Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
উদ্ধার হচ্ছে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা, প্রশ্নের মুখে দুর্নীতির অভিযোগ: সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অর্থ কোথায় গেল?   •   কয়লা খনির বিস্ফোরণে কি ঘরবাড়িই মৃত্যুফাঁদ? ছাদ ভেঙে মহিলার মাথায় আছড়ে পড়ল পাথর, বিক্ষোভে স্তব্ধ বনজেমারি ওসিপি   •   আইসিসি উইমেনস ইমার্জিং নেশন্স ট্রফির প্রস্তুতিতে শ্রীলঙ্কা, দলের নেতৃত্বে নতুন মুখ হর্ষিতা সমরবিক্রমা   •   ছটপুজোর আগে দক্ষিণ কলকাতায় প্রায় ৫০টি ঘাট তৈরির উদ্যোগ, যোধপুর পার্কে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল   •   খড়গপুরে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ধুলোর ঘূর্ণি! মুহূর্তে আকাশে উঠে গেল   •   ভাঙা কাঁধের হাড়ের চিকিৎসার আশায় বাংলাদেশ থেকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে দম্পতি

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? লবণ, ফাস্ট ফুড থেকে বাড়তি চিনি—সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

04 Nov 2026
12:18 PM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার বর্তমানে বহু মানুষের পরিচিত স্বাস্থ্যসমস্যা। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এই সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা কিছু উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাঁদের শুধু নিয়মিত ওষুধ খেলেই চলবে না, পাশাপাশি খাবারের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, বাড়তি চিনি এবং অ্যালকোহল উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যেও এই উপাদানগুলির পরিমাণ অনেক সময় বেশি থাকে। ফলে নিয়মিত এই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

১. অতিরিক্ত লবণ: রক্তচাপ বাড়ার অন্যতম কারণ

উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হয় লবণ খাওয়ার বিষয়ে। লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরে অতিরিক্ত জল ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে রক্তের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে রক্তনালির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই খাবারে বাড়তি লবণ দেওয়া কমানোর পাশাপাশি চিপস, চানাচুর, নোনতা বিস্কুট, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, আচার এবং অতিরিক্ত নোনতা খাবার খাওয়ার অভ্যাসও কমানো প্রয়োজন। অনেক সময় খাবারের স্বাদে লবণ কম মনে হলেও প্রক্রিয়াজাত খাবারে লুকিয়ে থাকা সোডিয়ামের পরিমাণ যথেষ্ট বেশি হতে পারে।

২. ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে সতর্কতা

বার্গার, পিৎজা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত খাবার এবং বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুডে সাধারণত সোডিয়াম, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। নিয়মিত এই খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে প্যাকেটজাত স্যুপ, সস, প্রক্রিয়াজাত মাংস, সসেজ, সালামি এবং রেডিমেড খাবার কেনার আগে প্যাকেটের পুষ্টিগুণের তালিকা দেখে নেওয়া জরুরি। সোডিয়াম বা লবণের পরিমাণ বেশি থাকলে সেই খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

৩. স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার কমান

উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতেও খাবারে ফ্যাটের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। এর ফলে ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং হৃদ্‌রোগের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

ঘি, মাখন, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং কিছু দুগ্ধজাত খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। তাই এই ধরনের খাবার নিয়মিত বা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার বদলে পরিমিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। রান্নায় তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

৪. বাড়তি চিনি ও মিষ্টি পানীয়ের অভ্যাস ছাড়ুন

অনেকেই মনে করেন, চিনি শুধু ডায়াবেটিসের সমস্যা বাড়ায়। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় সমস্যার সঙ্গে যুক্ত, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মিষ্টি, কেক, পেস্ট্রি, চকোলেট, আইসক্রিম, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত ফলের রস এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস কমানো দরকার। বিশেষ করে চিনিযুক্ত ঠান্ডা পানীয় নিয়মিত পান করলে অজান্তেই শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি প্রবেশ করে। এর ফলে ওজন বাড়তে পারে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হতে পারে।

৫. অ্যালকোহল গ্রহণেও প্রয়োজন সতর্কতা

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান রক্তচাপ বাড়াতে পারে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণ করলে হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কঠোরভাবে সীমিত করা উচিত।

৬. তাহলে কী ধরনের খাবার রাখা যেতে পারে?

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু কিছু খাবার বাদ দিলেই হবে না, বরং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবারও রাখতে হবে। তাজা শাকসবজি, মরসুমি ফল, ডাল, বিনস, বাদাম, সম্পূর্ণ শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

কলা, পেয়ারা, পেঁপে, কমলালেবু, পালং শাক, অন্যান্য সবুজ শাকসবজি এবং ডালজাতীয় খাবারে পটাশিয়াম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের প্রভাব সামলাতে সাহায্য করতে পারে। তবে যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে বা যাঁদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার বা সাপ্লিমেন্টের পরিমাণ বাড়ানো উচিত নয়।

৭. খাবারের পাশাপাশি জীবনযাপনেও পরিবর্তন জরুরি

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন পর্যাপ্ত হাঁটাহাঁটি বা শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন। ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত রক্তচাপ মাপার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য DASH ধরনের খাদ্যাভ্যাস উপকারী হতে পারে। এই খাদ্যপদ্ধতিতে ফল, শাকসবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোডিয়াম, অতিরিক্ত চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

সচেতনতাই সুস্থ থাকার প্রথম পদক্ষেপ

উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করা ঠিক নয়। অনেক সময় কোনও স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে। অথচ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকা থেকে অতিরিক্ত লবণ, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, বাড়তি চিনি ও অ্যালকোহল কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু খাদ্যাভ্যাস বদলালেই সব ক্ষেত্রে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।