Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
ফলতা ও রামনগর তর্পণ ঘাটে পুণ্যার্থীদের পাশে বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা, রাত জেগে সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা   •   মহালয়ার ভোরে জেগে ওঠে বাঙালির হৃদয়: চণ্ডীপাঠ, শিউলির সুবাস আর মা দুর্গার আগমনে নতুন আশার আলো   •   ডারবান টেস্টে প্রোটিয়া পেসারদের দাপট! প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা   •   নিউজিল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা! ভারতের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের সিরিজে খেলতে পারবেন না দলের পেসার   •   নদিয়ার রানাঘাট-ধানতলা থেকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে নানা ধরনের ফুল! ফুল চাষে স্বনির্ভরতার নতুন দিশা কৃষকদের   •   ধানের বদলে শোলা চাষে বাড়তি লাভ! মন্দিরবাজারের কৃষকদের আত্মনির্ভরতার নতুন পথ, পুজোর মরশুমে বাড়ছে চাহিদা

ধানের বদলে শোলা চাষে বাড়তি লাভ! মন্দিরবাজারের কৃষকদের আত্মনির্ভরতার নতুন পথ, পুজোর মরশুমে বাড়ছে চাহিদা

10 Oct 2026
04:51 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  দুর্গাপুজো মানেই বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি, আর সেই উৎসবের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে শোলার তৈরি নানা সামগ্রী। প্রতিমার সাজসজ্জা থেকে শুরু করে ডাকের সাজ, ফুল, মালা, মুকুট এবং বিভিন্ন পুজোর উপকরণ—শোলার ব্যবহার দীর্ঘদিনের। আর এই শোলাকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মন্দিরবাজার ব্লকের একাধিক গ্রামের কৃষকদের জীবিকায় এসেছে নতুন সম্ভাবনা। ধান চাষের পাশাপাশি শোলা চাষ করে আত্মনির্ভর হয়ে উঠছেন এলাকার বহু কৃষক। বিশেষ করে পুজোর মরশুমে শোলার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন বাড়তি আয়ের আশার কথা।

মন্দিরবাজার ব্লকের কেচারপুর, চাঁদপুর ও চৈতন্যপুর-সহ একাধিক এলাকায় ধানের জমিতে শোলা চাষ করতে দেখা যায়। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ধান চাষের তুলনায় শোলা চাষে খরচ কম এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি। সেই কারণেই অনেক কৃষক বিকল্প চাষ হিসেবে শোলার দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে শোলার চাহিদা বাড়ায় এই চাষকে ঘিরে তাঁদের প্রত্যাশাও বেড়েছে।

ধানের জমিতে শোলা চাষ, বিকল্প আয়ের সন্ধানে কৃষকরা

কৃষিকাজে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং ফসলের বাজারদরের ওঠানামার কারণে অনেক কৃষকই বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন। মন্দিরবাজার ব্লকের কয়েকটি গ্রামে শোলা চাষ সেই বিকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

কেচারপুর, চাঁদপুর ও চৈতন্যপুরের মতো এলাকায় কৃষকরা ধানের জমি ব্যবহার করে শোলা চাষ করছেন। স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চাষে তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উৎসবের মরশুমে বাজারে চাহিদা বাড়লে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

তবে চাষের প্রকৃত লাভ নির্ভর করে জমির পরিমাণ, উৎপাদন, শ্রমের খরচ, আবহাওয়া এবং বাজারদরের উপর। তাই প্রত্যেক কৃষকের ক্ষেত্রে লাভের অঙ্ক এক রকম নাও হতে পারে। তা সত্ত্বেও স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতায় শোলা চাষ তাঁদের বিকল্প আয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে।

দুর্গাপুজোর আগে শোলার চাহিদা তুঙ্গে

শরৎকাল এলেই বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ থেকে মণ্ডপসজ্জা—বিভিন্ন কাজে শোলার তৈরি সামগ্রীর চাহিদা থাকে। শোলার হালকা ও সহজে কাটা যায় এমন গঠন শিল্পীদের নানা ধরনের নকশা তৈরি করতে সাহায্য করে। প্রতিমার অলংকার, মুকুট, ফুল, মালা এবং অন্যান্য সাজসজ্জার সামগ্রী তৈরিতে এই উপাদানের ব্যবহার রয়েছে।

