নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর শহরের ইন্দা এলাকার রঘুবর আখাড়ায় বিকেলের রাবণ দহনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যস্ত আখাড়ার সদস্যরা। রাবণ দহনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
রাবণ দহন দশেরা বা বিজয়াদশমীর অন্যতম আকর্ষণ। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, রামচন্দ্রের হাতে রাবণের পরাজয় অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই উপলক্ষে রাবণের প্রতিকৃতি দহন করা হয়। এই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে বহু জায়গায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক মিলনমেলার পরিবেশও তৈরি হয়।
খড়গপুরের ইন্দার রঘুবর আখাড়াতেও সেই উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। আখাড়ার সদস্যরা অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। বিকেলের মূল অনুষ্ঠানের আগে আয়োজনের প্রস্তুতি, ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় কাজগুলি সম্পন্ন করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও এই অনুষ্ঠান উৎসবের একটি পরিচিত আকর্ষণ।
রাবণ দহনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বয়সের মানুষের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণ—সকলের কাছেই এই অনুষ্ঠান ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। রাবণ দহনের মধ্য দিয়ে অন্যায়, অহংকার ও অশুভ শক্তির পরাজয় এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার বার্তা তুলে ধরা হয়।
খড়গপুর শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে বিভিন্ন আখাড়া এবং পুজো কমিটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। উৎসব উপলক্ষে তাঁদের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে ওঠে। রঘুবর আখাড়ার এবারের আয়োজনও সেই ঐতিহ্যের অংশ।
বিকেলের রাবণ দহনকে ঘিরে এখন রঘুবর আখাড়ার সদস্যদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের নজরও রয়েছে আখাড়ার দিকে।