নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: মহালয়ার পবিত্র প্রভাতে পিতৃপুরুষদের স্মরণ করে বাগবাজার মায়ের ঘাটে তর্পণ করলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মহালয়ার এই বিশেষ দিনে গঙ্গার ঘাটে তর্পণের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। দেবীপক্ষের সূচনাকে ঘিরে যখন বাংলার ঘরে ঘরে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখন মহালয়ার সকালে এই ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে শারদীয় আবহে সামিল হলেন রাজ্য সভাপতি।
বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে মহালয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহালয়ার দিন বহু মানুষ গঙ্গা-সহ বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের ঘাটে গিয়ে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করেন। পূর্বপুরুষদের স্মরণ, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই প্রাচীন ধর্মীয় প্রথা।
সেই ঐতিহ্য মেনেই মহালয়ার সকালে কলকাতার বাগবাজার মায়ের ঘাটে তর্পণ করতে দেখা যায় শমীক ভট্টাচার্যকে। গঙ্গার ঘাটে মহালয়ার এই আচার পালনের মধ্য দিয়ে পিতৃপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর রীতিতে অংশ নেন তিনি।
মহালয়া মানেই পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার আবেগঘন মুহূর্ত। ভোরের চণ্ডীপাঠ, মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্র, গঙ্গার ঘাটে তর্পণ এবং শরতের প্রকৃতিতে শিউলি-কাশফুলের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এই দিনটি বাঙালির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
মহালয়ার হাত ধরেই দুর্গাপুজোর অপেক্ষা আরও গভীর হয়ে ওঠে। শহর কলকাতা থেকে গ্রামবাংলা, সর্বত্রই শুরু হয় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা, কেনাকাটা এবং উৎসবের নানা আয়োজনের মধ্যে মহালয়ার সকাল বাঙালির মনে নতুন করে জাগিয়ে তোলে শারদোৎসবের আনন্দ।
তর্পণ শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বহু মানুষের কাছে এটি পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রীতি মহালয়ার দিন বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বাগবাজার মায়ের ঘাটে শমীক ভট্টাচার্যের তর্পণকে কেন্দ্র করে মহালয়ার সকালে কলকাতার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবহের একটি বিশেষ মুহূর্ত সামনে এল। দেবীপক্ষের সূচনায় পিতৃপুরুষদের স্মরণ এবং দুর্গাপুজোর আগমনী বার্তা—দুইয়ের মেলবন্ধনেই বাঙালির মহালয়া পূর্ণতা পায়।