নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: গোসাবা থানার পুলিশ আধিকারিক সনাতন কর্মকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি, তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তদন্ত চলাকালীন তাঁকে গোসাবা থানার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গোসাবা থানায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের আচরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং থানার প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্যও এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে পাওয়া যায়নি।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গোসাবা থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের প্রতি অত্যাচার ও হয়রানি বৃদ্ধির অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, ওই পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকর্মীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি, স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পুলিশি কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, এলাকায় যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের যোগাযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক এবং অভিযুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
গোসাবা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় জুয়া, মদ ও গাঁজার কারবারের মতো বেআইনি কার্যকলাপ বাড়ছে। এই ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশ কতটা কার্যকর পদক্ষেপ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, এলাকায় মাদক ও অন্যান্য বেআইনি কারবারের অভিযোগ থাকলে সেগুলির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
তবে গোসাবা এলাকায় জুয়া, মদ ও গাঁজার কারবার বেড়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তি কতটা শক্তিশালী, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়, গোসাবা থানার ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে থানার কাজকর্মের উপর প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, পুলিশ প্রশাসনের কাজ কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষা করা নয়, বরং আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা। কোনও পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায় আচরণের অভিযোগ উঠলে, সেই অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা উচিত।
তবে কোনও পুলিশ আধিকারিকের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত হয় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য শোনা প্রয়োজন।
গোসাবা থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিই এই বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান বিষয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তদন্ত চলাকালীন সনাতন কর্মকারকে গোসাবা থানার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হোক।
তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগের তদন্ত এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে কোনও পক্ষ তদন্তের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থা বজায় থাকে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
একই সঙ্গে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে দোষী হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসুক এবং আইন মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হোক—এটাই আন্দোলনকারীদের দাবি।
গোসাবা থানাকে ঘিরে এই বিক্ষোভের ফলে পুলিশি ভূমিকা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়গুলি সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীরা যে অভিযোগগুলি তুলেছেন, সেগুলি খতিয়ে দেখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য কী এবং কোনও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গোসাবার এই ঘটনায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।