নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে ঝড়খালি কোস্টাল থানা এলাকার বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটিকে এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশ অনুসারে বারুইপুর পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন পুজো কমিটির সদস্যদের হাতে এই অনুদান তুলে দেওয়া হয়। পুজোর প্রস্তুতি, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং উৎসবের অন্যান্য আয়োজনকে আরও সুন্দর করে তোলার লক্ষ্যেই এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝড়খালি কোস্টাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক, বাসন্তী বিধানসভার বিজেপি কনভেনর প্রদীপ সরদার, জয়নগর সাংগঠনিক জেলার যুব সভাপতি উৎপল দত্ত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাসন্তী কেন্দ্রের প্রার্থী বিকাশ সরদার, সমাজসেবী সুব্রত গায়েন এবং ঝড়খালি অঞ্চলের ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তারা। পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারাও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
দুর্গাপুজো শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক মিলনমেলার অন্যতম প্রধান উপলক্ষ। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই পুজোকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নানা প্রস্তুতি। মণ্ডপ নির্মাণ, প্রতিমা তৈরি, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা করতে পুজো কমিটিগুলিকে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়।
বিশেষত গ্রামীণ এলাকার ছোট ও মাঝারি পুজো কমিটিগুলির ক্ষেত্রে আর্থিক সংস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা, চাঁদা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থের মাধ্যমেই অনেক কমিটিকে পুজোর আয়োজন করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান পুজোর প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতিনিধিরা।
ঝড়খালি কোস্টাল থানা এলাকার পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের এই কর্মসূচিকে ঘিরে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। অনুদানের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করে পুজোর আয়োজনকে আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বাসন্তী বিধানসভার বিজেপি কনভেনর প্রদীপ সরদার দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই পুজো কমিটিগুলির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ উৎসবের আয়োজনকে আরও সহজ করতে পারে।
প্রদীপ সরদারের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে এলাকার পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। এই আর্থিক সহায়তার ফলে পুজো কমিটিগুলি মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় আয়োজনের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে কমিটিগুলিকে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি অনুদান সেই চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিও এই উদ্যোগের জন্য স্বাগত ও শুভেচ্ছার বার্তা উঠে আসে।
প্রদীপ সরদারের কথায়, উৎসবের আনন্দ যেন সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনও পুজো কমিটিকে যাতে আয়োজনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পুজোকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আনন্দের পরিবেশ বজায় রাখার উপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
ঝড়খালি ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটির কাছে এই অনুদান পুজোর প্রস্তুতিতে একটি সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুজোর সময় মণ্ডপ নির্মাণ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা করতে হয়। ফলে আর্থিক সহায়তা পেলে কমিটিগুলি নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী আয়োজন সাজানোর সুযোগ পেতে পারে।
একই সঙ্গে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর, মণ্ডপশিল্পী, আলোকসজ্জার কর্মী এবং বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাজের সুযোগও তৈরি হয়। তাই পুজোর আয়োজন শুধু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেই নয়, স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অনুদানের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে প্রতিটি পুজো কমিটির প্রয়োজন, পরিকল্পনা এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহারের উপর। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিবেশবান্ধব আয়োজনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠান শেষে প্রদীপ সরদার সকলকে শারদীয়ার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তাঁর বার্তায় উঠে আসে, দুর্গাপুজো হোক সকলের আনন্দের উৎসব। জাতি, ধর্ম, সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে মানুষ যেন একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন এবং উৎসবের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
ঝড়খালি কোস্টাল থানা এলাকার পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদানের এই কর্মসূচি দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে নতুন উৎসাহ তৈরি করেছে। সরকারি আর্থিক সহায়তা, পুজো কমিটিগুলির উদ্যোগ এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় উৎসবের আয়োজন আরও সুন্দর হয়ে উঠবে—এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে ঝড়খালিতে পুজো কমিটিগুলির হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়ার কর্মসূচি উৎসবের প্রস্তুতি ও স্থানীয় সামাজিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পুজোর আনন্দ সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক, সম্প্রীতি অটুট থাকুক এবং উৎসবের দিনগুলি হয়ে উঠুক আনন্দময়—এই বার্তাই উঠে এসেছে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।