Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
ডায়মন্ড হারবার থানা পুজো কমিটির উদ্যোগে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন, উপহার ও হেলমেট বিতরণে উপস্থিত ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা   •   রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার সময় যে ৬টি সাধারণ ভুল করেন অনেকে, জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ   •   মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে নির্ভীক ক্রিকেটের বার্তা শেফালি ভার্মার, আক্রমণাত্মক অথচ কৌশলী খেলায় নজর ভারতের   •   ওমান ও আমিরাতের বিরুদ্ধে লিগ ২-তে বাস ডি লিডের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের নেদারল্যান্ডস দল ঘোষণা   •   মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির নতুন কার্যালয়ের ভূমিপূজন, উপস্থিত দিলীপ ঘোষ-সহ বিধায়ক ও জেলা নেতৃত্ব   •   নন্দীগ্রামে জোয়ার ভরা স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা, উপস্থিত শুভেন্দু অধিকারী

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার সময় যে ৬টি সাধারণ ভুল করেন অনেকে, জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

16 Oct 2026
09:37 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা-সহ একাধিক গুরুতর শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকেই নিয়মিত ওষুধের পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ভেষজ উপাদানযুক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, রসুনের নির্যাস, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড কিংবা বিটরুটজাতীয় পণ্যের প্রতিও অনেকের আগ্রহ রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্ট নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পণ্য নির্বাচন এবং ওষুধের সঙ্গে সম্ভাব্য পারস্পরিক ক্রিয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে। কোনও সাপ্লিমেন্টই সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ করে না। কিছু উপাদান নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সহায়ক হতে পারে, আবার ভুল মাত্রায় গ্রহণ করলে বা কিছু ওষুধের সঙ্গে ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতিও হতে পারে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করার সময় তাই কয়েকটি সাধারণ ভুল সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

১. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সাপ্লিমেন্ট শুরু করা

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলির একটি হল চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকেই কোনও পণ্য শুরু করা। ইন্টারনেট, সামাজিক মাধ্যম কিংবা পরিচিত ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকে প্রভাবিত হয়ে অনেকে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম বা ভেষজ উপাদানযুক্ত সাপ্লিমেন্ট কিনে ফেলেন।

কিন্তু সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়। কারও শরীরে নির্দিষ্ট খনিজের ঘাটতি থাকতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে সেই উপাদানের অতিরিক্ত গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে কিডনির কার্যকারিতা কম থাকলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। রক্তে অতিরিক্ত পটাশিয়াম হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যকলাপে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

কী করবেন? নতুন কোনও সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সঙ্গে আলোচনা করুন। আপনার বর্তমান ওষুধ, অন্যান্য অসুস্থতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তপরীক্ষার ফল বিবেচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

২. সাপ্লিমেন্টকে রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প মনে করা

দ্বিতীয় বড় ভুল হল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করার পর নির্ধারিত রক্তচাপের ওষুধ কমিয়ে দেওয়া কিংবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। কিছু পুষ্টি উপাদান নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রক্তচাপের উপর সামান্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে সেগুলি চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনও স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে। মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা না থাকলেও রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে। আবার সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পর শরীর ভালো লাগলেও রক্তচাপ নিরাপদ মাত্রায় নেমে এসেছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

নির্ধারিত ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করলে রক্তচাপ আবার বেড়ে যেতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ বন্ধ করার ক্ষেত্রে বিশেষ ঝুঁকিও থাকে।

কী করবেন? চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রক্তচাপের ওষুধ বন্ধ, কমানো বা পরিবর্তন করবেন না। সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করলেও নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং চিকিৎসকের নির্ধারিত ফলো-আপ বজায় রাখুন।

৩. বেশি মাত্রায় খেলে বেশি উপকার হবে বলে মনে করা

অনেকের ধারণা, কোনও সাপ্লিমেন্টের মাত্রা যত বেশি হবে, তার উপকারও তত বেশি হবে। বাস্তবে এই ধারণা সঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ভিটামিন বা খনিজ গ্রহণ করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, অতিরিক্ত পটাশিয়াম রক্তে এই খনিজের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণে ডায়রিয়া, বমিভাব এবং পেটের সমস্যা হতে পারে। কিডনির কার্যকারিতা গুরুতরভাবে কমে গেলে ম্যাগনেশিয়াম জমে আরও গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।

একইভাবে, একাধিক মাল্টিভিটামিন বা খনিজ সাপ্লিমেন্ট একসঙ্গে গ্রহণ করলে অজান্তেই একই উপাদানের অতিরিক্ত মাত্রা শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

