Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
দুর্গাপুরে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ সুকান্ত-গিরিরাজের, তৃণমূল ও সিপিএমকে একযোগে নিশানা   •   মাদকের বিরুদ্ধে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশেষ অভিযান, গ্রেফতার ১৪   •   টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মহম্মদ শামি, ১৩ বছরের বর্ণময় যাত্রায় ইতি   •   মানবসেবায় নজির গড়ল তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাব! বস্ত্রদান ও রক্তদান শিবিরে ১১০ জনের স্বেচ্ছায় রক্তদান   •   আসল দুধের নামে বিষাক্ত ভেজালের কারবার! কালিতলা-আশুতি থেকে ৩৪টি জার-সহ গ্রেফতার ৩, পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা   •   কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের! কিষান সম্মান নিধির পাশাপাশি মিলবে অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা, ধান চাষিদের জন্যও বিশেষ সুবিধা

মানবসেবায় নজির গড়ল তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাব! বস্ত্রদান ও রক্তদান শিবিরে ১১০ জনের স্বেচ্ছায় রক্তদান

07 Nov 2026
01:20 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: শুধু উৎসবের আয়োজন কিংবা আলোর রোশনাই নয়, সারা বছর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে উদ্যোগী তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাব। মানবিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে সামনে রেখে ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত হল বস্ত্রদান ও স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। এই কর্মসূচিতে ১১০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন। পাশাপাশি অসহায় ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় বস্ত্র। ক্লাবের এই উদ্যোগে ফুটে উঠেছে, সামাজিক দায়িত্ব পালনে তাদের অঙ্গীকার।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ক্লাবের উদ্যোগে সারা বছর নানা সামাজিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাবের এই আয়োজনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। উৎসবের আনন্দকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দিয়েছে তারা। ক্লাব কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রক্তদান এবং বস্ত্রদানের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়কে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রক্তদানে ১১০ জনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

শিবিরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি। সেখানে মোট ১১০ জন রক্তদাতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে রক্তদান করেন। রক্তের প্রয়োজন যে কোনও সময় দেখা দিতে পারে। দুর্ঘটনা, অস্ত্রোপচার, প্রসূতি চিকিৎসা কিংবা বিভিন্ন জটিল অসুস্থতার ক্ষেত্রে অনেক রোগীর জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন হয়। সেই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই এই ধরনের রক্তদান শিবিরের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তদান শুধু একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, এটি মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতারও প্রকাশ। একজন সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় দেওয়া রক্ত অন্য একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে। তাই রক্তদানের মাধ্যমে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের যে বার্তা তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাব তুলে ধরেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

১১০ জনের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ শিবিরের সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রক্তদাতাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা গেলে মানবিক কাজে অনেকেই এগিয়ে আসেন।

বস্ত্রদানের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে

রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি বস্ত্রদান কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়। সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল এবং প্রয়োজনীয় মানুষের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে যাঁদের পক্ষে নিজেদের প্রয়োজনীয় পোশাক কেনা কঠিন, তাঁদের কাছে এই ধরনের উদ্যোগ কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেয়।

বস্ত্রদান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ক্লাবের সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা তুলে ধরেছেন—সমাজের আনন্দ ও উৎসব তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দের ভাগীদার হন প্রান্তিক ও অসহায় মানুষও। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবসময় বড় কোনও আয়োজনের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন আন্তরিকতা এবং সাহায্যের মানসিকতা।

শুধু উৎসব নয়, সারা বছর সমাজসেবার অঙ্গীকার

কোনও ক্লাবের পরিচয় শুধু তাদের পুজো, উৎসব কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, সামাজিক দায়িত্ব পালন এবং বিপদের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়েও একটি ক্লাবের প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয়। তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাবের এই কর্মসূচি সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।

বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে উৎসবের আয়োজনের বাইরে গিয়ে সারা বছর মানুষের পাশে থাকার যে ভাবনা, তা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তদান শিবির, বস্ত্রদান কিংবা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ক্লাবগুলি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকেও সমাজসেবার কাজে যুক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে পারে।

তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাবের এই উদ্যোগ সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। ১১০ জনের স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং অসহায় মানুষের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়ার কর্মসূচি সমাজের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।

মানবিকতার বার্তাই হয়ে উঠুক আগামী দিনের প্রেরণা

সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মানসিকতা যত বাড়বে, ততই শক্তিশালী হবে সামাজিক বন্ধন। তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাবের মতো সংগঠনগুলি যদি নিয়মিতভাবে এই ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যায়, তাহলে আরও বেশি মানুষ সমাজসেবায় উৎসাহিত হবেন। বিশেষ করে রক্তদানের মতো জীবনদায়ী উদ্যোগে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

সব মিলিয়ে, তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাবের বস্ত্রদান ও রক্তদান শিবির শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়, বরং মানবিকতার এক সুন্দর বার্তা। ১১০ জনের স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আরও একবার মনে করিয়ে দিল—উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই। শুধু উৎসবের সময় নয়, সারা বছর মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়েই সমাজসেবার পথে এগিয়ে চলার বার্তা দিল তিলোত্তমা বয়েজ ক্লাব।