Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
পুজোর মুখে বস্ত্র বিতরণ, ভুরিভোজ আর রাজনৈতিক প্রচার—প্রকৃত দরিদ্রের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব নেবে কে? প্রশ্ন তুলছে জেলার বার্তা   •   পুল-আপ কেন এত কঠিন ব্যায়াম? শক্তি বাড়ানো থেকে পেশির গঠন—জেনে নিন এর উপকারিতা ও সঠিক কৌশল   •   কলকাতা আরক্ষা ভবনে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নজর   •   গ্রিক দই বনাম সাধারণ দই: প্রোটিন ও প্রোবায়োটিকের জন্য কোনটি বেশি উপকারী? জেনে নিন পুষ্টিবিদদের পরামর্শ   •   বাসিরাম বাজার, নিমতলা নিউ মার্কেট ও রানীগড়-জ্যোতিষপুরের পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা পরিদর্শন, সুরক্ষা বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিকরা   •   মন্দিরবাজার বাসস্ট্যান্ডে প্রথমবার সার্বজনীন দুর্গাপুজো, সাবেকি আয়োজনেই মাতোয়ারা এলাকাবাসী

পুজোর মুখে বস্ত্র বিতরণ, ভুরিভোজ আর রাজনৈতিক প্রচার—প্রকৃত দরিদ্রের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব নেবে কে? প্রশ্ন তুলছে জেলার বার্তা

19 Oct 2026
05:41 PM


সম্পাদকের কলমে: উৎসবের মরশুমে কোথাও বস্ত্র বিতরণ, কোথাও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন, আবার কোথাও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে চলছে জনসংযোগের কর্মসূচি। কিন্তু এই সমস্ত আয়োজনের আড়ালে কি সত্যিই উপকৃত হচ্ছেন সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলি? নাকি উৎসবকে সামনে রেখে জনসমর্থন আদায়ের প্রতিযোগিতাতেই ব্যস্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব? প্রকৃত দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইকে সামনে রেখে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসব, নতুন জামাকাপড়, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং চারদিকে খুশির পরিবেশ। কিন্তু এই উৎসবের আলো যখন শহর থেকে গ্রাম, পাড়া থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তখনও সমাজের একাংশের জীবনে সেই আলো পৌঁছয় না। কারও কাছে পুজো মানে নতুন পোশাক কেনার আনন্দ, আবার কারও কাছে পুরনো জামাটিকে পরিষ্কার করে আরও কয়েকটা দিন পরার চেষ্টা। কারও বাড়িতে পঞ্চমীর আগেই বাজারের ব্যাগ ভর্তি হয়, আবার কারও সংসারে দুবেলা খাবার জোগাড় করাটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বাস্তবতার মধ্যেই পুজোর মুখে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বস্ত্র বিতরণ, খাদ্য বিতরণ এবং নানা ধরনের সামাজিক কর্মসূচি। রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে কোথাও নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার অসহায় মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে, এই উদ্যোগগুলির মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই রয়েছে মানবিকতার পরিচয়। অভাবী মানুষের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া কিংবা ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়া প্রশংসনীয় কাজ।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। যাঁরা প্রকৃত অর্থেই দরিদ্র, যাঁদের পক্ষে নিজেদের উপার্জনে পুজোর নতুন পোশাক কেনা সম্ভব নয়, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে কি এই সাহায্য পৌঁছচ্ছে? নাকি ক্যামেরার সামনে কয়েকজনকে পোশাক বিতরণ করেই শেষ হচ্ছে দায়িত্ব?

উৎসবের আলোয় ঢাকা পড়ছে কি দারিদ্রের অন্ধকার?

পুজোর সময় রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। কোথাও বস্ত্র বিতরণ, কোথাও দুস্থদের খাওয়ানো, কোথাও আবার বড় বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিগুলি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারও পায়। নেতাদের উপস্থিতি, উপকৃত মানুষের ছবি এবং কর্মসূচির বিবরণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু এই প্রচারের বাইরে থেকে যান এমন বহু মানুষ, যাঁদের জীবনযুদ্ধের কথা সাধারণত কেউ জানতে চান না। দিনমজুর, পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার, বিধবা মহিলা, অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পরিবারগুলির অনেকের কাছেই উৎসবের আনন্দ অধরা।

একজন দিনমজুরের কথা ভাবুন, যিনি প্রতিদিন কাজ পেলে তবেই সংসারের চুলা জ্বালাতে পারেন। পুজোর সময় কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকলে তাঁর পরিবারের সামনে খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার স্বপ্ন অনেক সময় স্বপ্নই থেকে যায়। আবার এমন বৃদ্ধ মানুষও রয়েছেন, যাঁদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। তাঁদের কাছে পুজোর আনন্দের চেয়ে প্রতিদিনের ওষুধ, খাবার এবং মাথার উপর নিরাপদ ছাদ অনেক বেশি জরুরি।

প্রশ্ন হল, এই মানুষগুলির পাশে দাঁড়ানোর জন্য কতটা পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে? শুধুমাত্র উৎসবের কয়েকটি দিনে সাহায্য পৌঁছে দিলেই কি সামাজিক দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?

বস্ত্র বিতরণ কি মানবিক উদ্যোগ, নাকি জনসংযোগের হাতিয়ার?

রাজনৈতিক নেতাদের সমস্ত সামাজিক উদ্যোগকে এক কথায় অস্বীকার করা যায় না। অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা সংগঠনের মাধ্যমে সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাঁদের কাজ সম্মানের যোগ্য। কিন্তু যখন জনসেবার প্রতিটি কর্মসূচি রাজনৈতিক প্রচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখন সেই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ তৈরি হয়।

জনসেবা যদি সত্যিই মূল লক্ষ্য হয়, তবে সাহায্য পাওয়া মানুষের মুখের ছবি প্রচার করার চেয়ে তাঁদের সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। কে কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক, কে কোন মতাদর্শে বিশ্বাস করেন—এসব বিবেচনা না করে প্রকৃত অভাবী মানুষকে সাহায্য পৌঁছে দেওয়াই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।

আরও বড় প্রশ্ন, যাঁরা সাহায্য পাচ্ছেন না, তাঁদের দায়িত্ব নেবে কে? কোনও এলাকায় যদি শতাধিক পরিবার চরম আর্থিক সংকটে থাকে, সেখানে হাতে গোনা কয়েকজনকে পোশাক দিয়ে কি গোটা এলাকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব? যদি কোনও কর্মসূচির উদ্দেশ্য সত্যিই মানুষের পাশে দাঁড়ানো হয়, তবে তার পরিধি, স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছনোর ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হওয়া জরুরি।

সরকারের দায়িত্ব কোথায়?

এই সম্পাদকীয়ের প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক নেতাদের ঘিরে নয়, রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও। একটি কল্যাণমূলক সরকারের কাছে নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো বিষয়গুলি শুধুমাত্র উৎসবকেন্দ্রিক সহায়তার উপর নির্ভর করতে পারে না।

পুজোর সময় কোনও পরিবার নতুন পোশাক পেল কি না, তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সারা বছর সেই পরিবারটি নিয়মিত খাবার পাচ্ছে কি না, শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে কি না, অসুস্থ সদস্যের চিকিৎসা হচ্ছে কি না, এবং পরিবারের উপার্জনের স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা রয়েছে কি না—সেই প্রশ্নগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে কোনও যোগ্য পরিবার যদি প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে সেই ব্যর্থতার জবাবদিহি থাকা দরকার। প্রকৃত দরিদ্র মানুষ সরকারি সাহায্য পাচ্ছেন কি না, স্থানীয় প্রশাসন তাঁদের চিহ্নিত করছে কি না, অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

উৎসবের আগে সাময়িক সাহায্য অবশ্যই স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি দারিদ্র দূর করতে কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক সুরক্ষা এবং সরকারি পরিষেবার কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

জেলার বার্তার প্রশ্ন: প্রকৃত অভাবীদের তালিকা কোথায়?

জেলার বার্তার পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠছে—পুজোর আগে যাঁরা বস্ত্র বিতরণের আয়োজন করছেন, তাঁরা কি নিজেদের এলাকার প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলির একটি নির্ভরযোগ্য তালিকা তৈরি করছেন? যাঁরা বছরের পর বছর আর্থিক সংকটে রয়েছেন, যাঁদের সন্তানদের নতুন জামাকাপড় কেনার সামর্থ্য নেই, যাঁরা অন্যের সাহায্য চাইতেও সংকোচ বোধ করেন, তাঁদের কাছে সাহায্য পৌঁছনোর ব্যবস্থা কী?

