নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ঐতিহ্য, ধর্মীয় আবেগ ও উৎসবের মেলবন্ধনে আমতা-২ ব্লকের ‘লক্ষ্মীগ্রাম’ খালনায় অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, বিধায়ক অমিত সামন্ত, চিরন বেরা, বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপির সভাপতি দেবাশিস সামন্ত-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী।
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো বাংলার অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় উৎসব। দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার মধ্য দিয়ে পরিবারে সুখ, সমৃদ্ধি, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন ভক্তরা। সেই ধর্মীয় আবেগকে কেন্দ্র করেই খালনায় এই ঐতিহ্যবাহী পুজো স্থানীয় মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
বাংলার ঘরে ঘরে কোজাগরী পূর্ণিমায় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন দেবী লক্ষ্মীর পূজা করলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসে। গ্রামবাংলায় এই পুজোকে ঘিরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক মিলনমেলার পরিবেশও তৈরি হয়। বহু জায়গায় স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে পুজোর আয়োজন করা হয় এবং উৎসবকে কেন্দ্র করে একত্রিত হন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
আমতা-২ ব্লকের খালনার ঐতিহ্যবাহী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোও সেই ধর্মীয় ও সামাজিক পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত। পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। স্থানীয় মানুষের কাছে এই ধরনের উৎসব ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার একটি উপলক্ষ।
খালনার পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং বিধায়ক অমিত সামন্ত ও চিরন বেরার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপির সভাপতি দেবাশিস সামন্ত। তাঁদের পাশাপাশি বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তীর উপস্থিতিও অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল।
বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এলাকার মানুষের সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে দুর্গাপুজো, কালীপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণের নজির রয়েছে। এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন এবং উৎসবের আনন্দে সামিল হন।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বহু এলাকার মানুষের কাছে এটি সামাজিক মিলন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। পুজোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ে এবং নতুন প্রজন্ম নিজেদের এলাকার ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
খালনার এই ঐতিহ্যবাহী পুজোকে ঘিরেও স্থানীয় মানুষের আবেগ ও আগ্রহের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে এলাকার ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার গুরুত্ব বারবার সামনে আসে।
আমতা-২ ব্লকের খালনায় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি এলাকার উৎসবের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। মন্ত্রী, বিধায়ক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার মধ্য দিয়ে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনায় সামিল হন ভক্তরা। বাংলার লোকাচার ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর গুরুত্ব আজও অটুট। খালনার এই পুজোও সেই ঐতিহ্যেরই একটি পরিচিত উদাহরণ, যেখানে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মিলন ও উৎসবের আনন্দ বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।