নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: জন্মদিন মানেই আনন্দ-উৎসব। তবে নিজের বিশেষ দিনটিকে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর কাজে উৎসর্গ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন অভিনেত্রী পায়েল সরকার অর্গানাইজেশন প্রাইভেট লিমিটেডের অন্যতম ডিরেক্টর পায়েল মিঠাই সরকার। জন্মদিন উপলক্ষে দক্ষিণ কলকাতার সোনারপুরে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘সোনার তরী অনন্য সম্মান ২০২৬’। আর এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠল পায়েল মিঠাই সরকারের মানবিক উদ্যোগ।
নিজের জন্মদিনের আনন্দকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা দুঃস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন পায়েল। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য তাঁদের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
শুধু চিকিৎসার ক্ষেত্রেই নয়, দুঃস্থ ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ করে তুলতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন স্কুল ব্যাগ, খাতা-কলম-সহ বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী। পাশাপাশি পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য আর্থিক সাহায্যও প্রদান করা হয়।
এই মানবিক উদ্যোগের মধ্যেই নিজের জন্মদিনের দিনটি কাটান পায়েল মিঠাই সরকার। দুঃস্থ শিশু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তাঁদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হন তিনি। জন্মদিনের মতো বিশেষ একটি দিনকে সমাজের প্রয়োজনমতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে ব্যবহার করে কার্যত একটি ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরেন পায়েল।
অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুর বিধানসভার বিধায়িকা শর্বরী মুখার্জি এবং সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক দেবাশীষ ধর। তাঁদের হাত দিয়েই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু এবং দুঃস্থ শিশুদের পরিবারের হাতে সাহায্য ও শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পায়েল মিঠাই সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা। সমাজের আরও বিত্তবান ও সক্ষম মানুষকে এই ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানানো হয়।
এই বিশেষ উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ‘সোনার তরী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’। ট্রাস্টের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, শুধুমাত্র জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপনের পরিবর্তে সমাজের প্রয়োজনমতো মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জন্মদিন পালন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।
পায়েল মিঠাই সরকারের বক্তব্য, প্রতিবছর নিজের জন্মদিনে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য পাশে দাঁড়াবেন তিনি। শুধু একবারের উদ্যোগ নয়, আগামী দিনেও এই মানবিক কর্মকাণ্ডকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর অঙ্গীকার।
‘সোনার তরী অনন্য সম্মান ২০২৬’-এর মঞ্চ তাই শুধু সম্মাননা বা জন্মদিন উদযাপনের মঞ্চ হয়ে থাকেনি। এই মঞ্চ থেকেই উঠে এসেছে মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা—নিজের আনন্দকে অন্যের জীবনের আশার আলোয় পরিণত করাই হতে পারে জন্মদিন উদযাপনের সবচেয়ে সুন্দর উপায়।