Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
একাধিক দাবিতে জয়নগর-১ বিডিও অফিসে ডেপুটেশন, কুলপি রোড সংস্কার থেকে পানীয় জল ও ২০০ দিনের কাজের দাবি   •   পশ্চিম মেদিনীপুরে বাম দলগুলির এসপি অফিস অভিযান, পুলিশি ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ   •   সেবার রঙে, দেশের সঙ্গে—মানব আলপনায় জনসেবা ও জনকল্যাণের বার্তা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে   •   আমি একা থাকতেই পছন্দ করি’—নারী পরিবর্তন মেকার সামিটে সম্মানিত লেখক-পরিচালক পারমিতা মুন্সি   •   ‘দ্য ক্যালকাটা ফাইলস’-এর ট্রেলার লঞ্চে হাজির লাবণী সরকার, রজতাভ, স্বাগতা ও পরিচালক সৌভিক   •   কিডনি ঠিকমতো ম্যাগনেসিয়াম বের করতে না পারলে কেন বাড়ে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি

আমি একা থাকতেই পছন্দ করি’—নারী পরিবর্তন মেকার সামিটে সম্মানিত লেখক-পরিচালক পারমিতা মুন্সি

06 Oct 2026
10:37 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত লেখক ও পরিচালক পারমিতা মুন্সির মুকুটে যুক্ত হল আরও একটি সম্মান। নারী ক্ষমতায়ন, সৃজনশীলতা এবং সমাজে নারীর ভূমিকা নিয়ে আয়োজিত ‘Women Change Maker Summit’-এ বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন তিনি। অনুষ্ঠানে তাঁর সৃজনশীল কাজ এবং নিজস্ব পরিচয় তৈরির ক্ষেত্রে অবদানের কথা তুলে ধরা হয়।

লেখালেখি ও পরিচালনার পাশাপাশি নিজের চিন্তাভাবনা এবং জীবনযাপন নিয়ে বরাবরই স্পষ্টবাদী পারমিতা মুন্সি। অনুষ্ঠানের মঞ্চে ব্যক্তিগত জীবন ও নিজের পছন্দের প্রসঙ্গেও কথা বলতে দেখা যায় তাঁকে। সেখানেই তিনি বলেন, “আমি একা থাকতেই পছন্দ করি।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়।

পারমিতা মুন্সির কথায়, একজন নারীর জীবনের সাফল্যকে শুধুমাত্র প্রচলিত সামাজিক ধারণার মাধ্যমে বিচার করা উচিত নয়। নিজের পছন্দ, নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়াও একজন নারীর স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজের জীবনকে নিজের মতো করে বেছে নেওয়ার অধিকার প্রত্যেক মানুষেরই রয়েছে—এই ভাবনাই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

লেখক ও পরিচালক হিসেবে পারমিতা মুন্সির কাজের ক্ষেত্রও বৈচিত্র্যময়। গল্প বলা, চরিত্র নির্মাণ এবং নারীকেন্দ্রিক ভাবনাকে পর্দায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে সমাজের নানা বাস্তবতা এবং মানুষের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

‘Women Change Maker Summit’-এ তাঁকে সম্মানিত করার পিছনেও তাঁর সৃজনশীল কর্মকাণ্ড এবং নারীর নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলার ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের মঞ্চে সম্মান গ্রহণের সময় পারমিতা মুন্সি জানান, এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, ভবিষ্যতে আরও কাজ করার অনুপ্রেরণাও।

বর্তমান সময়ে নারীর স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার বিষয়গুলি সামাজিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দকেও সম্মান করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। পারমিতা মুন্সির বক্তব্য সেই বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায়।

“আমি একা থাকতেই পছন্দ করি”—এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, একা থাকা মানেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নয়; বরং নিজের সময়, নিজের চিন্তা এবং নিজের কাজকে নিজের মতো করে গুরুত্ব দেওয়ারও সুযোগ হতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যের চাপের পরিবর্তে নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

সম্মাননা পাওয়ার পর পারমিতা মুন্সিকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত একজন সৃজনশীল মানুষ হিসেবে তাঁর এই স্বীকৃতি আগামী দিনে নতুন কাজের ক্ষেত্রে আরও উৎসাহ জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নারী পরিবর্তনকারী হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল ও প্রভাবশালী নারীদের কাজ এবং তাঁদের অবদান নিয়েও আলোচনা হয়। সমাজের প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যারা নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন, তাঁদের সম্মান জানানোর উদ্যোগ হিসেবেই এই সামিটের গুরুত্ব রয়েছে।

পারমিতা মুন্সির ক্ষেত্রে লেখালেখি ও চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি নিজের জীবন ও কাজ সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট অবস্থানও তাঁকে আলাদা করে তুলে ধরে। নতুন প্রজন্মের নারীদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—নিজের পরিচয় তৈরি করতে হলে নিজের সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখা এবং নিজের কাজকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

নারী পরিবর্তন মেকার সামিটে সম্মান পাওয়ার পর পারমিতা মুন্সির সামনে এখন আরও নতুন কাজের প্রত্যাশা। তাঁর সৃজনশীল যাত্রায় এই সম্মান কতটা নতুন মাত্রা যোগ করে, সেটাই দেখার। তবে অনুষ্ঠানের মঞ্চে তাঁর বক্তব্য এবং নিজের জীবন সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান ইতিমধ্যেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

লেখক, পরিচালক এবং একজন স্বাধীনচেতা সৃজনশীল মানুষ হিসেবে পারমিতা মুন্সির এই স্বীকৃতি তাই শুধু একটি পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্ত নয়; নিজের পরিচয় ও নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও বহন করছে।