কী করবেন? পণ্যের লেবেলে উল্লেখ করা মাত্রা এবং চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলুন। একাধিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে সেগুলির উপাদান মিলিয়ে দেখুন। বেশি মাত্রা গ্রহণের আগে অবশ্যই পেশাদার পরামর্শ নিন।

৪. ওষুধের সঙ্গে সাপ্লিমেন্টের পারস্পরিক ক্রিয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করা

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধের সঙ্গে কিছু সাপ্লিমেন্টের পারস্পরিক ক্রিয়া হতে পারে। ফলে ওষুধের কার্যকারিতা পরিবর্তিত হতে পারে, রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যেতে পারে অথবা শরীরে নির্দিষ্ট খনিজের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, কিছু রক্তচাপের ওষুধ—বিশেষত ACE inhibitor, ARB এবং পটাশিয়াম-সাশ্রয়ী মূত্রবর্ধক ওষুধ—শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে। এর সঙ্গে পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা পটাশিয়ামযুক্ত লবণের বিকল্প গ্রহণ করলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া কিছু ভেষজ উপাদান রক্তচাপ, রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া অথবা অন্যান্য ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। কোনও পণ্যকে ‘প্রাকৃতিক’ বলা হলেই সেটি সম্পূর্ণ নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়।

কী করবেন? আপনি যে সমস্ত ওষুধ, ভিটামিন, ভেষজ পণ্য ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন, তার একটি তালিকা চিকিৎসককে জানান। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে সম্ভাব্য পারস্পরিক ক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন।

৫. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাপ্লিমেন্টের কার্যকারিতা সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রত্যাশা রাখা

বাজারে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের দাবি করে এমন বহু সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনে কখনও দ্রুত ফল, কখনও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু সব দাবির পক্ষে সমান মানের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ম্যাগনেশিয়াম, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা রসুনের নির্যাস নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে রক্তচাপে সামান্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ফলাফল পণ্য, মাত্রা, ব্যক্তির স্বাস্থ্য এবং গবেষণার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। এগুলিকে উচ্চ রক্তচাপের নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন সেই সব পণ্যের ক্ষেত্রে, যেগুলি ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ সারিয়ে দেওয়ার দাবি করে। কিছু পণ্যে উপাদানের পরিমাণ পরিষ্কারভাবে উল্লেখ নাও থাকতে পারে, আবার কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত বা ঘোষণাবহির্ভূত উপাদান থাকার ঝুঁকিও থাকে।

কী করবেন? সাপ্লিমেন্ট কেনার আগে তার উপাদান, মাত্রা, গুণমান এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যাচাই করুন। শুধু বিজ্ঞাপন বা অনলাইন রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। মনে রাখবেন, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের প্রধান ভিত্তি হল প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ।

৬. খাবার, জীবনযাপন ও নিয়মিত রক্তচাপ মাপার গুরুত্ব ভুলে যাওয়া

সাপ্লিমেন্টের উপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে গিয়ে অনেকে দৈনন্দিন জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিকে উপেক্ষা করেন। অথচ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং লবণ গ্রহণ কমানোর মতো পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণশস্য এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত লবণ, নিয়মিত অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং ঘুমের সমস্যা রক্তচাপের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে নিয়মিত রক্তচাপ না মাপলে চিকিৎসা কার্যকর হচ্ছে কি না, তা বোঝা কঠিন হয়। কেবল শারীরিক অনুভূতির উপর নির্ভর করে রক্তচাপের অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না।

কী করবেন? চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে রক্তচাপ মাপুন এবং তারিখ ও সময়সহ রিডিং লিখে রাখুন। লবণ কমান, নিয়মিত হাঁটুন বা উপযুক্ত ব্যায়াম করুন, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন এবং পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন। কোনও নতুন খাদ্যাভ্যাস বা সাপ্লিমেন্ট শুরু করলেও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যান।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কোন বিষয়গুলি মনে রাখা জরুরি?

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাপ্লিমেন্টের ভূমিকা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই সবার জন্য একই পণ্য বা একই মাত্রা উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে কিডনি বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং একাধিক ওষুধ গ্রহণ করেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে তিনটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—

  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও সাপ্লিমেন্ট শুরু করবেন না।

  • নির্ধারিত রক্তচাপের ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ বা পরিবর্তন করবেন না।

  • নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন।

যদি রক্তচাপ ১৮০/১২০ mmHg বা তার বেশি হয়, অন্তত এক মিনিট অপেক্ষা করে আবার মাপুন। রিডিং একই রকম বেশি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এর সঙ্গে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা, অসাড়তা, দৃষ্টির পরিবর্তন বা কথা বলতে অসুবিধা থাকলে জরুরি চিকিৎসা নিন।