নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে একসময় হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন তিনি। মাওবাদী দমন অভিযানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইইডি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন। হারাতে হয় বাঁ পা। এক মুহূর্তে বদলে যায় জীবনের গতিপথ। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারেনি। দীর্ঘ পুনর্বাসন, কঠোর অনুশীলন এবং অদম্য মানসিক শক্তিকে সঙ্গী করে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসে নতুন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন প্রাক্তন কোবরা কমান্ডো তোমান কুমার। আজ তিনি ভারতের প্যারা-আর্চারির অন্যতম উজ্জ্বল মুখ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের হয়ে সোনা জিতে প্রমাণ করেছেন, প্রতিকূলতা যতই কঠিন হোক, হার না মানার মানসিকতা থাকলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।
২০২৬ সালের এশিয়ান প্যারা গেমসে শীতল দেবীর সঙ্গে জুটি বেঁধে কম্পাউন্ড মিক্সড টিম ইভেন্টে সোনা জয় তাঁর সেই লড়াইয়েরই এক উজ্জ্বল অধ্যায়। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ভারতীয় জুটি ফাইনালে ইন্দোনেশিয়াকে ১৫১-১৪৮ পয়েন্টে হারিয়ে সোনা জেতে। এই জয় শুধু ভারতের পদক তালিকায় নতুন সাফল্য যোগ করেনি, বরং একজন প্রাক্তন সেনাকর্মীর জীবনসংগ্রাম ও প্রত্যাবর্তনের কাহিনিকেও নতুন করে সামনে এনেছে।
তোমান কুমারের জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় শুরু হয় ২০২২ সালে। তখন তিনি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কোবরা ইউনিটের কমান্ডো হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মাওবাদী দমন অভিযানে ঝাড়খণ্ডে কর্মরত অবস্থায় আইইডি বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন তিনি। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বাঁ পা হারাতে হয় তাঁকে।
দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসাই ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শারীরিক যন্ত্রণা, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের কঠিন পর্যায় পেরিয়ে তাঁকে নতুন করে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়।
একজন কমান্ডোর জীবন সাধারণত শৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা এবং কঠোর প্রশিক্ষণের উপর নির্ভরশীল। সেই জীবনে হঠাৎ এমন পরিবর্তন যে কতটা বড় ধাক্কা, তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু দুর্ঘটনাকে জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে মেনে নেননি তোমান। বরং ধীরে ধীরে নতুন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ খুঁজতে শুরু করেন।
তাঁর জীবনের এই পর্যায়টি ছিল একদিকে পুনর্বাসনের লড়াই, অন্যদিকে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম। যে মানুষ একসময় দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক অভিযানে অংশ নিতেন, তাঁকেই এবার নতুন পরিস্থিতিতে নিজের জীবনকে সাজিয়ে নিতে হয়।
দুর্ঘটনার পর তোমান কুমারের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে চলাফেরা শেখার পাশাপাশি ধীরে ধীরে নিজের শারীরিক ভারসাম্য ফিরে পাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন তিনি।
এই সময়ই তিরন্দাজির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। প্রথম দিকে এই খেলাকে নিজের ভবিষ্যৎ পেশা হিসেবে ভাবেননি তিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে ধনুক হাতে অনুশীলন শুরু করার পর খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। পুনর্বাসন কেন্দ্রের পরিবেশ এবং প্রশিক্ষকদের উৎসাহ তাঁকে নতুন লক্ষ্য স্থির করতে সাহায্য করে।
তোমানের জীবনের মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সিআরপিএফের তিরন্দাজি প্রশিক্ষক পঙ্কজ সিং। তিনি তোমানকে প্রথমে ধনুক নিয়ে অনুশীলনের সুযোগ দেন। পরে স্থানীয় একটি প্রতিযোগিতায় নিয়ে গেলে অন্য প্রতিযোগীদের দেখে তোমানের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়। প্রশিক্ষকের পরামর্শ ও নিজের অধ্যবসায়কে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে খেলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে নিতে শুরু করেন তিনি।
তিরন্দাজিতে সাফল্য পেতে শুধু লক্ষ্যভেদ করার দক্ষতা যথেষ্ট নয়। শরীরের ভারসাম্য, মনোযোগ, নির্ভুলতা, ধৈর্য এবং প্রতিটি শটের সময় নিজের স্নায়ুকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম পা নিয়ে এই সমস্ত দক্ষতা আয়ত্ত করা তোমানের কাছে ছিল বিশেষ চ্যালেঞ্জ।
