জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবি গ্রেফতার, ডায়মন্ড হারবার আদালতে পেশ

20 Jun 2026
06:40 PM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানার জুলপিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হল জাহাঙ্গির খানের স্ত্রী রেজিনা বিবিকে। শুক্রবার গভীর রাতে বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করে পুলিশ। শনিবার সকালে তাকে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিনা বিবির বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইন সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় সংঘটিত একাধিক অশান্তি ও সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, বেআইনি জমায়েত সংগঠিত করা, পুলিশকে আক্রমণ, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নির্দিষ্ট একটি ঘটনার পর থেকেই রেজিনা বিবি আত্মগোপন করে ছিলেন। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিষ্ণুপুরের জুলপিয়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারের সময় এলাকায় সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ বাহিনী।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে একটি বৃহত্তর চক্র জড়িত থাকতে পারে। সেই কারণেই গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

শনিবার ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে রেজিনা বিবিকে তোলা হলে সরকারি কৌঁসুলি তার পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানান। তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে আদালতে দাবি করা হয়। অন্যদিকে অভিযুক্তের আইনজীবী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে খবর, মামলার নথি খতিয়ে দেখে বিচারক পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জেলার রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে পুলিশ দাবি করছে আইন অনুযায়ীই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, অভিযুক্তদের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং ঘটনার পেছনে বড় কোনও পরিকল্পনা ছিল কিনা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ।