নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার দলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। উইকেটকিপারের দায়িত্ব নিতে চলেছেন ব্যাটার রায়ান রিকেলটন। আর এই বাড়তি দায়িত্ব তাঁর সামগ্রিক খেলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডিং কোচ ক্রুগার ফন উইক। তাঁর মতে, উইকেটকিপিংয়ের মাধ্যমে রিকেলটন ম্যাচের সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত থাকবেন, বাড়বে মনোযোগ এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারবানে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২১৪ রানে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় টেস্টের আগে দল গঠনে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। রিকেলটনের হাতে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব তুলে দেওয়া সেই পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম। ফন উইকের বিশ্বাস, এই ভূমিকা রিকেলটনের কাছে নতুন নয় এবং দীর্ঘদিনের অনুশীলন তাঁকে এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করেছে।
ক্রুগার ফন উইকের মতে, রিকেলটন এমন একজন ক্রিকেটার, যিনি বাড়তি দায়িত্ব পেলে আরও ভালোভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেন। উইকেটকিপিংয়ের ফলে তাঁকে প্রতিটি বলের দিকে নজর রাখতে হবে, বোলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে এবং মাঠের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। এর ফলে তাঁর মনোযোগ ও ম্যাচ সম্পর্কে বোঝাপড়া আরও শাণিত হতে পারে।
ফন উইক জানিয়েছেন, রিকেলটন নিয়মিত উইকেটকিপিং অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন। শুধু সাদা বলের ক্রিকেটেই নয়, যখন তিনি মূলত ব্যাটার হিসেবে খেলেছেন, তখনও কিপিংয়ের অনুশীলন থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি। ফলে টেস্ট ক্রিকেটে গ্লাভস হাতে নেওয়ার জন্য তাঁকে একেবারে নতুন করে শুরু করতে হচ্ছে না।
তাঁর এই ধারাবাহিক অনুশীলন এবং দায়িত্ব পালনের মানসিকতাই কোচিং স্টাফকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ফন উইকের মতে, রিকেলটনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা যথেষ্ট ভালো এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।
ডারবানে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে রিকেলটন ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে যথাক্রমে শূন্য ও দুই রান করেছিলেন। দলের সেই পরাজয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ঘুরে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রিকেলটনের সামনে শুধু উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব সামলানো নয়, ব্যাট হাতেও কার্যকর অবদান রাখার চ্যালেঞ্জ থাকবে।
উইকেটকিপিংয়ের সময় একজন ক্রিকেটারকে দীর্ঘক্ষণ ধরে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। প্রতিটি ডেলিভারিতে বলের গতিপথ বোঝা, ক্যাচ নেওয়া, স্টাম্পিংয়ের সুযোগ কাজে লাগানো এবং বোলারদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য করা—সবই এই ভূমিকার অংশ। ফন উইকের মতে, এই সক্রিয় ভূমিকা রিকেলটনকে ম্যাচের মধ্যে আরও বেশি জড়িত রাখবে।
তিনি মনে করেন, রিকেলটনের মধ্যে স্বাভাবিক নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ রয়েছে। তাই উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে খেলার পরিস্থিতি বোঝা এবং সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার দায়িত্ব তাঁর খেলায় সামগ্রিক উন্নতি ঘটাতে পারে।
সাদা বলের ক্রিকেটে উইকেটকিপিং করার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে রিকেলটনের। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক সীমিত ওভারের ম্যাচে তিনি গ্লাভস হাতে মাঠে নেমেছেন। ফন উইকের মতে, বলের গতিপথ বোঝা, সঠিক সময়ে হাতের অবস্থান তৈরি করা এবং ক্যাচ নেওয়ার মতো মৌলিক দক্ষতা বিভিন্ন ফরম্যাটেই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে টেস্ট ক্রিকেটে চ্যালেঞ্জের ধরন কিছুটা আলাদা। দীর্ঘ সময় ধরে উইকেটকিপিং করতে হয় এবং ম্যাচের শেষ দিকে পিচের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। বিশেষ করে উপমহাদেশের ঘূর্ণি পিচে স্পিনারদের বিরুদ্ধে উইকেটকিপারদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হয়।
ফন উইক মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার পিচে সাধারণত বল ঘোরার তুলনায় বেশি বাউন্স পাওয়া যায়। ফলে দেশের মাটিতে রিকেলটনের সামনে এক ধরনের পরীক্ষা থাকবে, আর ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কার মতো উপমহাদেশীয় পরিবেশে খেললে স্পিন সামলানোর দক্ষতার আরও বড় পরীক্ষা হতে পারে।
প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্সে উন্নতি করতে চাইছে। গকেবেরহার সেন্ট জর্জেস পার্কে ১৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা দ্বিতীয় টেস্ট। এই ম্যাচে সিরিজে সমতা ফেরানোর পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান উন্নত করাও দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য।
রিকেলটনের উইকেটকিপিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাথু ব্রিটজকে দলে আসায় ব্যাটিংয়ের বিন্যাস নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। ফলে রিকেলটন কোন অবস্থানে ব্যাট করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে রায়ান রিকেলটনের ভূমিকা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ক্রুগার ফন উইকের বিশ্বাস, স্টাম্পের পেছনে বাড়তি দায়িত্ব রিকেলটনের মনোযোগ, নেতৃত্ব এবং সামগ্রিক খেলাকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে। এখন মাঠে সেই বিশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।