Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
পঞ্চায়েত ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পর্যালোচনা বৈঠক, ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে গতি আনার নির্দেশ   •   উদ্ধার হচ্ছে বিপুল অঙ্কের নগদ টাকা, প্রশ্নের মুখে দুর্নীতির অভিযোগ: সাধারণ মানুষের প্রাপ্য অর্থ কোথায় গেল?   •   কয়লা খনির বিস্ফোরণে কি ঘরবাড়িই মৃত্যুফাঁদ? ছাদ ভেঙে মহিলার মাথায় আছড়ে পড়ল পাথর, বিক্ষোভে স্তব্ধ বনজেমারি ওসিপি   •   আইসিসি উইমেনস ইমার্জিং নেশন্স ট্রফির প্রস্তুতিতে শ্রীলঙ্কা, দলের নেতৃত্বে নতুন মুখ হর্ষিতা সমরবিক্রমা   •   ছটপুজোর আগে দক্ষিণ কলকাতায় প্রায় ৫০টি ঘাট তৈরির উদ্যোগ, যোধপুর পার্কে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল   •   খড়গপুরে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ধুলোর ঘূর্ণি! মুহূর্তে আকাশে উঠে গেল

পঞ্চায়েত ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পর্যালোচনা বৈঠক, ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে গতি আনার নির্দেশ

04 Nov 2026
01:32 PM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নকে আরও গতিশীল করতে কলকাতার পঞ্চায়েত ভবনে গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার পঞ্চায়েত ও রুরাল ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ-সহ দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘বিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা VB-G RAM G-এর বাস্তবায়ন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-সহ গ্রামীণ উন্নয়নের অন্যান্য প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করাই ছিল বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিভিন্ন জেলার কাজের অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিসংখ্যান এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পগুলির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ওপর গুরুত্ব দেন বলে বৈঠক-পরবর্তী প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গিয়েছে।

১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পে বিশেষ নজর

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল VB-G RAM G প্রকল্প। এই কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ এলাকার যোগ্য পরিবারগুলিকে বছরে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের নিজস্ব এলাকায় কাজের ব্যবস্থা করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকের পর জানান, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে চলতি অর্থবর্ষে ২২ কোটি শ্রমদিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৬৫.৬২ লক্ষ শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে এবং প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় কাজ পাচ্ছেন। প্রকল্পের অগ্রগতি বজায় রেখে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা

গ্রামীণ এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি হলে একদিকে যেমন মানুষের হাতে আয় আসবে, অন্যদিকে তেমনই শহরমুখী শ্রমিকের চাপও কমতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বৈঠক-পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদেরও নিজেদের রাজ্যে ফিরে এসে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, VB-G RAM G প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় কাজের সুযোগ রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে থেকে নিজের এলাকাতেই কাজ করার সুযোগকে কাজে লাগানোর বার্তা দেন তিনি। প্রকল্পের অধীনে জবকার্ডধারীদের জন্য বার্ষিক ৩৪,৫০০ টাকা আয়ের নিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পঞ্চায়েত দপ্তরে নিয়োগের উদ্যোগ

গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পঞ্চায়েত ও রুরাল ডেভেলপমেন্ট দপ্তরের প্রশাসনিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রায় ৭,১৯০টি শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে এবং ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে তা শেষ করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ ছাড়াও দপ্তরের তাৎক্ষণিক কর্মী-সংকট সামাল দিতে প্রায় এক হাজার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে কর্মী নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ব্লক এবং জেলা স্তর পর্যন্ত প্রকল্পের পরিকল্পনা, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত কর্মী থাকা জরুরি।

গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর

শুধু কর্মসংস্থান তৈরি করাই নয়, গ্রামাঞ্চলে স্থায়ী সম্পদ ও উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাস্তা, নিকাশি, জলসম্পদ এবং অন্যান্য গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই প্রকল্পের অর্থ যাতে নির্দিষ্ট সময়ে এবং সঠিক কাজে ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, দপ্তরের লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকায় স্থায়ী সম্পদ তৈরি করা। আগামী দুই বছরের মধ্যে গ্রামের সামগ্রিক পরিকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। এই লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাজও পর্যালোচনায়

বৈঠকে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হয়। গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও যোগ্য পরিবারগুলির জন্য পাকা বাড়ি তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এই প্রকল্প পরিচালিত হয়। ফলে উপভোক্তা নির্বাচন, প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছয়, সেই বিষয়গুলিও প্রশাসনিক পর্যালোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। কোথাও প্রশাসনিক জটিলতা বা কাজের গতি কম থাকলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। পঞ্চায়েত ভবনের বৈঠকে এই ধরনের বিষয়গুলিও আলোচনায় এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

আগামী দিনে পঞ্চায়েত দপ্তরকে মডেল করার লক্ষ্য

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকের পর পঞ্চায়েত ও রুরাল ডেভেলপমেন্ট দপ্তরকে আগামী দুই বছরের মধ্যে রাজ্যের একটি মডেল দপ্তর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথা জানান। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন—এই বিষয়গুলির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং দপ্তরের আধিকারিকদের সামনে এখন বড় দায়িত্ব হল ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রাগুলিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। শুধু বৈঠকে পরিকল্পনা গ্রহণ করলেই হবে না, সেই পরিকল্পনার সুফল যাতে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

নজর এখন বাস্তবায়নের দিকে

পঞ্চায়েত ভবনের এই পর্যালোচনা বৈঠককে রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান কর্মসূচির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে নির্ধারিত শ্রমদিবস তৈরি, পঞ্চায়েত দপ্তরের শূন্যপদ পূরণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আবাসন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে একাধিক লক্ষ্যমাত্রা সামনে রাখা হয়েছে।

এখন দেখার, বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি কত দ্রুত মাঠপর্যায়ে কার্যকর হয়। কারণ প্রকল্পের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে গ্রামের শ্রমজীবী মানুষ কতটা কাজ পাচ্ছেন, যোগ্য পরিবারগুলি কতটা সরকারি সুবিধা পাচ্ছে এবং গ্রামীণ পরিকাঠামোর কতটা উন্নতি হচ্ছে তার ওপর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাই নজর থাকবে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের মানুষের।