নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : শিলদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল পরিকাঠামো ও অপর্যাপ্ত পরিষেবা ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি উঠলেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে নিত্যদিন দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
বর্তমানে শিলদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যার সংখ্যা মাত্র ১০টি। অথচ প্রতিদিনই আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে বহু রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। রোগীর তুলনায় বেডের সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় অনেককেই মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু ও প্রসূতি রোগীদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই অপর্যাপ্ত। পর্যাপ্ত বেড, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সমস্যার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বহু রোগীকেই দূরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের এই দুরবস্থার কথা সামনে আসতেই কয়েকদিন আগে শিলদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে যান এলাকার বিধায়ক প্রণত টুডু। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। রোগীদের সমস্যার কথা শুনে হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনের পর বিধায়ক প্রণত টুডু জানান, হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের নজরে আনা হবে। শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং চিকিৎসা পরিষেবা আরও উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
তবে আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। কারণ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। পর্যাপ্ত বেড, উন্নত পরিকাঠামো ও মানসম্মত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
এখন দেখার, বিধায়কের আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং শিলদা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে প্রশাসন কতটা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।:::