এই উৎসবকেন্দ্রিক চাহিদাই মন্দিরবাজারের কৃষকদের কাছে শোলা চাষকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কৃষকদের দাবি, এ বছর শোলার চাহিদা বেশি এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ভালো লাভের সম্ভাবনাও রয়েছে। পুজোর আগে বাজারে চাহিদা বাড়লে কৃষক ও শোলা সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন উপকৃত হতে পারেন।

শুধু দুর্গাপুজো নয়, বাংলার অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনেও শোলার তৈরি সামগ্রীর ব্যবহার রয়েছে। ফলে শোলাকে ঘিরে একটি নির্দিষ্ট বাজার তৈরি হয়েছে, যার সঙ্গে কৃষি ও কুটিরশিল্পের যোগসূত্র রয়েছে।

শোলা চাষে আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন

মন্দিরবাজার ব্লকের কৃষকদের কাছে শোলা চাষ শুধু একটি বিকল্প ফসল নয়, বরং বাড়তি আয়ের সম্ভাবনাও। কৃষকদের দাবি, ধান চাষের তুলনায় কম খরচে শোলা উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় এই চাষ তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির পাশাপাশি বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও একটি ফসলের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চাষের ধরন বেছে নিতে পারলে কৃষকদের আর্থিক ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। শোলা চাষের ক্ষেত্রেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে এই চাষকে আরও লাভজনক করতে হলে উন্নত চাষপদ্ধতি, সঠিক সময়ে ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং ন্যায্য বাজারদর পাওয়ার সুযোগ থাকা জরুরি। পাশাপাশি কৃষকদের সরাসরি শোলার সামগ্রী প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলে মধ্যস্বত্বভোগীদের উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে।

কৃষি ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পের মেলবন্ধন

শোলা চাষের সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। একদিকে কৃষকরা জমিতে শোলা উৎপাদন করেন, অন্যদিকে শিল্পীরা সেই শোলা ব্যবহার করে তৈরি করেন বিভিন্ন নান্দনিক সামগ্রী। এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যে বাজারের সংযোগ যত মজবুত হবে, ততই কৃষক ও শিল্পী—উভয়ের উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

মন্দিরবাজারের মতো গ্রামীণ এলাকায় শোলা চাষের প্রসার স্থানীয় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে। চাষ, সংগ্রহ, পরিবহণ, বিক্রি এবং শোলার সামগ্রী তৈরির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে কৃষি দপ্তরের পরামর্শ, বাজারের নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং স্থানীয় কৃষক সংগঠনগুলির সহযোগিতা পেলে শোলা চাষকে আরও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে।

এ বছর লাভের আশায় কৃষকরা

চলতি পুজোর মরশুমে শোলার চাহিদা বেশি বলে দাবি করেছেন মন্দিরবাজার ব্লকের কৃষকদের একাংশ। তাঁদের আশা, বাজারে ভালো চাহিদা থাকলে এ বছর বিক্রিও ভালো হবে এবং লাভের অঙ্ক বাড়বে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ, বিক্রির প্রকৃত দাম এবং চাষের মোট খরচের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকায় এ বছরের লাভ কতটা বেড়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তবুও কেচারপুর, চাঁদপুর ও চৈতন্যপুরের কৃষকদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছে বিকল্প চাষের গুরুত্ব। সঠিক বাজার এবং উপযুক্ত সহায়তা পেলে শোলা চাষ আগামী দিনে আরও কৃষকের কাছে আয়ের একটি সম্ভাবনাময় মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, মন্দিরবাজার ব্লকের শোলা চাষ বাংলার কৃষি ও ঐতিহ্যবাহী পুজোশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র। ধানের পাশাপাশি শোলা চাষ করে বাড়তি আয়ের চেষ্টা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। পুজোর মরশুমে চাহিদা ও ভালো দামের প্রত্যাশায় তাঁদের চোখ এখন বাজারের দিকে।