নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : গঙ্গাসাগরের কালিবাজার এলাকায় প্রাক্তন সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি স্বপন প্রধানকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। স্থানীয় কয়েকজন মহিলা তাঁকে দেখতে পেয়ে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, গত ৪ তারিখের আগে স্বপন প্রধান ও তাঁর কয়েকজন অনুগামী তাঁদের হুমকি দিয়েছিলেন। বিজেপি করার কারণে তাঁদের কটূক্তি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারী মহিলারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছয় এবং স্বপন প্রধানকে আটক করে বলে জানা গিয়েছে।ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গঙ্গাসাগরের কালিবাজার এলাকায় স্বপন প্রধানকে দেখতে পেয়ে একদল মহিলা তাঁর সামনে জড়ো হন। এরপর তাঁকে ঘিরে ধরে পুরনো ঘটনার জবাব চান তাঁরা। বিক্ষোভকারী মহিলাদের বক্তব্য, অতীতে তাঁদের সঙ্গে যে ধরনের ব্যবহার করা হয়েছিল, তার জবাব তাঁরা এত দিন পাননি। সেই কারণেই তাঁরা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন বলে অভিযোগ।
মহিলাদের অভিযোগ, ৪ তারিখের আগে স্বপন প্রধান ও তাঁর অনুগামীরা তাঁদের উদ্দেশে হুমকিমূলক কথা বলেছিলেন। এমনকী এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও তাঁদের দাবি। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিজেপি কর্মী-সমর্থক হওয়ার কারণে তাঁদের নানা কটূক্তি শুনতে হয়েছিল।
বিক্ষোভকারী মহিলাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁদের ভয় দেখানো ও অপমান করার ঘটনা ঘটেছিল। তাঁদের অভিযোগ, ওই সময় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছিলেন এবং নিজেদের মত প্রকাশ করতেও সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। কালিবাজারে স্বপন প্রধানকে দেখতে পেয়ে তাঁরা সেই পুরনো ঘটনার কথা তুলে ধরে জবাব চান।
মহিলারা কেন এমন অভিযোগ করছেন, অতীতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, সম্ভাব্য নথি এবং পুলিশের বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
এই ঘটনার সঙ্গে নিজের পরিবারের অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গও সামনে এনেছেন বিজেপি কর্মী রাজু মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, স্বপন প্রধানের কারণে তাঁর পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজু মণ্ডলের দাবি, বিজেপি কর্মী হওয়ার কারণেই তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। তাঁর আরও অভিযোগ, জোর করে তাঁর ফিশারির দখল নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে মাছ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
রাজু মণ্ডলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে গিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল। তিনি এই ঘটনার জন্য স্বপন প্রধানকে দায়ী করেছেন। তবে মামলা, ফিশারির দখল, মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এবং গ্রেপ্তার বা কারাবাসের পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনও নথি বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
রাজু মণ্ডলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে সাধারণ কর্মী এবং বিরোধী দলের সমর্থকেরা আগে প্রতিবাদ করতে সাহস পেতেন না। বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, অন্যায়ের অভিযোগ সামনে এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে স্বপন প্রধানকে ঘিরে জবাবদিহির দাবি চলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় বলে জানা গিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং স্বপন প্রধানকে আটক করে বলে সূত্রের দাবি।এরপর বিক্ষোভের মধ্যে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি কর্মী রাজু মণ্ডলের বক্তব্য, অতীতে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ পুরনো ঘটনার জবাব চাইছেন। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতা স্থায়ী নয় এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে স্বপন প্রধান সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
গঙ্গাসাগরের কালিবাজারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলি হল—মহিলাদের অভিযোগের ভিত্তি কী, রাজু মণ্ডলের দাবি কতটা প্রমাণযোগ্য, এবং পুলিশ কী কারণে স্বপন প্রধানকে আটক করেছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ চলাকালীন মারধরের অভিযোগ থাকলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগকারীদের বক্তব্য নথিভুক্ত করা এবং অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া—এই তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত আইনের ভিত্তিতে, জনতার হাতে শাস্তি দিয়ে নয়।