নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কুল গাছে ফুলের পর ছোট ছোট ফল আসতে শুরু করে। এই সময় গাছের সঠিক পরিচর্যা করলে ফলন যেমন বাড়ে, তেমনই ফলের আকার ও গুণমানও ভালো হয়। তাই এই পর্যায়ে নিয়মিত নজর রাখা জরুরি।
সেচ: মাটির আর্দ্রতা বুঝে পরিমিত জল দিতে হবে। অতিরিক্ত জল জমে থাকলে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার দীর্ঘদিন মাটি শুকিয়ে থাকলেও ফুল ও ছোট ফল ঝরে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
সার প্রয়োগ: ফল ধরার সময় গাছের পুষ্টির চাহিদা বাড়ে। মাটির অবস্থা অনুযায়ী জৈব সার বা পচা গোবর ব্যবহার করা যেতে পারে। রাসায়নিক সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
আগাছা পরিষ্কার: গাছের গোড়ার আশপাশের আগাছা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এতে মাটির পুষ্টি ও জল নিয়ে আগাছার সঙ্গে গাছের প্রতিযোগিতা কমবে।
পোকামাকড় ও রোগের নজরদারি: ছোট ফল আসার সময় ফলমাছি, মিলিবাগসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। পাতায় দাগ, পাতা কুঁকড়ে যাওয়া, ফলের গায়ে ক্ষত বা পচন দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আক্রান্ত অংশ আলাদা করে নষ্ট করা এবং প্রয়োজনে কৃষি দফতরের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডালপালা ছাঁটাই ও পরিচ্ছন্নতা: গাছের শুকনো, রোগাক্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ডাল থাকলে পরিষ্কার করে দিতে হবে। তবে ফলধারণকারী সুস্থ ডাল অযথা কেটে ফেলা উচিত নয়।
ফল ঝরে পড়া রোধ: অতিরিক্ত জল, পুষ্টির ঘাটতি, রোগ-পোকার আক্রমণ কিংবা আবহাওয়ার পরিবর্তনে ছোট ফল ঝরে যেতে পারে। তাই এই সময় গাছকে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং সুষম পরিচর্যা দিতে হবে।
কৃষিবিদদের মতে, ফুল থেকে ফল ধরার এই সময়টাই কুল গাছের ফলন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরিমিত সেচ, সঠিক পুষ্টি এবং রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গাছকে সুস্থ রাখা গেলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা বাড়ে।