Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
Pantaloons Presents Anandabazar Patrika Anandolok Puraskar 2026’-এর মঞ্চে এক ফ্রেমে গুণী শিল্পীরা   •   বর্ধমানের পথে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও যিশু সেনগুপ্ত, শহরে আসছে ‘বহুরূপী—দ্য গোল্ডেন ডাকু’   •   আলিপুর উত্তীর্ণ সভাঘরে শ্রী অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতাব্দী উদযাপন, উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী   •   ১৫ বছরেই ইতিহাস! এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ সোনাজয়ী বৈভব সূর্যবংশী   •   ধানের শীষ হলুদ হলেই সতর্ক! ফলস স্মাটের লক্ষণ চিনে বীজ সংরক্ষণে কৃষকদের পরামর্শ   •   সব জাঙ্ক ফুড এক নয়, কোন খাবার শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর? জানুন সতর্ক হওয়ার কারণ

মাঠের খেলায় রাজনীতির লুকোচুরি?

04 Oct 2026
09:25 AM

সম্পাদকের কলমে :খেলার মাঠে খেলা হওয়ার কথা। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, উত্তেজনা থাকবে, জয়-পরাজয়ের হিসাব থাকবে। কিন্তু সেই মাঠেই যখন হঠাৎ রাজনীতির পরিচিত মুখগুলিকে পাশাপাশি দেখা যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এটা কি শুধুই সৌজন্য, নাকি এর আড়ালে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?

মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদারকে ঘিরে বর্তমানে সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। একটি ক্রীড়া কর্মসূচিতে তাঁর পাশে বিজেপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের অন্যতম মুখ অমিতাভ চক্রবর্তী এবং সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতোকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। মাঠে বসার এই দৃশ্যকে কেউ নিছক সামাজিক বা ক্রীড়া অনুষ্ঠানের উপস্থিতি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এর মধ্যে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত খুঁজছেন।

রাজনীতিতে অবশ্য ছবি অনেক সময় হাজার কথার চেয়েও বেশি প্রশ্ন তৈরি করে। বিশেষ করে যখন কোনও নেতার রাজনৈতিক পরিচয়, অতীতের অবস্থান এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিসর নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা থাকে, তখন একটি প্রকাশ্য মঞ্চে কার পাশে কে বসছেন—সেটিও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

তবে এখানেই আসল প্রশ্ন—রাজনীতিতে আদর্শের অবস্থান কোথায়?

একসময় যে নেতারা এক রাজনৈতিক দলের মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন, বিরোধীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন, মিছিল করেছেন, নির্বাচনী লড়াইয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার করেছেন, রাজনৈতিক পালাবদলের পর তাঁদেরই অন্য রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গেলে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

রাজনৈতিক আনুগত্য কি শুধুই ক্ষমতার সঙ্গে বদলে যাবে? নাকি একজন রাজনীতিকের কাছে মতাদর্শ, নীতি এবং রাজনৈতিক অবস্থানেরও কোনও দীর্ঘমেয়াদি মূল্য রয়েছে?

আজকের রাজনীতিতে দলবদল নতুন কোনও ঘটনা নয়। কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন দলবদলের সঙ্গে সঙ্গে অতীতের বক্তব্য, অবস্থান এবং রাজনৈতিক দর্শনেরও যেন কোনও হিসাব থাকে না। জনগণ তখন প্রশ্ন করেন—তাহলে এতদিন যে রাজনীতি করা হল, সেটি কি শুধুই নির্বাচনী প্রয়োজন ছিল?

আর এখানেই সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষ এখন কোনও নেতার রাজনৈতিক অতীত সহজে ভুলে যান না। পুরনো মিছিলের ছবি, পুরনো বক্তব্য, পুরনো স্লোগান—সবই কয়েক মুহূর্তে সামনে চলে আসে। ফলে রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেই অতীত মুছে যায় না।

মথুরাপুরের সাংসদকে ঘিরে সাম্প্রতিক ছবি এবং রাজনৈতিক জল্পনাও সেই বৃহত্তর প্রশ্নকেই সামনে নিয়ে এসেছে। অবশ্য কারও পাশে বসা মানেই দলবদল বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক নয়। একজন সাংসদ কোনও ক্রীড়া বা সামাজিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতার সঙ্গে একই মঞ্চে থাকতেই পারেন। কিন্তু সেই ছবিকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার উত্তর দেওয়ার দায়ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বেরই।

কারণ রাজনীতি শুধু পতাকার রং নয়। রাজনীতি মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি, আদর্শের অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বক্তব্যের ধারাবাহিকতারও নাম।

আজ যদি গেরুয়া পোশাক পরে বিজেপির মঞ্চে দাঁড়ানোই রাজনৈতিক পরিচয়ের একমাত্র প্রমাণ হয়ে যায়, তাহলে গতকালের রাজনৈতিক অবস্থানগুলির ব্যাখ্যা কে দেবে? আর যদি আগামীকাল আবার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায়, তাহলে আজকের অবস্থানের মূল্য কোথায়?

এই প্রশ্ন শুধু একজন নেতাকে নিয়ে নয়। এটি বাংলার সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন।

দলবদল গণতন্ত্রে নিষিদ্ধ নয়। রাজনৈতিক মত পরিবর্তনের অধিকারও প্রত্যেকের আছে। কিন্তু মত পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে স্বচ্ছতা। জনগণের কাছে পরিষ্কার করে বলতে হবে—কেন অবস্থান বদলানো হল, কী কারণে বদলানো হল এবং নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে পুরনো অবস্থানের পার্থক্য কোথায়।

নইলে মাঠে যতই খেলা চলুক, রাজনৈতিক দর্শকদের চোখ চলে যাবে অন্য খেলায়—মাঠের বাইরে চলা লুকোচুরি খেলায়।

আর সেই খেলায় দর্শক কিন্তু এখন অনেক বেশি সচেতন।

তাঁরা প্রশ্ন করতে জানেন। পুরনো ছবি খুঁজে বের করতে জানেন। পুরনো বক্তব্য মনে করিয়ে দিতে জানেন। এবং সবচেয়ে বড় কথা—ভোটের সময় তাঁরা নিজেদের বিচার নিজেরাই করতে জানেন।

তাই রাজনৈতিক নেতাদের কাছে প্রশ্ন একটাই—মাঠে কে কার পাশে বসেছেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, জনগণের পাশে কে কতদিন এবং কোন নীতিতে দাঁড়িয়ে থাকবেন?

রাজনীতির আসল পরীক্ষা সেখানেই।