নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - পুরুলিয়ার DVC তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন শতাধিক ছাইবোঝাই ট্রাক বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করছে। তবে এই ছাই পরিবহনকে ঘিরে ক্রমেই বাড়ছে দূষণের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, ট্রাকগুলিতে ত্রিপল দিয়ে ছাই ঢেকে রাখা হলেও নিচের অংশ দিয়ে ছাই রাস্তায় পড়ে যাচ্ছে, যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা ধুলো ও ছাইয়ের আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডিসেরগড় থেকে নিয়ামতপুর নিউ রোড হয়ে চিত্তরঞ্জন পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার উপর প্রতিদিন ছাই জমে থাকছে। ভারী ট্রাক চলাচলের সময় সেই ছাই বাতাসে উড়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পথচারী, বাইক ও গাড়িচালক, এমনকি রাস্তার ধারের দোকানদাররাও চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন। অনেকের শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালাপোড়া ও ধুলোজনিত শারীরিক অসুবিধার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
শুধু মানুষই নয়, রাস্তার ধারের বাড়িঘর, দোকানপাট ও গাছপালাও প্রতিদিন ছাইয়ের স্তরে ঢেকে যাচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমান ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র ত্রিপল দিয়ে ট্রাক ঢেকে রাখলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ছাই যাতে রাস্তায় না পড়ে, তার জন্য উন্নত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত নজরদারি জরুরি।
এদিকে, রবিবার কুলটি থানার নিয়ামতপুর ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছাই পরিবহনের নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে দুটি ট্রাককে জরিমানা করে। পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে তাঁদের দাবি, মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে ছাই পরিবহন নিশ্চিত করলেই এই দূষণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবহন সংস্থাগুলি এই অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না। কারণ স্থানীয়দের মতে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।