কিন্তু কমান্ডো জীবনে অর্জিত শৃঙ্খলা তাঁর কাজে আসে। নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রশিক্ষকের নির্দেশ মেনে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিরন্দাজিই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের নতুন লক্ষ্য।
নতুন খেলায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথ সহজ ছিল না। একজন প্যারা-আর্চার হিসেবে প্রতিযোগিতার উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম পায়ের সাহায্যে দাঁড়িয়ে ধনুক চালানোর সময় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে তোমান নিজের সীমাবদ্ধতার দিকে তাকিয়ে থেমে থাকেননি। বরং কীভাবে নিজের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আরও ভালো পারফরম্যান্স করা যায়, সেই দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও তাঁকে আরও পরিণত করে তোলে।
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব প্যারা আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যক্তিগত কম্পাউন্ড বিভাগে সোনা জেতেন তোমান। একই প্রতিযোগিতায় শীতল দেবীর সঙ্গে মিক্সড টিম বিভাগে ব্রোঞ্জও অর্জন করেন তিনি। এই সাফল্য তাঁর ক্রীড়াজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্য পাওয়ার পর তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি।
তোমান কুমারের ক্রীড়াজীবনে নতুন সংযোজন ২০২৬ সালের এশিয়ান প্যারা গেমসের সোনা। জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে শীতল দেবীর সঙ্গে কম্পাউন্ড মিক্সড টিম ইভেন্টে অংশ নেন তিনি।
ফাইনালে ভারতীয় জুটির প্রতিপক্ষ ছিল ইন্দোনেশিয়ার তেওদোরা অডি অডিয়া ফেরেলি ও কেন স্বাগুমিলাং। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে ভারতীয় জুটি ১৫১-১৪৮ পয়েন্টে জয় পায়। শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে ভারতীয় জুটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্টের ব্যবধানে সোনা নিশ্চিত করে ভারত।
এই জয় তোমানের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২২ সালের দুর্ঘটনার পর যে মানুষকে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়েছিল, কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে ব্যক্তিগত সোনা জিতে এবং এশিয়ান প্যারা গেমসে দলগত সাফল্য এনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এশিয়ান প্যারা গেমসের এই সাফল্য তাঁর ধারাবাহিক উন্নতিরও প্রমাণ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের সাফল্যের পর মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় সোনা জিতে তিনি দেখিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপের মুখেও নিজের দক্ষতা ধরে রাখতে পারেন।
এই সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শীতল দেবীর সঙ্গে তোমানের সমন্বয়। শীতল নিজেও প্যারা-আর্চারির আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত এক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও তিনি পায়ের সাহায্যে ধনুক পরিচালনা করেন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছেন।
মিক্সড টিম কম্পাউন্ড ইভেন্টে দুজনের পারফরম্যান্স ভারতের জন্য সোনা এনে দেয়। প্রতিযোগিতার যোগ্যতা অর্জন পর্বেও ভারতীয় জুটি অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেয়। দুজনে মিলিয়ে ১,৪০২ পয়েন্ট অর্জন করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন, যা আগের ১,৪০০ পয়েন্টের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।
ফাইনালে শীতল ও তোমানের সমন্বয় ছিল জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি। তিরন্দাজির মতো খেলায় প্রত্যেকটি শটের নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য ভুলও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। তাই ব্যক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতাও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
এই জয় ভারতীয় প্যারা-আর্চারির শক্তিকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। পাশাপাশি তোমানের ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রামের কাহিনির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য অর্জনের গর্ব।
তোমান কুমারের জীবনের দিকে তাকালে তাঁর কমান্ডো হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান ক্রীড়াজীবনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র দেখা যায়—শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়।
