নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: আগামী বছরের আইসিসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে সামনে রেখে নির্ভীক ও আকর্ষণীয় ক্রিকেট খেলার লক্ষ্য স্থির করেছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। তবে শুধু আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নয়, পরিস্থিতি বুঝে বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট খেলতেও জোর দিচ্ছেন ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক শেফালি ভার্মা। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে দলের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, ধারাবাহিক উন্নতি এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ভূমিকা স্পষ্ট রাখাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতিতেও এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শেফালি ভার্মার বক্তব্য, ভারতীয় দল এমন ক্রিকেট খেলতে চায় যেখানে ব্যাটাররা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবেন, সুযোগ পেলে আক্রমণ করবেন এবং একই সঙ্গে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর মতে, নির্ভীক ক্রিকেট খেলার অর্থ সব সময় ঝুঁকি নেওয়া নয়; বরং নিজের দক্ষতার উপর আস্থা রেখে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
দলের মধ্যে এই পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শেফালি। প্রত্যেক খেলোয়াড় যাতে নিজের ভূমিকা বুঝতে পারেন এবং চাপের মুহূর্তেও পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারেন, সেই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় দলের সামনে এখন জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ। এই ম্যাচগুলিতে নিজেদের কৌশল পরীক্ষা করার পাশাপাশি ব্যাটিং ও বোলিংয়ের বিভিন্ন সমন্বয় যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ পাবে দল। এরপর ধাপে ধাপে বড় প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে ভারত।
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে নেতৃত্বের পরিবর্তনও আসন্ন সিরিজকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। স্মৃতি মন্ধানাকে সব ফরম্যাটে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শেফালি ভার্মা। অন্যদিকে, এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে রয়েছেন দীপ্তি শর্মা। <Cite refs={["turn118499search0","turn118499search7"]}/>
নতুন নেতৃত্বের অধীনে দলের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এবং প্রত্যেক ক্রিকেটারকে আত্মবিশ্বাসী রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শেফালি জানিয়েছেন, সহ-অধিনায়কের ভূমিকা শুধু মাঠে অধিনায়ককে সাহায্য করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দলের প্রত্যেক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, তাঁদের স্বচ্ছন্দ পরিবেশ দেওয়া এবং প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোও এই দায়িত্বের অংশ।
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা শেফালির রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিনিয়র দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আরও ভালো সমন্বয় গড়ে তুলতে চান তিনি। তাঁর লক্ষ্য, দলের প্রত্যেক সদস্য যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেন এবং সম্মিলিতভাবে উন্নতি করতে পারেন।
ভারতীয় মহিলা দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের অবদানের কথাও উল্লেখ করেছেন শেফালি। তাঁর মতে, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতি এবং বর্তমান অবস্থান তৈরিতে হরমনপ্রীতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
নেতৃত্বের পরিবর্তন ক্রিকেটের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও পূর্ববর্তী অধিনায়কের অভিজ্ঞতা ও অবদান দলের কাছে মূল্যবান। নতুন অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানার নেতৃত্বে দল কীভাবে এগিয়ে যায় এবং সিনিয়র ক্রিকেটাররা কীভাবে তরুণদের সহায়তা করেন, তা আগামী ম্যাচগুলিতে নজরে থাকবে।
ভারতীয় দলের লক্ষ্য এখন নতুন নেতৃত্বের অধীনে নিজেদের শক্তি আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো। অভিজ্ঞতা, তারুণ্য এবং কৌশলগত পরিকল্পনার সমন্বয়ই বড় প্রতিযোগিতার আগে দলের প্রস্তুতির অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।
ভারত ও জিম্বাবোয়ের মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সিরিজ শুরু হচ্ছে ১৬ অক্টোবর রায়পুরে। এরপর দুই দল তিনটি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যাবে বরোদায়। টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলি ভারতীয় দলের কাছে নিজেদের আক্রমণাত্মক খেলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার সুযোগ তৈরি করবে।
সিরিজে ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা, পাওয়ারপ্লেতে রান তোলার কৌশল, মাঝের ওভারগুলিতে স্ট্রাইক রোটেশন এবং শেষের দিকে দ্রুত রান সংগ্রহের ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে বোলারদের নিয়ন্ত্রণ, ফিল্ডিংয়ের মান এবং চাপের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও পরীক্ষা করা হবে।
শেফালির মতে, দলের উন্নতি একদিনে সম্ভব নয়। প্রতিটি সিরিজ থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। সেই কারণেই ধারাবাহিক উন্নতি এবং খেলোয়াড়দের ভূমিকা স্পষ্ট রাখার উপর জোর দিচ্ছে ভারতীয় দল।
আক্রমণাত্মক ওপেনার হিসেবে পরিচিত শেফালি ভার্মা নিজের খেলায় ধারাবাহিকতা, ফিটনেস এবং মানসিক দৃঢ়তা বাড়ানোর উপরও কাজ করেছেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময় নিজের দুর্বলতাগুলি বিশ্লেষণ করে ব্যাটিংয়ের বিভিন্ন দিক উন্নত করার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
শেফালির মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করতে হলে শুধু প্রতিভা থাকলেই হয় না; তার সঙ্গে প্রয়োজন শারীরিক প্রস্তুতি, মানসিক স্থিরতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের খেলার ধরন বদলানোর ক্ষমতা। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই আরও অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি।
হরিয়ানার হয়ে ২০২১ সাল থেকে বোলিং করার অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে। ফলে প্রয়োজনে বল হাতে দলের জন্য অবদান রাখার প্রস্তুতি তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিচ্ছেন। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের সামর্থ্য বাড়ানো দলের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আইসিসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এই প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখেই জাতীয় দলের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে সিরিজের পর এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলিও খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ফরম্যাটে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করার সুযোগ দেবে।
বড় প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষের শক্তি, পিচের চরিত্র এবং ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলাতে হয়। তাই শুধু আক্রমণাত্মক ক্রিকেট নয়, ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়া, প্রয়োজন অনুযায়ী ঝুঁকি কমানো এবং বোলিংয়ের সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করা—সব ক্ষেত্রেই উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
শেফালির বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভারতীয় দল ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে চাইলেও কৌশলগত বিচক্ষণতাকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিটি সিরিজে উন্নতি করে বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত হওয়াই এখন দলের লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজ ভারতীয় মহিলা দলের নতুন নেতৃত্বের অধীনে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলির একটি। স্মৃতি মন্ধানার নেতৃত্ব, শেফালি ভার্মার সহ-অধিনায়কত্ব এবং দলের সম্মিলিত প্রস্তুতি আগামী দিনের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকে নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
নির্ভীক ক্রিকেটের সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত, ব্যক্তিগত দক্ষতার সঙ্গে দলগত সমন্বয় এবং প্রতিটি ম্যাচ থেকে শিক্ষা নেওয়ার মানসিকতা—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই এগোতে চায় ভারত। মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এই প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হয়, তার প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলতে পারে জিম্বাবোয়ে সিরিজেই।