নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : মানুষের সেবাই প্রকৃত ধর্ম, মানবকল্যাণই জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্রত—এই আদর্শকে সামনে রেখে ফলতা রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত হল নর-নারায়ণ সেবার মহতী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। মানবসেবা, সমাজকল্যাণ এবং আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মেলবন্ধনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে নিজের আনন্দ ও গর্বের কথা তুলে ধরেন বিধায়ক।
নর-নারায়ণ সেবার মূল ভাবনা হল মানুষের মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করা এবং অসহায়, দুঃস্থ ও প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে মানবকল্যাণকে যুক্ত করে এই আদর্শ দীর্ঘদিন ধরে সমাজে সেবা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা বহন করে আসছে। ফলতা রামকৃষ্ণ মিশনের এই উদ্যোগ সেই মানবিক মূল্যবোধকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা মানবসেবার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের মূল ভাবনায় উঠে আসে—মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপন্ন মানুষের দুঃখ-কষ্ট উপলব্ধি করা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের কল্যাণে কাজ করাই প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়।
মানুষের সেবা কেবল কোনও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দৈনন্দিন জীবনে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষুধার্তকে আহার দেওয়া, অসুস্থ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা এবং বিপদের সময় মানুষের হাত শক্ত করে ধরার মধ্য দিয়েই মানবতার প্রকৃত প্রকাশ ঘটে। নর-নারায়ণ সেবার দর্শন সেই চেতনাকেই প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
ফলতার বিধায়ক হিসেবে এই ধরনের উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে পেরে দেবাংশু পাণ্ডা নিজের আপ্লুত ও গর্বিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে মানবকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বানের বার্তাও প্রতিফলিত হয়েছে।
রামকৃষ্ণ ভাবধারায় মানুষের সেবা ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের প্রচারিত ‘জীবে প্রেম, শিবজ্ঞানে জীবসেবা’ আদর্শ মানুষকে অন্যের মধ্যে ঈশ্বরের প্রকাশ উপলব্ধি করতে শেখায়। এই দর্শনে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং নিঃস্বার্থ সেবাকে আধ্যাত্মিক সাধনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নর-নারায়ণ সেবার মাধ্যমে সেই আদর্শ বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হয়। সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এই সেবার অন্যতম উদ্দেশ্য। ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও সামাজিক কর্তব্যবোধও এই ভাবনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
ফলতা রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান তাই শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় কর্মসূচি নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরারও একটি উপলক্ষ।
বর্তমান সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কারণে বহু মানুষ প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এই পরিস্থিতিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা যত প্রসারিত হবে, সমাজে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ তত শক্তিশালী হবে।
নর-নারায়ণ সেবার মতো উদ্যোগ মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে মানবকল্যাণ কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়। সমাজের প্রত্যেক মানুষেরই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কারও হাতে খাবার তুলে দেওয়া, প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাহায্য করা কিংবা বিপদগ্রস্ত মানুষের কথা মন দিয়ে শোনা—প্রতিটি ছোট উদ্যোগই বৃহত্তর মানবিক পরিবর্তনের অংশ হতে পারে।
ফলতা রামকৃষ্ণ মিশনের এই কর্মসূচিতে বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার উপস্থিতি এবং মানবসেবার আদর্শের প্রতি তাঁর বক্তব্য অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও সামনে এনেছে।
মানবতার জয়গানই নর-নারায়ণ সেবার মূল বার্তা। মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করার প্রচেষ্টা, অসহায়ের মুখে হাসি ফোটানো এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই এই আদর্শের বাস্তব রূপ প্রকাশ পায়।
ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার বক্তব্যে উঠে আসা সেবা, মানবতা ও মানবকল্যাণের ভাবনা সমাজে ইতিবাচক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। ধর্মীয় বিশ্বাস যে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং নিঃস্বার্থ সেবার মধ্য দিয়েও প্রকাশ পেতে পারে, এই অনুষ্ঠান সেই বার্তাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
সব মিলিয়ে, ফলতা রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত নর-নারায়ণ সেবার এই মহতী অনুষ্ঠান মানবতা, সহমর্মিতা ও সমাজকল্যাণের আদর্শকে নতুন করে তুলে ধরল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে আপ্লুত ও গর্বিত ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। ‘জীবে প্রেম, শিবজ্ঞানে জীবসেবা’—এই আদর্শকে সামনে রেখে মানুষের কল্যাণে আরও বেশি মানুষ এগিয়ে আসুক, এটাই এই উদ্যোগের মূল তাৎপর্য।