Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
একজন পুষ্টিবিদের মতে, হলুদ মেশানো জল পানের ৭টি সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা   •   অবিভক্ত ভারতের নোয়াখালীর ইতিহাসের এক টুকরো গল্প, দীপ প্রকাশনের হাত ধরে প্রকাশিত হলো ‘নোয়াখালির সন্তান রুস্তম খান’   •   সপরিবারে বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় দেবদৃতা, অঞ্জলি দিয়ে মায়ের কাছে জানালেন প্রার্থনা   •   বইয়ের স্টলে হামলার প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে বামপন্থীদের বিশাল মিছিল, ‘বই পড়ুন, বই বাঁচান’ স্লোগানে সরব বাম নেতৃত্ব   •   ভারতের বিরুদ্ধে শেষ তিন টি-টোয়েন্টির আগে নিউজিল্যান্ড শিবিরে বড়সড় রদবদল, দলে একাধিক পরিবর্তন   •   দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে ফিরতে প্রস্তুত ক্যামেরন গ্রিন, চোট কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বড় ভরসা অলরাউন্ডার

‘মানুষ জামা বদলানোর জন্য বিজেপিকে ভোট দেয়নি’, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার গঠন নিয়ে মন্তব্য শমীক ভট্টাচার্যের

25 Oct 2026
08:52 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিজেপির নির্বাচনী লড়াই এবং রাজ্যে সরকার গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান ও লড়াইয়ের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, বিজেপি কোনও রাজনৈতিক দলের উপর নির্ভর করে নয়, নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর ভর করেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে দলীয় অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে পরিবর্তনের আশায়। সেই পরিবর্তন শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের পরিচয় বা নেতাদের পোশাক বদলানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশাসন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনাই ছিল মানুষের প্রত্যাশা। তাঁর কথায়, “মানুষ জামা বদলানোর জন্য বিজেপিকে ভোট দেয়নি।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান এবং রাজ্যে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন তিনি।

একক শক্তিতে নির্বাচনী লড়াইয়ের দাবি বিজেপির

বিজেপির নির্বাচনী যাত্রার কথা বলতে গিয়ে ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ সামনে আনেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুই লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি নিজেদের শক্তির উপর নির্ভর করে লড়াই করেছে। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে দলীয় সংগঠন, কর্মীদের ভূমিকা এবং জনসমর্থনকেই বিজেপি প্রধান শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।

রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বিজেপির একক শক্তিতে নির্বাচনে লড়াই করার দাবি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যের মাধ্যমে দলের আত্মবিশ্বাস এবং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির উপর আস্থার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে নির্বাচনী ফলাফল, আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের মতো বিষয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সরকারি তথ্যই চূড়ান্ত ভিত্তি। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যকে তাঁদের নিজস্ব দাবি ও অবস্থান হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চার্জশিটের প্রসঙ্গ তুলে সরব শমীক

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ও চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও নথিভুক্ত মামলার বিষয়কে সামনে রেখেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।

রাজনৈতিক বক্তব্যে অপরাধ, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বিষয়গুলি বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে। বিশেষত নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। বিজেপির বক্তব্যেও সেই রাজনৈতিক অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হওয়া মানেই তাঁর অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা এবং অপরাধের দায় নির্ধারণ করে আদালত। তাই শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যকে বিজেপির রাজনৈতিক দাবি হিসেবে বিবেচনা করাই যুক্তিসংগত।

‘মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে’, রাজনৈতিক বার্তায় গুরুত্ব

“মানুষ জামা বদলানোর জন্য বিজেপিকে ভোট দেয়নি”—শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, নির্বাচনে জনসমর্থন পাওয়ার অর্থ কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; বরং মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা।

রাজনৈতিক মহলে দলবদল, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা হয়। কিন্তু ভোটারদের প্রত্যাশা যে আরও বিস্তৃত, সেই বার্তাই দিতে চেয়েছেন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপির কাছে মানুষের প্রত্যাশা হল এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কাজের মাধ্যমে পরিবর্তনের প্রমাণ দিতে হবে।

এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব বোঝাতে চাইছে, দলের নির্বাচনী সাফল্যকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং সেই সাফল্যের সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্বও যুক্ত রয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার প্রসঙ্গ

শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার প্রসঙ্গেও ইতিবাচক মন্তব্য করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, বিজেপি একক শক্তিতে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সেই সরকার অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছে।

এই বক্তব্যে রাজ্যের সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ভূমিকা এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রাপ্ত জনসমর্থন সরকারকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শক্তি জোগায়।

তবে সরকারের সাফল্য বিচার করতে হলে শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য নয়, কর্মসংস্থান, শিল্প ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা এবং সরকারি পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সরকারের কাজের মূল্যায়নে বিরোধী দল, সাধারণ মানুষ এবং স্বাধীন তথ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজ্যের রাজনীতিতে বাড়ছে বক্তব্যের গুরুত্ব

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত দীর্ঘদিনের। নির্বাচনী প্রচার থেকে শুরু করে সরকার পরিচালনা—বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দলের নেতারা নিয়মিত একে অপরের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যও সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ।

একদিকে বিজেপি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি, নির্বাচনী লড়াই এবং সরকার পরিচালনার সাফল্য তুলে ধরতে চাইছে। অন্যদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অপরাধ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার চেষ্টা করছে দলটি। ফলে এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে উঠে এসেছে—বিজেপির একক শক্তিতে নির্বাচনী লড়াইয়ের দাবি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রসঙ্গ এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার পরিচালনার প্রশংসা। “মানুষ জামা বদলানোর জন্য বিজেপিকে ভোট দেয়নি”—এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্বও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।