নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: এসআইআর (SIR)-এর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া প্রতিটি বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাল সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। আজ ধনেখালি হল্ট স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কোনও বৈধ নাগরিক যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেই দাবিই তুলে ধরেন বিক্ষোভকারীরা।
এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাই করা হলেও, সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার দাবি, সংশোধনের নামে কোনও বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার যেন খর্ব না হয়। যাঁরা প্রকৃতপক্ষে দেশের বৈধ নাগরিক, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকা এবং তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।
এই দাবিকে সামনে রেখেই ধনেখালি হল্ট স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার সদস্যরা। বিক্ষোভের পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কুশপুতুল পোড়ানোর মাধ্যমে নিজেদের প্রতিবাদ জানান তাঁরা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া প্রত্যেক বৈধ নাগরিকের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সরব হন আন্দোলনকারীরা।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার নাগরিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধিকার। নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকেরা নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তাই ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।
সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার এই কর্মসূচির মূল বক্তব্যও সেই জায়গাতেই। সংগঠনের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভুল হওয়া জরুরি। কোনও বৈধ নাগরিকের নাম ভুলবশত বাদ পড়ে থাকলে তাঁকে যথাযথভাবে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে এবং প্রযোজ্য নিয়ম মেনে তাঁর নাম পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
ধনেখালি হল্ট স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল পোড়ানো হয়। এই প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে কোনও বৈধ নাগরিক যেন তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
তবে এই কর্মসূচিতে কতজন অংশ নিয়েছিলেন, ঠিক কতজনের নাম বাদ পড়েছে বলে সংগঠনের দাবি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা এবং বৈধ ভোটারদের অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে ভুলবশত বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। এই দুই দিকের মধ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আপত্তি বা সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা গুরুত্বপূর্ণ।
ধনেখালি হল্ট স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার বিক্ষোভ সেই দাবিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। এসআইআর-এ বাদ পড়া প্রতিটি বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংগঠনের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ধনেখালিতে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধান দাবি ছিল—এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া কোনও বৈধ নাগরিক যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। এখন এই দাবিকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।