কমান্ডো হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় কঠিন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া, শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলানো এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে মনোনিবেশ করা ছিল তাঁর কাজের অংশ। দুর্ঘটনার পর তিরন্দাজিতে নতুন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা কাজে এসেছে বলে তাঁর যাত্রাপথ থেকে বোঝা যায়।
তবে সামরিক অভিযান ও ক্রীড়াক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ এক নয়। তিরন্দাজিতে প্রতিটি শটের সময় শরীরের ভারসাম্য, শ্বাস-প্রশ্বাস, মনোযোগ এবং নির্ভুলতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। নতুন খেলায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তোমানকে আলাদা প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
প্রতিকূলতার মধ্যেও লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে চলার মানসিকতা তাঁর সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। দুর্ঘটনার পর জীবন থেমে যায়নি; বরং নতুন লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি নিজের পরিচয়কে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন।
তোমান কুমারের সাফল্যের কাহিনি শুধু পদক জয়ের গল্প নয়। এটি পুনর্বাসন, আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং নতুন করে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে নেওয়ার গল্পও।
একজন মানুষ গুরুতর দুর্ঘটনার পর কীভাবে নিজের জীবনকে নতুনভাবে সাজাতে পারেন, তাঁর যাত্রাপথ তার উদাহরণ। তবে এই সাফল্যকে শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছাশক্তির ফল হিসেবে দেখলে প্রশিক্ষণ, পুনর্বাসন, কোচের ভূমিকা এবং প্রতিযোগিতার সুযোগের গুরুত্ব আড়ালে থেকে যেতে পারে। তোমানের ক্ষেত্রে এই সমস্ত উপাদানই তাঁর ক্রীড়াজীবনের বিকাশে ভূমিকা রেখেছে।
প্যারা-স্পোর্টসের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত পরিকাঠামোর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা এবং খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করা জরুরি। তোমানের মতো ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক সাফল্য সেই প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে আসে।
তাঁর জীবন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, একটি দুর্ঘটনা মানুষের জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনের পর নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না। উপযুক্ত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে দৃঢ়তা থাকলে নতুন ক্ষেত্রেও সাফল্যের পথ তৈরি হতে পারে।
২০২৫ সালের বিশ্ব প্যারা আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যক্তিগত সোনা এবং ২০২৬ সালের এশিয়ান প্যারা গেমসে মিক্সড টিম সোনা—এই দুই সাফল্য তোমান কুমারের ক্রীড়াজীবনে উল্লেখযোগ্য সংযোজন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় প্যারা-আর্চারির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আগামী দিনে আরও বড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং দেশের হয়ে নতুন সাফল্য অর্জনের সুযোগ তাঁর সামনে রয়েছে। তবে সেই পথেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং প্রতিযোগিতার চাপ সামলানো গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
তোমানের কাহিনি একই সঙ্গে ক্রীড়াজগতের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়—প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমের বিকাশের জন্য সুযোগ তৈরি করা জরুরি। একজন খেলোয়াড়ের শারীরিক পরিস্থিতি তাঁর সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণ করে দেয় না। বরং উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং নিজের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পেলে তিনি আন্তর্জাতিক স্তরেও সাফল্য অর্জন করতে পারেন।
একসময় দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক অভিযানে অংশ নেওয়া তোমান কুমার আজ তিরন্দাজির মঞ্চে ভারতের পতাকা উজ্জ্বল করছেন। আইইডি বিস্ফোরণে বাঁ পা হারানোর পরও তিনি থেমে থাকেননি। ২০২৫ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের সাফল্য থেকে ২০২৬ সালের এশিয়ান প্যারা গেমসের সোনা—তাঁর যাত্রাপথ প্রমাণ করে, জীবনের কঠিন অধ্যায়ের পরও নতুন অধ্যায় শুরু করা সম্ভব। প্রতিকূলতা তাঁর পথ বদলে দিয়েছিল, কিন্তু লক্ষ্যভেদের স্বপ্নকে থামাতে পারেনি।