা—এই বৈশিষ্ট্যই তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করে তুলেছে।

২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চলতি টেস্ট সিরিজে জানসেনের পারফরম্যান্স তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতার আরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৮৫ রান করার পর বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই পারফরম্যান্স দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিশালী সুযোগ এনে দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনেও ব্যাট ও বল হাতে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উঠে এসেছে। 

দলের প্রয়োজনে এগিয়ে আসাই আসল পরিচয়

ক্রিকেটে একজন অলরাউন্ডারের গুরুত্ব অনেক সময় বোঝা যায় কঠিন পরিস্থিতিতে। যখন দলের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে, তখন ব্যাট হাতে ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নিতে হয়। আবার যখন প্রতিপক্ষের ব্যাটাররা বড় রান করার চেষ্টা করেন, তখন বল হাতে উইকেট তুলে নিয়ে চাপ তৈরি করতে হয়। মার্কো জানসেন এই দুই ক্ষেত্রেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল, তখন অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন জানসেন। তাঁর ৮৫ রানের ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। পরে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে দিতে তাঁর পাঁচ উইকেটের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

এই ধরনের পারফরম্যান্স দেখায়, দলের যখন যে ধরনের অবদান প্রয়োজন, জানসেন সেই ভূমিকা পালন করার সামর্থ্য রাখেন। তাঁর কাছে শুধু নিজের রান বা উইকেট বাড়ানো নয়, বরং ম্যাচে দলের অবস্থান শক্তিশালী করাটাই বড় বিষয়—এমন মূল্যায়ন তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স থেকে করা যায়।

বল হাতে আগ্রাসন, ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাস

বাঁহাতি পেসার হিসেবে জানসেনের উচ্চতা এবং বলের বাউন্স প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশে পিচ থেকে বাড়তি বাউন্স ও মুভমেন্ট আদায় করার ক্ষমতা তাঁকে বিশেষ সুবিধা দেয়। তবে তাঁর কার্যকারিতা শুধু পেস বোলিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। সঠিক লাইন-লেংথ বজায় রাখা, পরিস্থিতি বুঝে বোলিং করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর খেলায় গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাট হাতেও তাঁর দক্ষতা ক্রমশ পরিণত হচ্ছে। লোয়ার অর্ডারে নেমে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনে ইনিংস ধরে রাখার ক্ষমতা একজন অলরাউন্ডারের জন্য বিশেষ সম্পদ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৮৫ রানের ইনিংসটি সেই দক্ষতারই পরিচয় দিয়েছে। প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক গ্রেম স্মিথও জানসেনের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের উন্নতির প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে তাঁকে টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে দেখার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। 

নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতেও প্রস্তুত

দলের প্রতি দায়বদ্ধতা শুধু মাঠে রান বা উইকেট পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কঠিন পরিস্থিতিতে সতীর্থদের পাশে দাঁড়ানো, বোলিং ইউনিটকে সংগঠিত রাখা এবং চাপের মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাও একজন ক্রিকেটারের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে কাগিসো রাবাদা ও লুঙ্গি এনগিডির মতো অভিজ্ঞ পেসারদের অনুপস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং আক্রমণে বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন জানসেন। তিনি স্বীকার করেছিলেন, এই দুই অভিজ্ঞ বোলারের অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ক্ষতি, তবে একই সঙ্গে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ হিসেবেও বিষয়টিকে দেখছিলেন। 

এই মনোভাব তাঁর ক্রিকেটীয় পরিণত হওয়ার দিকটি তুলে ধরে। একজন তরুণ ক্রিকেটার যখন অভিজ্ঞ সতীর্থদের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত হন, তখন সেটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস নয়, দলের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতারও পরিচয় দেয়।

প্রোটিয়াদের জার্সির আবেগ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা প্রত্যেক ক্রিকেটারের কাছে বিশেষ সম্মানের। জানসেনের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সির গুরুত্ব তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিজের বিশেষ টান এবং প্রোটিয়াদের হয়ে খেলার আবেগের কথা বলেছেন। তাঁর কাছে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলার গুরুত্ব যে আলাদা, তা সেই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। 

এই আবেগ একজন ক্রিকেটারকে কঠিন সময়ে অনুপ্রাণিত করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ নয়। কখনও চোট, কখনও খারাপ ফর্ম, আবার কখনও প্রতিপক্ষের চাপ সামলে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে দলের প্রতি বিশ্বাস এবং নিজের ভূমিকা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যক্তিগত রেকর্ড নয়, ম্যাচের ফলই শেষ কথা

আধুনিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিচার করার ক্ষেত্রে রান, উইকেট, স্ট্রাইক রেট এবং গড়ের মতো পরিসংখ্যান বিশেষ গুরুত্ব পায়। কিন্তু সব সময় পরিসংখ্যান দিয়ে একজন খেলোয়াড়ের প্রকৃত অবদান বোঝা যায় না। কখনও ৩০ রানের একটি ইনিংস দলকে বিপর্যয় থেকে বাঁচায়, আবার কখনও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেওয়া একটি উইকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

জানসেনের মতো অলরাউন্ডারের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। তাঁর ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই ক্ষেত্রেই অবদান রাখার ক্ষমতা দলের ভারসাম্য বাড়ায়। একই ম্যাচে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং পরে বল হাতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার সুযোগ তাঁকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর পারফরম্যান্সের গুরুত্বও এখানেই। ব্যাট হাতে ৮৫ রান এবং বল হাতে পাঁচ উইকেট—দুটি অবদানই দলের পরিস্থিতি বদলাতে সাহায্য করেছে। এই ধরনের পারফরম্যান্স শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং দলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে জানসেনের গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর উপর প্রত্যাশাও বাড়বে। প্রতিপক্ষের দলগুলি তাঁর বোলিংয়ের বিরুদ্ধে আলাদা পরিকল্পনা করতে পারে, আবার ব্যাটিংয়ের সময় তাঁকে দ্রুত আউট করার চেষ্টা করবে। তাই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ফিটনেস ধরে রাখা এবং নিজের খেলায় নতুনত্ব আনা তাঁর ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে দলের চাহিদা অনুযায়ী নিজের ভূমিকা বদলানোর ক্ষমতাও তাঁকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। কখনও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, কখনও ধৈর্য ধরে উইকেটে থাকা, আবার কখনও বল হাতে দীর্ঘ স্পেল করা—এই বহুমুখী দায়িত্ব সামলানোর মধ্য দিয়েই একজন অলরাউন্ডার পরিণত হয়ে ওঠেন।