নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসব, ভক্তি ও মিলন। কিন্তু উৎসবের এই আনন্দের মধ্যেও যদি মানবসেবার অঙ্গীকার যুক্ত হয়, তবে তার তাৎপর্য আরও বেড়ে যায়। রক্তের অভাবে যেন কোনও মানুষের প্রাণ অকালে ঝরে না যায়—এই মানবিক বার্তাকে সামনে রেখে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরলেন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। আস্থা মামুদপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজোর শুভ পঞ্চমী উপলক্ষে তাঁর বার্তা, দুর্গাপুজো শুধু আনন্দ উদ্যাপনের নয়, মানুষের জীবন বাঁচানোর অঙ্গীকার গ্রহণেরও সময়।
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং রক্তদানে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রক্তদান হোক, জীবন বাঁচুক। তাঁর এই বার্তায় উৎসবের আবহে মানবিক দায়বদ্ধতা, সামাজিক সচেতনতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিভিন্ন এলাকায় নানা সামাজিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কোথাও স্বাস্থ্য পরীক্ষা, কোথাও বস্ত্র বিতরণ, আবার কোথাও রক্তদান শিবিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এই ধরনের উদ্যোগ উৎসবকে শুধু আনন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার বার্তাতেও সেই ভাবনাই প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি মানুষের জীবন রক্ষার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে যেসব রোগীর নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়, তাঁদের কথা মাথায় রেখে সমাজের আরও বেশি মানুষকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আস্থা মামুদপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজোর শুভ পঞ্চমীকে সামনে রেখে এই বার্তা স্থানীয় স্তরে মানবিক উদ্যোগের গুরুত্বকে আরও একবার মনে করিয়ে দেয়।
থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ। রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী অনেক থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে। তাঁদের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নিরাপদ রক্তের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তের প্রয়োজন কোনও উৎসব বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। রোগীর চিকিৎসার প্রয়োজনে বছরের বিভিন্ন সময়ে রক্তের জোগান দরকার হতে পারে। তাই শুধু বিশেষ দিনে নয়, সারা বছর ধরে স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
দেবাংশু পাণ্ডার বার্তায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর আহ্বান, রক্তদানের মাধ্যমে সমাজের মানুষ এমন রোগীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন, যাঁদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তের জোগান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার বার্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—রক্তের অভাবে যেন একটি প্রাণও অকালে ঝরে না যায়। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রক্তদানের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি।
দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন জটিলতা এবং বিভিন্ন গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসায় রক্তের প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় জরুরি মুহূর্তে উপযুক্ত রক্তের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং সংগঠিত রক্তদান কর্মসূচি এই সমস্যার মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে।
তবে রক্তদান করতে হবে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানে, নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং রক্তদাতার শারীরিক উপযুক্ততা যাচাই করে। সংগৃহীত রক্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা ও দায়িত্বশীল উদ্যোগের মাধ্যমে রক্তদানের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
দুর্গাপুজো মানুষের মধ্যে মিলন, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বার্তা বহন করে। পুজোর মণ্ডপে মানুষ যেমন আনন্দ ভাগ করে নেন, তেমনই এই সময়কে কাজে লাগিয়ে সামাজিক সমস্যার বিষয়েও সচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে।
রক্তদান সেই মানবিক কাজগুলির মধ্যে অন্যতম। একজন উপযুক্ত রক্তদাতার স্বেচ্ছায় রক্তদান চিকিৎসার প্রয়োজনে অন্য মানুষের কাজে লাগতে পারে। তাই রক্তদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং ভুল ধারণা দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
আস্থা মামুদপুর সর্বজনীন দুর্গাপুজোর শুভ পঞ্চমীতে দেবাংশু পাণ্ডার বার্তা সেই সচেতনতার দিকটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। উৎসবের আনন্দ যেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রেরণা হয়ে ওঠে, এই আহ্বানই তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে।
রক্তদান নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই রক্তদান সম্পর্কে দ্বিধায় থাকেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, রক্তদান করলে শরীরের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। বাস্তবে সুস্থ ও উপযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসাকর্মীদের নির্দেশ মেনে রক্তদান সাধারণত নিরাপদ। তবে প্রত্যেক রক্তদাতার স্বাস্থ্য ও যোগ্যতা যাচাই করা আবশ্যক।
স্কুল-কলেজ, ক্লাব, পুজো কমিটি এবং সামাজিক সংগঠনগুলি সচেতনতামূলক প্রচারের মাধ্যমে রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজন, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় রক্তের জোগান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিও জরুরি।
উৎসবের দিনগুলিতে এই ধরনের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে গেলে তা ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষকে মানবিক উদ্যোগে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতে পারে।
ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, দুর্গাপুজোর আনন্দের সঙ্গে মানুষের জীবন রক্ষার অঙ্গীকারও যুক্ত হওয়া উচিত। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং রক্তের অভাবে যাতে কোনও রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি।
“রক্তদান হোক, জীবন বাঁচুক”—এই বার্তাই তাঁর বক্তব্যের মূল কথা। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সমাজের প্রয়োজনের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে তোলাই এই আহ্বানের প্রধান উদ্দেশ্য।