নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম্’ গানের পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনের পরিবর্তে কেবল দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে তিনি ‘দেশবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, এর পিছনে ভোটব্যাঙ্ক ও তোষণের রাজনীতি কাজ করছে।
অমিত শাহের দাবি, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ‘বন্দে মাতরম্’-এর দুটি অংশকে আলাদা করে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, সেই সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দেশের বিভাজনমূলক রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং পরবর্তীকালে দেশভাগের পথ প্রশস্ত হয়। এই ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক মহলে মতপার্থক্য রয়েছে।
চলতি বছর ‘বন্দে মাতরম্’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবার লালকেল্লার প্রাঙ্গণ থেকে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
অমিত শাহ অভিযোগ করেন, ‘বন্দে মাতরম্’-এর পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনের সরকারি উদ্যোগের বিরোধিতা করে কংগ্রেস ফের তোষণের রাজনীতির পথ বেছে নিয়েছে। তাঁর দাবি, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় অসংখ্য দেশপ্রেমিক ও বিপ্লবীর কাছে এই গান ছিল অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাই গানটির পূর্ণাঙ্গ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে।
কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দলীয় অনুষ্ঠানে দুটি স্তবক গাওয়ার প্রথা চলে আসছে এবং বিষয়টি নিয়ে বিজেপি রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে।
‘বন্দে মাতরম্’কে ঘিরে অমিত শাহের মন্তব্যের পর বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে। জাতীয় গান, ইতিহাস এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তরাধিকার নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক মাত্রা পেতে পারে।