নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: মহালয়া ও দেবীপক্ষের পবিত্র সূচনাকে সামনে রেখে মানবিক উদ্যোগের নজির গড়ল রঙ্গোলি শাড়ি। বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ এবং চলাফেরায় সমস্যার সম্মুখীন ব্যক্তিদের দুর্গাপুজো দর্শন আরও সহজ ও আনন্দময় করে তুলতে একাধিক হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ সমাজের আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা উঠে এল।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পুরনগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। রঙ্গোলি শাড়ির কর্ণধার শ্রী মোহন জৈন এবং তাঁর পুত্র শ্রী নিখিল জৈনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। তাঁদের পক্ষ থেকে মন্ত্রীর হাতে বেশ কয়েকটি হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়, যাতে রাজ্যের বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ, চলাফেরায় অসুবিধার সম্মুখীন প্রবীণ নাগরিক এবং ছোট শিশুরা দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন।
দুর্গাপুজো বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও আনন্দের অন্যতম প্রধান উৎসব। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে যায় উৎসবের প্রস্তুতি। নতুন পোশাক, মণ্ডপ পরিদর্শন, প্রতিমা দর্শন এবং পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে সকলের মধ্যেই। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা বয়সজনিত কারণে অনেকের পক্ষেই সহজে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে পুজো দেখা সম্ভব হয় না।
এই পরিস্থিতিতে হুইলচেয়ার প্রদানের উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর ফলে যাঁদের চলাফেরায় সমস্যা রয়েছে, তাঁদের পুজো দেখতে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার ক্ষেত্রে শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই মানবিক ভাবনাই এই উদ্যোগের মূল বার্তা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল মহালয়া ও দেবীপক্ষের সূচনায় বাংলার সকল মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষভাবে সক্ষম মানুষ, প্রবীণ নাগরিক এবং ছোট শিশুদেরও পুজো দেখার ও নিজেদের ইচ্ছা পূরণের সুযোগ থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যের প্রতিটি মানুষের কথা মাথায় রেখেই কাজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ধর্ম, জাতি কিংবা শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে না দেখে সকলের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা, তাঁদের চলাফেরার সুবিধা বৃদ্ধি এবং উৎসবে সকলের সমান অংশগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
এই মানবিক উদ্যোগের জন্য রঙ্গোলি শাড়ির কর্ণধার শ্রী মোহন জৈন, শ্রী নিখিল জৈন, অভিরূপ এবং তাঁদের সম্পূর্ণ টিমকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান অগ্নিমিত্রা পাল।
সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নেওয়া এই ধরনের উদ্যোগ উৎসবের আনন্দকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে হুইলচেয়ার প্রদানের মতো পদক্ষেপ তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও সামাজিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
দুর্গাপুজো শুধু আনন্দ ও উদ্যাপনের উৎসব নয়, এটি পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা এবং মানবিকতারও প্রতীক। সমাজের প্রতিটি মানুষ যাতে উৎসবে অংশ নিতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করা সকলের দায়িত্ব।
মহালয়ার পবিত্র সূচনায় রঙ্গোলি শাড়ির এই উদ্যোগ সেই বার্তাকেই আরও জোরালো করেছে। বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাঁদের পুজো দেখার ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।