নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি ধানের অন্যতম নাম তুলাইপাঞ্জি। উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ ও ইটাহার-সহ বিভিন্ন এলাকায় এই ধানের চাষ হয়ে থাকে। স্বতন্ত্র সুগন্ধ, সরু দানা এবং বিশেষ স্বাদের জন্য তুলাইপাঞ্জি চালের আলাদা পরিচিতি রয়েছে।
তুলাইপাঞ্জি শুধু একটি ধান নয়, উত্তর দিনাজপুরের কৃষি ও সংস্কৃতির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী ফসল। রান্নার পর এর বিশেষ সুগন্ধ এবং স্বাদের কারণে সাধারণ ভাতের পাশাপাশি পোলাও ও পায়েস তৈরিতেও এই চালের ব্যবহার রয়েছে।
এই ধানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য তার সুগন্ধ। উত্তর দিনাজপুরে উৎপাদিত তুলাইপাঞ্জি দীর্ঘদিন ধরেই স্বাদ ও গন্ধের জন্য পরিচিত। ২০১৭ সালে তুলাইপাঞ্জি জিআই (Geographical Indication) নথিভুক্তি পায়, যা এই ধানের স্বাতন্ত্র্যকে আরও স্বীকৃতি দেয়।
কৃষকদের কাছেও তুলাইপাঞ্জি গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল। অন্যান্য ধানের তুলনায় ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারে তুলাইপাঞ্জির চাহিদা ও দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় এই ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ রয়েছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তুলাইপাঞ্জিকে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি চাল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এবং এর বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্য বলে জানানো হয়েছে।
উত্তর দিনাজপুরের মাটিতে কৃষকের পরিশ্রম আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা চাষের ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে তুলাইপাঞ্জি আজ বাংলার অন্যতম পরিচিত সুগন্ধি ধান। স্বাদে, গন্ধে এবং ঐতিহ্যে—তুলাইপাঞ্জি উত্তর দিনাজপুরের এক গর্বের নাম।