নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বারুইপুর পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এবার প্রশাসনের কাছে প্রমাণ জমা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল বারুইপুর পশ্চিমের বিজেপি নেতৃত্ব। গত সোমবার পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তারই পাল্টা জবাব দিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপির বারুইপুর পশ্চিম ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তথা আইনজীবী গৌতম চক্রবর্তী।
গৌতম চক্রবর্তীর দাবি, পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সেই সমস্ত তথ্য-প্রমাণ প্রশাসনের কাছে তুলে দেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুরসভার নাগরিকরা বিভিন্ন পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এর আগে সোমবার বারুইপুর পুরসভার ১৭ জন তৃণমূল কাউন্সিলর সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পুরসভার কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের কাজে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
এই অভিযোগের পাল্টা জবাবে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, যদি কাউন্সিলরদের হেনস্থা করা হয়ে থাকে কিংবা পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রমাণ কোথায়? তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
গৌতম চক্রবর্তী আরও দাবি করেন, বিজেপির কর্মীদের লাগাতার আন্দোলন ও চাপের কারণেই পুরসভার নাগরিকরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির কর্মীরা প্রতিদিন পুরসভায় গিয়ে সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন।
তবে বিজেপির এই অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। পুরসভা পরিচালনা, নাগরিক পরিষেবা এবং কাউন্সিলরদের ভূমিকা নিয়ে দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, শুধুমাত্র সাংবাদিক বৈঠকে অভিযোগ তুলে থেমে থাকবেন না তাঁরা। কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে, তার প্রমাণ প্রশাসনের কাছে তুলে দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানানো হবে।
অন্যদিকে, অভিযোগগুলির বিষয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরদের বক্তব্য এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।