নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। আর সেই তালিকায় বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে ব্রোকলি। দেখতে অনেকটা ফুলকপির মতো হলেও ব্রোকলিতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট, ফাইবার এবং বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগ। কিন্তু ব্রোকলি খেলেই যে তার সমস্ত পুষ্টিগুণ শরীরে পৌঁছবে, এমনটা নয়। কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, কতক্ষণ তাপে রাখা হচ্ছে এবং কতটা জল ব্যবহার করা হচ্ছে—তার উপরেও পুষ্টি ধরে রাখার বিষয়টি নির্ভর করে।
অনেকেই মনে করেন, সবজি ভাপে সেদ্ধ করাই পুষ্টিগুণ বজায় রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়। বাস্তবে ব্রোকলির ক্ষেত্রে অল্প তেলে দ্রুত নাড়াচাড়া করে রান্না করা বা স্টির-ফ্রাই করা একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—ব্রোকলির উপকারী যৌগ সালফোরাফেন তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া রান্নার তাপমাত্রা ও পদ্ধতির দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই শুধু রান্নার একটি পদ্ধতিকে সব পরিস্থিতিতে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ব্রোকলি ক্রুসিফেরাস গোত্রের সবজি। এই গোত্রের অন্যান্য সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও সর্ষে-জাতীয় বিভিন্ন গাছ। ব্রোকলির পুষ্টিগুণের পাশাপাশি এতে থাকা গ্লুকোসিনোলেট নামের যৌগ এবং সেগুলি থেকে তৈরি কিছু উপাদান নিয়েও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের আগ্রহ রয়েছে।
ব্রোকলির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পুষ্টিগুণ হলো:
ভিটামিন সি: শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, কোলাজেন তৈরি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যক্রমে সাহায্য করে।
ভিটামিন কে: স্বাভাবিক রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া এবং হাড়ের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে।
ফোলেট: কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ফাইবার: অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাহায্য করে এবং খাবারের পর পেট ভরা অনুভূতি বজায় রাখতে পারে।
উদ্ভিজ্জ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট: ব্রোকলিতে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরের স্বাভাবিক কোষীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।
তবে মনে রাখতে হবে, ব্রোকলি কোনও রোগের নিশ্চিত প্রতিষেধক নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি খাওয়াই সবচেয়ে উপকারী।