Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
বিশ্বের দরবারে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করল কুলপির মেয়ে নসিফা খাতুন, অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সে ৪০০ মিটারে স্বর্ণপদক   •   ৩৫০ বছরের ঐতিহ্য অটুট, সাড়ম্বরে পালিত হল বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির ঐতিহাসিক রথযাত্রা   •   মাহেশের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় যোগ কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের, বিগ্রহে প্রণাম করে টানলেন রথের রশি   •   বাংলায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ, বাঁকুড়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন কারখানার উদ্বোধন আগামীকাল   •   হাসনাবাদে খারিজি মাদ্রাসার আড়ালে বিদেশ থেকে কয়েক কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ, তৃণমূল নেতা আব্দুল্লা গাজির বাড়িতে উত্তরপ্রদেশ ATS-এর হানা   •   মাহেশের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিগ্রহে প্রণাম করে টানলেন রথের রশি

বিশ্বের দরবারে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করল কুলপির মেয়ে নসিফা খাতুন, অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সে ৪০০ মিটারে স্বর্ণপদক

16 Jul 2026
07:19 PM

 


 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক- দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লকের বেলপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙাফলা গ্রামের মেয়ে নসিফা খাতুন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করলেন। চীনে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জিতে দেশের পাশাপাশি নিজের জেলা ও গ্রামের নামও বিশ্বের দরবারে তুলে ধরলেন তিনি।

স্বর্ণপদক জয়ের পর দেশে ফিরতেই কুলপির রাঙাফলা গ্রামে নেমে আসে উৎসবের আবহ। নসিফাকে একবার দেখার জন্য ভিড় করেন এলাকার মানুষ। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, ক্রীড়াপ্রেমী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানান। পাশাপাশি তাঁর ভবিষ্যৎ ক্রীড়া জীবনের জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া নসিফার ক্রীড়া জীবনের শুরু হয় গ্রামের কাঁচা রাস্তায় অনুশীলনের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন তাঁকে আজ আন্তর্জাতিক সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।

নসিফার শিক্ষাজীবনের সূচনা কাকদ্বীপ বামানগর হাইস্কুলে। পরে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশের জন্য করঞ্জলী কালিকা গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকেই অ্যাথলেটিক্সে তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে গাজীরমহল জি.সি. হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে উত্তর ২৪ পরগনার অ্যাডামাস কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি কলকাতার একটি অ্যাথলেটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান। পরে দক্ষ কোচের তত্ত্বাবধানে বেঙ্গালুরুর একটি ক্রীড়া ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।

নসিফার বাবা শফিউল্লা জমাদার একজন ক্ষুদ্র কৃষক। একসময় তিনি কাবাডি খেলায়ও দক্ষ ছিলেন। মা সিদ্দিকা খাতুন বর্তমানে এলাকার আশা কর্মী। তিনিও ছাত্রজীবনে হাইজাম্প, লংজাম্প এবং দৌড় প্রতিযোগিতায় একাধিক পদক জিতেছিলেন। নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন মেয়ের মাধ্যমে পূরণ করার লক্ষ্যেই ছোটবেলা থেকে নসিফাকে খেলাধুলায় উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে স্বর্ণপদক জয়ের মধ্য দিয়ে।

পরিবারে তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নসিফা অন্যতম। বড় বোন তাবাসসুম জাহানারা স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, দ্বিতীয় বোন সোনিয়া শাহানা আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন এবং ছোট ভাই সাকিবাল পাঠান জমাদার বর্তমানে গাজীরমহল জি.সি. হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

নসিফার এই ঐতিহাসিক সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি কুলপি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের গর্ব। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে, সুযোগ, অধ্যবসায় ও পরিবারের সমর্থন থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের সন্তানও আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের পতাকা উড়িয়ে বিশ্বজয় করতে পারে।

নসিফা খাতুনের এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

news home ads