নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক- সুন্দরবনের উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের মোকাবিলায় পরিবেশ রক্ষার এক অনন্য বার্তা দিলেন গঙ্গাসাগরের সাউ ঘেরী এলাকার গ্রামীণ মহিলারা। বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে স্থানীয় ‘সবুজ সংঘ’-এর উদ্যোগে সাউ ঘেরী নদীর চরে ব্যাপক ম্যানগ্রোভ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে এলাকার মহিলারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বর্ষাকালে জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ফলে উপকূলবর্তী এলাকার মানুষকে প্রায়ই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। সেই সংকট মোকাবিলায় প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে ম্যানগ্রোভ অরণ্যের গুরুত্ব উপলব্ধি করেই স্থানীয় মহিলারা গাছ লাগানোর কাজে এগিয়ে আসেন। তাঁদের এই উদ্যোগ শুধু নদীবাঁধ ও বসতি রক্ষার লক্ষ্যে নয়, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শুধু ম্যানগ্রোভ রোপণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি দিনব্যাপী কর্মসূচি। ধবলাট লক্ষণ পরিবেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, গ্রামবাসী এবং স্থানীয় মহিলাদের অংশগ্রহণে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়।
এদিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতা র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি এলাকার বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে পরিবেশ রক্ষা ও ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। ছাত্রছাত্রীদের হাতে ছিল সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড, আর পরিবেশ রক্ষার নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। বিশেষভাবে নজর কাড়ে এলাকার মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
র্যালি শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তারা সুন্দরবনের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনার পর কেক কেটে আনন্দঘন পরিবেশে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, সুন্দরবনের মতো উপকূলবর্তী অঞ্চলে নদীবাঁধ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের বিকল্প নেই। তাই এই ধরনের জনসম্পৃক্ত উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এ বছর সুন্দরবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক—সাগর, নামখানা, পাথরপ্রতিমা এবং মথুরাপুর-২—জুড়ে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস পালন করা হয়। প্রতিটি কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্থানীয় মহিলারা। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ‘সবুজ সংঘ’-এর এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জনসচেতনতা এবং মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি।