নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: আরামবাগের জুবিলি পার্কের মাঠে মহকুমাশাসকের দফতরের কাছে ভারতকেশরী ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি উন্মোচন করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মূর্তি উন্মোচনকে ঘিরে এলাকায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মূর্তি উন্মোচনের পর বিবেকানন্দ অ্যাকাডেমির প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুলের পড়ুয়ারা সেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
এরপর পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে অনুষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। উপস্থিতদের হাতে চারা তুলে দিয়ে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গোটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দু বাঙালির জন্য পশ্চিমবঙ্গ গঠনের ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “হিন্দু বাঙালির হোমল্যান্ড পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির পিছনে যাঁর অবদান সব থেকে উল্লেখযোগ্য, সেই ভারতকেশরী ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে এতদিন তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা এবং তাঁর ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ড নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে বাঙালির ইতিহাস এবং শ্যামাপ্রসাদের অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “এবার তাঁর মাটিতে রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এই সরকার বাঙালি হিন্দুর গর্বকে প্রাপ্য সম্মান দেবে এবং বাঙালিকে আসল ইতিহাস জানাবে।”
আরামবাগের এই অনুষ্ঠানে তাই শুধু একটি মূর্তি উন্মোচন নয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বার্তাও উঠে আসে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্কুল পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ এবং পরবর্তীতে চারা বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।