Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
নদীর চর কি সুন্দরবনবাসীর আশীর্বাদ, নাকি অভিশাপ? মুড়িগঙ্গা ও গোসাবার দুর্ঘটনা ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন   •   মগরাহাট পশ্চিমে রাজবল্লভপুর বাজারের বিজেপি কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শুনলেন দলীয় কার্যকর্তারা   •   জিও আইপিও ঘিরে আগ্রহ, টেলিকম পরিষেবার বাইরেও বিস্তৃত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনা   •   নিয়ামতপুর বাজারে ফুড সেফটি দফতর ও পুলিশের যৌথ অভিযান, ফেলে দেওয়া হল মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা ও রং মেশানো খাবার   •   আমতা-২-এর ‘লক্ষ্মীগ্রাম’ খালনায় ঐতিহ্যবাহী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধন, উপস্থিত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও লকেট চট্টোপাধ্যায়   •   দাসপুরের সাগরপুরে ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলার উদ্বোধন, উপস্থিত পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

অতিরিক্ত ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্টে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিপদ এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

25 Oct 2026
10:15 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণের আশায় অনেকেই নিয়মিত ভিটামিন ও বিভিন্ন ধরনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। ব্যস্ত জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস কিংবা শারীরিক দুর্বলতা থেকে মুক্তি পেতে অনেকের কাছেই এই ধরনের পুষ্টি-সহায়ক উপাদান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে তা শরীরের উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। ভিটামিনজনিত বিষক্রিয়া, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া এবং কিডনির ক্ষতির মতো জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি উপাদানের নির্দিষ্ট চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা পূরণ করার জন্য সুষম খাদ্যই সাধারণত প্রধান ভরসা। কোনও ব্যক্তির শরীরে নির্দিষ্ট ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে বা বিশেষ কোনও শারীরিক পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বেশি মাত্রায় ভিটামিন খাওয়া নিরাপদ নয়।

অতিরিক্ত ভিটামিনে হতে পারে বিষক্রিয়া

সব ভিটামিন শরীরে একইভাবে কাজ করে না। ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে চর্বিতে দ্রবণীয়। এগুলি শরীরে সঞ্চিত হতে পারে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন এ অতিরিক্ত গ্রহণ করলে বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং যকৃতের ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ভিটামিন এ গ্রহণ ভ্রূণের বিকাশের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, দুর্বলতা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখার উদ্দেশ্যে নিজের ইচ্ছেমতো বেশি মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণ করা উচিত নয়।

ভিটামিন সি ও বি-কমপ্লেক্সের মতো জলে দ্রবণীয় ভিটামিনের অতিরিক্ত অংশ শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন, এগুলি বেশি মাত্রায় খেলেও কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। অতিরিক্ত ভিটামিন সি গ্রহণে পেটব্যথা, বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়া হতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় ভিটামিন সি কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। আবার দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ভিটামিন বি৬ গ্রহণে স্নায়ুর ক্ষতি, হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কিডনির উপর বাড়তি চাপ

শরীরের বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করে দেওয়া এবং জল ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে কিডনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিছু ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে কিডনির উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণের ফলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। কিছু সাপ্লিমেন্টে থাকা খনিজ উপাদানও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই কিডনির অসুখ, কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস কিংবা অন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থাকলে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।

ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা

ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে কিছু ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর ফলে কোনও ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, আবার কখনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভিটামিন কে-র গ্রহণের পরিমাণে বড় পরিবর্তন রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধের কিছু ওষুধের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। আবার কিছু খনিজ সাপ্লিমেন্ট নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক বা থাইরয়েডের ওষুধের শোষণে বাধা দিতে পারে।

অনেকেই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের পাশাপাশি নিজের পছন্দমতো মাল্টিভিটামিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন কিংবা অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। কিন্তু একাধিক পণ্য একসঙ্গে ব্যবহার করলে একই ভিটামিন বা খনিজের পরিমাণ অজান্তেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত কোনও ওষুধ গ্রহণ করলে নতুন সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে সব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা জানানো উচিত।

পরিপাকতন্ত্রেও দেখা দিতে পারে অস্বস্তি

অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের অন্যতম সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা। কিছু ভিটামিন বা খনিজ বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে আয়রন সাপ্লিমেন্টে অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব হয়। আবার বেশি মাত্রায় ম্যাগনেশিয়াম গ্রহণ করলে ডায়রিয়া হতে পারে।

এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে নিজের ইচ্ছেমতো সাপ্লিমেন্টের মাত্রা বাড়ানো বা অন্য পণ্য যোগ করা উচিত নয়। উপসর্গের কারণ বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি, কারণ ভুল করে অতিরিক্ত আয়রন বা অন্য কোনও সাপ্লিমেন্ট খেয়ে ফেললে গুরুতর বিষক্রিয়া হতে পারে।

সাপ্লিমেন্ট কেনার আগে কী কী দেখবেন?

বাজারে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও পুষ্টি-সহায়ক পণ্য পাওয়া যায়। তবে কোনও পণ্য সহজে পাওয়া যায় বলেই সেটি প্রত্যেকের জন্য প্রয়োজনীয় বা নিরাপদ, এমন নয়। সাপ্লিমেন্ট কেনার আগে উপাদান, প্রতি মাত্রায় কতটা ভিটামিন বা খনিজ রয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবহারের নির্দেশ এবং সতর্কবার্তা ভালো করে পড়া দরকার। একই উপাদান একাধিক পণ্যে থাকলে মোট গ্রহণের পরিমাণ হিসাব করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্থ থাকার জন্য প্রথমেই সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার দিকে নজর দেওয়া উচিত। শরীরে পুষ্টির ঘাটতির সন্দেহ হলে নিজে থেকে সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে চিকিৎসক উপসর্গ, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে সঠিক সাপ্লিমেন্ট ও তার মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেন।

কখন দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি?

সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পর তীব্র বা অব্যাহত বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া কিংবা অন্য কোনও গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত মাত্রায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সন্দেহ হলে প্যাকেট বা বোতলটি সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সহায়ক হতে পারে। শিশু ভুল করে সাপ্লিমেন্ট খেয়ে ফেললে উপসর্গের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা-পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, তবে সঠিক প্রয়োজন ও মাত্রা মেনে গ্রহণ করাই মূল বিষয়। বেশি খেলেই বেশি উপকার হবে—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। সুস্থ থাকার জন্য সচেতন খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারই হতে পারে নিরাপদ পথ।