Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
ফলতা ও রামনগর তর্পণ ঘাটে পুণ্যার্থীদের পাশে বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা, রাত জেগে সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা   •   মহালয়ার ভোরে জেগে ওঠে বাঙালির হৃদয়: চণ্ডীপাঠ, শিউলির সুবাস আর মা দুর্গার আগমনে নতুন আশার আলো   •   ডারবান টেস্টে প্রোটিয়া পেসারদের দাপট! প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা   •   নিউজিল্যান্ড শিবিরে বড় ধাক্কা! ভারতের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের সিরিজে খেলতে পারবেন না দলের পেসার   •   নদিয়ার রানাঘাট-ধানতলা থেকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে নানা ধরনের ফুল! ফুল চাষে স্বনির্ভরতার নতুন দিশা কৃষকদের   •   ধানের বদলে শোলা চাষে বাড়তি লাভ! মন্দিরবাজারের কৃষকদের আত্মনির্ভরতার নতুন পথ, পুজোর মরশুমে বাড়ছে চাহিদা

ফলতা ও রামনগর তর্পণ ঘাটে পুণ্যার্থীদের পাশে বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা, রাত জেগে সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা

10 Oct 2026
05:28 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পবিত্র তর্পণ উপলক্ষে ফলতা তর্পণ ঘাটে পুণ্যার্থীদের পাশে দাঁড়ালেন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। পূর্বপুরুষদের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করতে ভোর থেকে তর্পণ ঘাটে ভিড় জমান বহু মানুষ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ঘাটে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পরিষেবা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন বিধায়ক। রাত জেগে পুণ্যার্থীদের পরিষেবা দেওয়া কর্মীদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি।

মহালয়ার পবিত্র আবহে তর্পণ বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বাস ও ঐতিহ্য মেনে বহু মানুষ তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করেন এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় তর্পণ নিবেদন করেন। সেই উপলক্ষে ফলতা তর্পণ ঘাটে পুণ্যার্থীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিশেষ পরিবেশ। শ্রদ্ধা, প্রার্থনা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন আগত মানুষজন।

পুণ্যার্থীদের সেবায় রাত জেগে কর্মীরা, তাঁদের পাশে বিধায়ক

তর্পণ উপলক্ষে ঘাটে আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য যাঁরা রাত জেগে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। পুণ্যার্থীদের নিরাপদে ঘাটে আসা-যাওয়া, প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়া এবং ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে এই কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা তুলে ধরে বিধায়ক জানান, মানুষের সেবায় যাঁরা নিজেদের সময় ও শ্রম উৎসর্গ করেন, তাঁদের কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়।

বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার বক্তব্যের মূল সুর ছিল কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান। পুণ্যার্থীদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য যাঁরা সারারাত জেগে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা করে তিনি গর্ব অনুভব করছেন বলেও জানান। তাঁর এই বার্তায় উৎসব ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নেপথ্যে থাকা কর্মীদের অবদানের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

যে কোনও বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের চোখ থাকে মূল আচার-অনুষ্ঠানের দিকে। কিন্তু তার নেপথ্যে থাকেন বহু কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক, যাঁরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করে গোটা ব্যবস্থাকে সচল রাখেন। তাঁদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি দেওয়া সামাজিক দায়িত্বেরই অংশ।

রামনগর তর্পণ ঘাটেও পূর্বপুরুষদের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য

ফলতার পাশাপাশি রামনগর তর্পণ ঘাটেও পূর্বপুরুষদের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের আবহ তৈরি হয়। ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে সামনে রেখে সেখানে উপস্থিত হন পুণ্যার্থীরা। পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের স্মৃতিকে সম্মান করার মধ্য দিয়ে বাঙালির পারিবারিক সংস্কৃতি ও প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সম্পর্ক আরও একবার সামনে আসে।

রামনগর তর্পণ ঘাটে পুণ্যার্থীদের সঙ্গে থাকার বিষয়টিকে আনন্দের বলে উল্লেখ করেন বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। তাঁর বার্তায় উঠে আসে মানুষের সঙ্গে থাকা, তাঁদের ধর্মীয় আবেগকে সম্মান করা এবং বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার গুরুত্ব।

তর্পণ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়; বহু পরিবারের কাছে এটি পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার একটি আবেগঘন মুহূর্ত। পরিবারের প্রবীণদের স্মৃতি, তাঁদের শিক্ষা এবং তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবোধকে মনে করার মধ্য দিয়ে এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।

ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বন্ধনে অটুট থাকুক বাংলার শিকড়

বাংলার সংস্কৃতি বহু শতাব্দীর ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারিবারিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে। মহালয়া ও তর্পণের মতো আচার সেই ঐতিহ্যেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এলেও এই ধরনের অনুষ্ঠান মানুষের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে সাহায্য করে।

বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার বার্তায় উঠে এসেছে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার আহ্বান। তাঁর মতে, বাংলার সাংস্কৃতিক শিকড়কে সম্মান জানানো এবং সেই ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিকতার বন্ধন আরও শক্তিশালী হওয়াও জরুরি।

তর্পণ ঘাটে পুণ্যার্থীদের উপস্থিতি এবং তাঁদের পরিষেবায় কর্মীদের ভূমিকা এই সামাজিক বন্ধনেরই একটি দিক তুলে ধরে। মানুষের ধর্মীয় আবেগের প্রতি সম্মান রেখে সকলের সুবিধা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা উৎসবের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তোলে।

মা দুর্গার আগমনে শান্তি, সুস্থতা ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা

মহালয়ার আবহে দেবীপক্ষের সূচনাকে ঘিরে বাংলার মানুষের মনে জেগে ওঠে নতুন আশার আলো। মা দুর্গার আগমনী সুরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অশুভ শক্তির বিনাশ, শুভবুদ্ধির জাগরণ এবং নতুন করে পথ চলার প্রত্যয়। সেই আবেগকে সামনে রেখেই বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা বাংলার প্রতিটি পরিবারের শান্তি, সুস্থতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

তাঁর বার্তায় সম্প্রীতি ও মানবিকতার বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বানও রয়েছে। উৎসবের আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকে এবং মানুষের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাব আরও বাড়ে—এমনই প্রত্যাশা উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে।

মহালয়া থেকে শুরু করে দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বাংলার প্রতিটি প্রান্তে তৈরি হয় মিলন ও আনন্দের পরিবেশ। এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিষেবায় যুক্ত কর্মীদের সম্মান জানানো এবং সকলের মঙ্গল কামনা করার মধ্য দিয়েই উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে ওঠে।

সেবার মধ্য দিয়েই উৎসবের সার্থকতা

ফলতা ও রামনগর তর্পণ ঘাটকে কেন্দ্র করে পুণ্যার্থীদের উপস্থিতি, পূর্বপুরুষদের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং পরিষেবায় নিয়োজিত কর্মীদের অবদান—সব মিলিয়ে উঠে এসেছে ঐতিহ্য ও মানবিকতার এক ছবি। বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডার কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁদের পরিশ্রমের প্রশংসা এই বার্তাই দেয় যে, বড় কোনও আয়োজনের সাফল্যের পিছনে নেপথ্যের কর্মীদের ভূমিকা কখনও উপেক্ষা করা যায় না।

ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে, মানুষের পাশে থেকে এবং সম্প্রীতির বন্ধনকে দৃঢ় করে এগিয়ে চলাই হোক আগামী দিনের অঙ্গীকার। মা দুর্গার আশীর্বাদে বাংলার প্রতিটি পরিবার ভালো থাকুক, মানুষের জীবনে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি, আর মানবিকতার আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠুক সমাজ।