নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: জলঘাটতি প্রবণ এলাকায় কৃষকদের জন্য মসুর চাষে বেড পদ্ধতি নতুন সম্ভাবনার দিশা দেখাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে কম জল ব্যবহার করেই মসুর চাষ করা সম্ভব। পাশাপাশি চাষের খরচ কমানোর সঙ্গে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে কৃষি মহলে দাবি করা হচ্ছে।
বেড পদ্ধতিতে জমিকে উঁচু বেড এবং মাঝখানে নালা তৈরি করে চাষ করা হয়। এর ফলে জমিতে অতিরিক্ত জল দেওয়ার প্রয়োজন হয় না এবং সেচের জল নির্দিষ্টভাবে গাছের গোড়ায় পৌঁছানো যায়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় সেচের জলের সংকট রয়েছে, সেখানে এই পদ্ধতি কৃষকদের জন্য কার্যকর হতে পারে।
প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় বেড পদ্ধতিতে জল ব্যবস্থাপনা সহজ হওয়ায় সেচের খরচও কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে জমির নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো থাকায় গাছের বৃদ্ধি এবং ফসলের পরিচর্যায় সুবিধা পাওয়া যায়। সঠিক পরিচর্যা ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চললে ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও রয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমবর্ধমান জলসংকটের পরিস্থিতিতে কম জলে বেশি উৎপাদন এখন কৃষিক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সেই দিক থেকে বেড পদ্ধতিতে মসুর চাষ কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
তাই জলঘাটতি অঞ্চলের কৃষকদের বেড পদ্ধতিতে মসুর চাষ সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং স্থানীয় কৃষি দফতরের পরামর্শ নিয়ে এই পদ্ধতি গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কম জল, কম খরচ এবং সম্ভাব্য বেশি ফলনের লক্ষ্যে বেড পদ্ধতিতে মসুর চাষ কৃষিতে নতুন দিশা দেখাতে পারে।