Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
উদ্ধার হচ্ছে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা, প্রশ্নের মুখে দুর্নীতির অভিযোগ: সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অর্থ কোথায় গেল?   •   কয়লা খনির বিস্ফোরণে কি ঘরবাড়িই মৃত্যুফাঁদ? ছাদ ভেঙে মহিলার মাথায় আছড়ে পড়ল পাথর, বিক্ষোভে স্তব্ধ বনজেমারি ওসিপি   •   আইসিসি উইমেনস ইমার্জিং নেশন্স ট্রফির প্রস্তুতিতে শ্রীলঙ্কা, দলের নেতৃত্বে নতুন মুখ হর্ষিতা সমরবিক্রমা   •   ছটপুজোর আগে দক্ষিণ কলকাতায় প্রায় ৫০টি ঘাট তৈরির উদ্যোগ, যোধপুর পার্কে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল   •   খড়গপুরে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ধুলোর ঘূর্ণি! মুহূর্তে আকাশে উঠে গেল   •   ভাঙা কাঁধের হাড়ের চিকিৎসার আশায় বাংলাদেশ থেকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে দম্পতি

সুমিত রায়কে জেরা করতেই কোটি টাকার হদিশ! সরিষার তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা

04 Nov 2026
12:13 PM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পুলিশ হেফাজতে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সরিষায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হল ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা নগদ। বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। বিশেষ করে মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে পরিচিত ওই দলীয় কার্যালয় থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ উদ্ধারের ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরে সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তকারীরা সরিষার ওই তৃণমূল দলীয় কার্যালয়ের সন্ধান পান বলে জানা যাচ্ছে। এরপর বুধবার সেখানে অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ তল্লাশির পর উদ্ধার হয় ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা।

সুমিত রায়ের বয়ানের সূত্র ধরেই তল্লাশি

এই গোটা ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন সুমিত রায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিতকে জমি সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্য থেকেই সরিষার দলীয় কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ থাকার বিষয়টি সামনে আসে।

এরপর তদন্তকারী আধিকারিকরা ওই কার্যালয়ে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালান। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ সামনে আসতেই তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। এত বিপুল পরিমাণ নগদ কীভাবে ওই কার্যালয়ে এল, কার নির্দেশে সেখানে রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত মামলার কোনও আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিধায়ক শামিম আহমেদের কার্যালয় ঘিরে চর্চা

পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যে দলীয় কার্যালয় থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেটি মগরাহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক শামিম আহমেদের বলে পরিচিত। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এক কোটিরও বেশি নগদ অর্থ কেন রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণত দলীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক কাজকর্ম, কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ থাকার কারণ কী, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

তবে ওই অর্থের প্রকৃত মালিক কে, বিধায়কের সঙ্গে টাকার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার অর্থ সেখানে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত তথ্য সামনে আসেনি।

সাংবাদিক বৈঠকে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ জানাল পুলিশ

বুধবার এই টাকা উদ্ধারের ঘটনা সামনে এনে সাংবাদিক বৈঠক করেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অভিষেক মজুমদার। তিনি উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশের তরফে জানানো তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা। সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয় বলে তদন্তের সূত্রে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনার পর তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। উদ্ধার হওয়া টাকা কোথা থেকে এসেছিল, কী উদ্দেশ্যে তা রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনও আর্থিক লেনদেনের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

টাকার উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন

এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের উৎস নিয়ে। এত বিপুল পরিমাণ টাকা কোনও দলীয় কার্যালয়ে রাখার পিছনে কী কারণ ছিল? এই টাকা কি কোনও জমি সংক্রান্ত লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, নাকি অন্য কোনও আর্থিক কর্মকাণ্ডের অংশ? টাকার মালিকানা কার হাতে রয়েছে?

তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস, মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন বলে জানা যাচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।

এছাড়াও, এই অর্থ একবারে ওই কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল, নাকি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে জমা করা হয়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তদন্তের পরিধি আরও বাড়ার সম্ভাবনা

সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদের পর যে তথ্য সামনে এসেছে, তার ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের সম্পর্ক যাচাই করছেন।

এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন কি না, কোনও আর্থিক লেনদেনের নথি পাওয়া যায় কি না এবং জমি সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে এই টাকার কোনও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা

ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সরিষায় এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ককে জিজ্ঞাসাবাদের পর এই টাকা উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের পক্ষ থেকেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, তদন্তের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসার আগে এই অর্থের উৎস বা মালিকানা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

এখন নজর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপে

সব মিলিয়ে, সরিষার তৃণমূল দলীয় কার্যালয় থেকে ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনা ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে। সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্য, উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থের উৎস এবং জমি সংক্রান্ত মামলার সম্ভাব্য যোগসূত্র—সবকিছুই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এবার দেখার, তদন্তকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপে আর কী কী তথ্য সামনে আসে। এই বিপুল পরিমাণ নগদের প্রকৃত মালিক কে এবং কেন তা দলীয় কার্যালয়ে রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।