Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
একাধিক দাবিতে জয়নগর-১ বিডিও অফিসে ডেপুটেশন, কুলপি রোড সংস্কার থেকে পানীয় জল ও ২০০ দিনের কাজের দাবি   •   পশ্চিম মেদিনীপুরে বাম দলগুলির এসপি অফিস অভিযান, পুলিশি ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ   •   সেবার রঙে, দেশের সঙ্গে—মানব আলপনায় জনসেবা ও জনকল্যাণের বার্তা নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে   •   আমি একা থাকতেই পছন্দ করি’—নারী পরিবর্তন মেকার সামিটে সম্মানিত লেখক-পরিচালক পারমিতা মুন্সি   •   ‘দ্য ক্যালকাটা ফাইলস’-এর ট্রেলার লঞ্চে হাজির লাবণী সরকার, রজতাভ, স্বাগতা ও পরিচালক সৌভিক   •   কিডনি ঠিকমতো ম্যাগনেসিয়াম বের করতে না পারলে কেন বাড়ে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি

কিডনি ঠিকমতো ম্যাগনেসিয়াম বের করতে না পারলে কেন বাড়ে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি

06 Oct 2026
09:56 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ম্যাগনেসিয়াম শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম, হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দ, হাড়ের স্বাস্থ্য এবং শরীরের বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় এর ভূমিকা রয়েছে। সাধারণত খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়াম শরীরের বাইরে বের করে দেওয়ার ক্ষেত্রে কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়াকে হাইপারম্যাগনেসেমিয়া বলা হয়। এটি তুলনামূলকভাবে বিরল একটি সমস্যা হলেও কিডনির কার্যক্ষমতা গুরুতরভাবে কমে গেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে কিডনি পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করতে না পারলে শরীরে এই খনিজ জমতে শুরু করতে পারে।

সুস্থ অবস্থায় কিডনি রক্ত পরিশোধনের সময় অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাগনেসিয়ামের একটি অংশ ধরে রাখা হয় এবং অতিরিক্ত অংশ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে এই ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। তখন অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়াম শরীরে জমে রক্তে এর মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে শুধু খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করলেই সাধারণত সুস্থ কিডনির ক্ষেত্রে বিষক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি নয়। ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা দিতে পারে যখন কেউ ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত সাপ্লিমেন্ট বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ অতিরিক্ত গ্রহণ করেন এবং একই সঙ্গে কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকে।

ম্যাগনেসিয়াম কিছু অ্যান্টাসিড ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধেও থাকতে পারে। এসব পণ্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করলে কিডনির সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কোনও পণ্যে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে কি না, তা ব্যবহারের আগে তার উপাদান তালিকা দেখে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা, তন্দ্রাভাব বা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। মাত্রা আরও বেড়ে গেলে পেশির দুর্বলতা, শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা, হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দে পরিবর্তন এবং চেতনা কমে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

অত্যন্ত বেশি মাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম শরীরের স্নায়ু ও পেশির কার্যক্রমকে দমন করতে পারে। এর ফলে রিফ্লেক্স কমে যাওয়া, গুরুতর দুর্বলতা, শ্বাসযন্ত্রের কার্যক্ষমতা হ্রাস এবং হৃদ্‌যন্ত্রের গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির রোগ থাকা ব্যক্তিদের যেকোনও ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কিডনি রোগে শরীর বিভিন্ন খনিজ ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে নাও পারে। কোনও নির্দিষ্ট সাপ্লিমেন্ট একজন সুস্থ ব্যক্তির জন্য নিরাপদ হলেও কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য একই মাত্রা উপযুক্ত নাও হতে পারে।

এক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ম্যাগনেসিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও বেশি মানেই বেশি উপকার নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে কিডনির কার্যক্ষমতা কম, বয়স্ক ব্যক্তি বা একাধিক ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা দরকার।

যদি কেউ ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত সাপ্লিমেন্ট, অ্যান্টাসিড বা কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ ব্যবহার করেন এবং একই সঙ্গে কিডনির রোগে আক্রান্ত হন, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে ম্যাগনেসিয়াম, কিডনির কার্যক্ষমতা এবং অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা পরীক্ষা করা যেতে পারে।

হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বলতা, প্রচণ্ড তন্দ্রাভাব, শ্বাসকষ্ট, হৃদস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা গুরুতর মাথা ঘোরা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এগুলি শুধু ম্যাগনেসিয়াম অতিরিক্ত হওয়ার কারণেই হবে এমন নয়, তবে গুরুতর ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ম্যাগনেসিয়াম শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কিডনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিডনি পর্যাপ্তভাবে অতিরিক্ত ম্যাগনেসিয়াম বের করতে না পারলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত ওষুধ ব্যবহারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিজের ইচ্ছায় উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট না গ্রহণ করাই নিরাপদ পদ্ধতি।