Home জেলার চালচিত্র পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা চাষী ভাই বলছি জেলার সেনাপতি শরীর স্বাস্থ্য ফ্যাক্ট ফাইল সম্পাদকিয় কলম

পুকুরেই এবার ইলিশ চাষ! কাকদ্বীপে শুরু বাংলার যুগান্তকারী গবেষণা

29 Jun 2026
09:26 AM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - বাঙালির পাতে ইলিশ মানেই আবেগ, ঐতিহ্য আর স্বাদের অনন্য মেলবন্ধন। এতদিন সমুদ্র ও নদীর মাছ হিসেবেই পরিচিত ছিল ‘মাছের রাজা’ ইলিশ। এবার সেই ইলিশই চাষ হতে চলেছে বাংলার পুকুরে! দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে শুরু হয়েছে ইলিশ চাষ নিয়ে এক যুগান্তকারী গবেষণা, যা সফল হলে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত পুকুরেও ইলিশ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

কাকদ্বীপের ‘সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ ব্র্যাকিশওয়াটার অ্যাকুয়াকালচার’ (ICAR-CIBA)-এ বর্তমানে ইলিশ চাষ বিষয়ক গবেষণার ষষ্ঠ তথা চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে। গত দুদিন আগে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি জলাশয়ে ইলিশের পোনা ছাড়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, ICAR-CIBA-র অধিকর্তা ড. কুলদীপ কে. লাল এবং গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী ড. দেবাশিস দে।

গবেষকদের দাবি, এই পর্যায় সফল হলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে ইলিশ চাষের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। বর্তমানে কিছু জায়গায় সীমিতভাবে ইলিশ চাষ হলেও তা পুরোপুরি সফল নয়। মূল চ্যালেঞ্জ হল ডিম থেকে সফলভাবে পোনা ফোটানো এবং উপযুক্ত পরিবেশে তাদের বড় করে তোলা।

এই গবেষণার জন্য প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক ‘স্যালিনিটি গ্রেডিয়েন্ট রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম’ (RAS) তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে জলের লবণাক্ততা, তাপমাত্রা, দূষণ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে ইলিশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রধান বিজ্ঞানী ড. দেবাশিস দে জানান, গত এক দশক ধরে ধাপে ধাপে গবেষণা চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৯৮২ গ্রাম এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে পুকুরে ইলিশ চাষ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত সাফল্য আসবে তখনই, যখন ডিম থেকে পোনা উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হবে।

বিশ্বের ১১টি দেশে ইলিশ পাওয়া গেলেও মোট উৎপাদনের প্রায় ৮৬ শতাংশ আসে বাংলাদেশ থেকে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও ইলিশ সংরক্ষণে ছোট ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। সেই আবহেই বাংলায় পুকুরে ইলিশ চাষের এই উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছে মৎস্যজীবী ও গবেষক মহলকে।