অনেক সময় দেখা যায়, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে যাঁরা উপস্থিত হতে পারেন, তাঁরাই সাহায্য পাওয়ার সুযোগ বেশি পান। অথচ সবচেয়ে অসহায় মানুষটি হয়তো শারীরিক অক্ষমতা, বার্ধক্য, কাজের চাপ কিংবা সামাজিক সংকোচের কারণে সেই অনুষ্ঠানে পৌঁছতেই পারেন না। ফলে সাহায্যের প্রকৃত প্রয়োজন থাকলেও তিনি বঞ্চিত থেকে যান।

এই পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় স্তরে স্বচ্ছভাবে উপকারভোগী চিহ্নিত করা, নির্দলীয়ভাবে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনে বাড়িতে গিয়ে সহায়তা করার ব্যবস্থা করা উচিত। সাহায্য পাওয়ার জন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কিংবা কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা যেন শর্ত না হয়ে দাঁড়ায়।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দরিদ্র মানুষের আত্মসম্মান যেন কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। অভাবী মানুষের হাতে পোশাক তুলে দেওয়া মানবিক কাজ; কিন্তু সেই মানুষকে রাজনৈতিক প্রচারের উপকরণে পরিণত করা কখনওই কাম্য নয়।

শুধু পুজো নয়, সারা বছর মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে

পুজো শেষ হয়ে যাবে। আলোর মালা খুলে নেওয়া হবে, মণ্ডপ ভাঙা হবে, উৎসবের ভিড় কমে যাবে। কিন্তু যাঁদের সংসারে অভাব রয়েছে, তাঁদের সমস্যা থেকে যাবে। পুজোর কয়েক দিন নতুন পোশাক পরার আনন্দের পর আবার শুরু হবে কাজের অনিশ্চয়তা, বাজারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা এবং চিকিৎসার ব্যয় সামলানোর লড়াই।

তাই রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলির কাছে আবেদন—মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগকে শুধুমাত্র উৎসবের কয়েকটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না। এলাকার প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করুন। তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক, খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার সহায়তা পৌঁছে দিন। যাঁদের কাজের প্রয়োজন, তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগী হোন। আর সরকারি পরিষেবা থেকে কেউ বঞ্চিত হলে তাঁর সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করুন।

রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি। জনসমর্থন পাওয়া গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ, কিন্তু সেই সমর্থন অর্জনের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য পথ হল মানুষের সমস্যার সমাধান করা। প্রচারের আলোয় কয়েকটি ছবি হয়তো সাময়িকভাবে জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে কাজের বাস্তব ফল দেখাতে হবে।

 মানুষের অধিকার কোনও দয়া নয়

দরিদ্র মানুষের হাতে একটি নতুন জামা তুলে দেওয়া অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু সেই জামা যেন কারও রাজনৈতিক আনুগত্যের বিনিময়ে না আসে। ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া মানবিক দায়িত্ব, কোনও রাজনৈতিক অনুগ্রহ নয়। সরকারি পরিষেবা পাওয়া নাগরিকের অধিকার; তা কোনও নেতা বা দলের ব্যক্তিগত দান নয়।

আমাদের প্রশ্ন কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশ্ন সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যেখানে মানুষের মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেয়ে সাময়িক প্রচার বেশি গুরুত্ব পেয়ে যেতে পারে। তবে সরকার যদি দরিদ্র মানুষের সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যোগ্য মানুষের কাছে না পৌঁছয় কিংবা প্রশাসনিক উদাসীনতায় মানুষ বঞ্চিত হন, তবে সেই ব্যর্থতার সমালোচনা করা গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

পুজোর আনন্দ সবার জন্য হোক—এটাই কাম্য। কিন্তু সেই আনন্দের ছবি সম্পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না শেষ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা অভাবী মানুষটির মুখেও হাসি ফোটে।

জেলার বার্তার স্পষ্ট প্রশ্ন—যাঁরা পুজোর নতুন জামাকাপড় কেনার সামর্থ্য রাখেন না, যাঁরা অভাবের কথা প্রকাশ্যে বলতে পারেন না, সেই প্রকৃত দরিদ্র মানুষগুলির পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কে নেবে? বস্ত্র বিতরণের মঞ্চে ছবি তোলার বাইরেও কি তাঁদের খোঁজ নেওয়া হবে? নাকি উৎসব শেষ হলেই তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার কথাও ভুলে যাওয়া হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে নয়, তাঁদের কাজের মধ্যেই খুঁজবে সাধারণ মানুষ। কারণ মানুষের অধিকার কোনও দয়া নয়, আর জনসেবা কোনও প্রচারের প্রদর্শনী হওয়া উচিত নয়।