নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে বামপন্থী দলগুলির পার্টি অফিসে হামলা, বাম কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলা এবং অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেদিনীপুরে পুলিশ সুপারের দফতর অভিযানের কর্মসূচি নিল বাম দলগুলি। অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় বাম কর্মী ও দলীয় কার্যালয় আক্রান্ত হলেও ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। একইসঙ্গে আক্রান্ত কর্মীদের নামেই পুলিশ মামলা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ বাম নেতৃত্বের।
এই অভিযোগগুলিকে সামনে রেখে মেদিনীপুর শহরে বামপন্থী দলগুলির কর্মী-সমর্থকেরা একত্রিত হয়ে পুলিশ সুপারের দফতরের দিকে অভিযান করেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক হিংসা ও হামলার ঘটনায় পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে এবং যাঁদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের দলীয় কার্যালয় ও কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও পার্টি অফিসে ভাঙচুর, কোথাও কর্মীদের উপর হামলা এবং কোথাও রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাঁদের। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরেও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত পুলিশি পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ বাম দলগুলির।
এর পাশাপাশি আক্রান্ত বাম কর্মীদের বিরুদ্ধেই পাল্টা মামলা দায়ের করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, কোনও ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদেরই যদি অভিযুক্ত হিসেবে মামলায় জড়ানো হয়, তাহলে পুলিশের তদন্ত ও ভূমিকা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এসপি অফিস অভিযানকে কেন্দ্র করে মেদিনীপুর শহরে বাম কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মিছিল থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান ওঠে। বাম নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দলীয় কার্যালয়ে হামলা বা কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তাঁদের আরও দাবি, কোনও রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা হামলার অভিযোগ সামনে এলে তদন্তের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও প্রমাণকে গুরুত্ব দিতে হবে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পুলিশের বিরুদ্ধে ‘চরম নিষ্ক্রিয়তা’র যে অভিযোগ বাম দলগুলি তুলেছে, সেটিও তাঁদের এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বিষয়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির তদন্তের অগ্রগতি জানা জরুরি। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও নির্দিষ্ট মামলায় আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকলে সেই তথ্যও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পশ্চিম মেদিনীপুরে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি অভিযানের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও মেদিনীপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এসপি অফিস ঘেরাও বা অভিযানের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালে বিজেপির এসপি অফিস ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মেদিনীপুরের এলআইসি মোড়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। Sangbad Pratidin
বর্তমান কর্মসূচিতে বাম দলগুলির মূল দাবি, জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগের তদন্ত, আক্রান্ত কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলির পুনর্বিবেচনা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনও ব্যক্তি বা দলের কর্মীকে আইনের বাইরে রাখা যেমন ঠিক নয়, তেমনই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানোও উচিত নয়। তাই প্রত্যেকটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য সামনে আনার দাবি তাঁদের।
এসপি অফিস অভিযানকে ঘিরে এখন পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। বাম দলগুলির পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলি সামনে আনা হয়েছে, সেগুলি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন কী ব্যাখ্যা দেয় এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলিতে তদন্তের অগ্রগতি কতটা হয়, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হতে পারে।