Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা ড. সুকান্ত মজুমদারের   •   গ্রাম রোজগার সহায়কদের বার্ষিক সম্মেলনে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বার্তা, ‘সরকার ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকুন’   •   আরামবাগে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি উন্মোচন, গাছের চারা বিতরণ; ‘প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয়নি’—দিলীপ ঘোষ   •   কৃত্রিমভাবে বোরো ধানের পরাগায়ন: উন্নত বীজ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পদ্ধতি   •   Pantaloons Presents Anandabazar Patrika Anandolok Puraskar 2026’-এর মঞ্চে এক ফ্রেমে গুণী শিল্পীরা   •   বর্ধমানের পথে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও যিশু সেনগুপ্ত, শহরে আসছে ‘বহুরূপী—দ্য গোল্ডেন ডাকু’

যে জমিতে পাট চাষ, সেই জমিতেই পচানো হচ্ছে পাট! কীভাবে সম্ভব?

04 Oct 2026
03:24 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পাট কাটার পর আঁশ ছাড়ানোর জন্য পাট গাছকে জলে জাগ দিতে হয়—এটাই প্রচলিত পদ্ধতি। কিন্তু অনেক এলাকায় জলাশয় বা পর্যাপ্ত জল না থাকায় পাট জাগ দেওয়া কৃষকদের কাছে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সেই সমস্যার সমাধানে এখন যে জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে, সেই জমিতেই বিশেষ পদ্ধতিতে পাট পচানোর বা জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে আলাদা করে পুকুর বা জলাশয়ের খোঁজ করতে হয় না এবং কৃষকের সময় ও শ্রমও কিছুটা সাশ্রয় হতে পারে।

কীভাবে জমিতেই পাট পচানো যায়?

প্রথমে পাট কাটার পর গাছগুলি থেকে পাতা ঝরিয়ে আঁটি তৈরি করতে হয়। এরপর পাটের আঁটিগুলিকে জমির নির্দিষ্ট অংশে রাখা হয়। জমিতে এমন একটি জায়গা নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা যায়।

এরপর জমির একটি অংশ সামান্য গভীর করে বা চারপাশে মাটি তুলে ছোট জলাধারের মতো ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। প্রয়োজনে পলিথিন বা উপযুক্ত জলরোধী আবরণ ব্যবহার করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেই অংশে পর্যাপ্ত পানি দেওয়ার পর পাটের আঁটিগুলিকে ডুবিয়ে রাখা হয়।

পাটের আঁটির উপর বাঁশ, কাঠ বা অন্য কোনও ভারী উপকরণ দিয়ে চাপ দিয়ে রাখতে হয়, যাতে গাছগুলি সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে থাকে। এরপর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাটকে জলে রেখে দেওয়া হয়। এই সময়ে অণুজীবের ক্রিয়ায় পাটের কাণ্ডের ভেতরের কাঠিন্য ও অন্যান্য অংশ পচে আলগা হয়ে যায় এবং আঁশ সহজে বের করে আনা সম্ভব হয়।

জল ধরে রাখাই মূল বিষয়

জমিতে পাট পচানোর এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পর্যাপ্ত পানি ধরে রাখা। পাটের আঁটি যদি বারবার পানির বাইরে উঠে আসে বা পর্যাপ্ত সময় পানিতে ডুবে না থাকে, তাহলে ভালোভাবে পচন নাও হতে পারে।

তাই পাট জাগ দেওয়ার সময় আঁটিগুলি সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে রাখা এবং পানির স্তর নিয়মিত নজরে রাখা জরুরি। অতিরিক্ত রোদে পানি দ্রুত শুকিয়ে গেলে প্রয়োজনে নতুন করে পানি দিতে হতে পারে।

কতদিন লাগে?

পাট পচানোর সময় নির্দিষ্ট করে এক কথায় বলা যায় না। পানির তাপমাত্রা, আবহাওয়া, পাটের জাত, গাছের পরিপক্বতা এবং জাগ দেওয়ার পদ্ধতির ওপর সময় নির্ভর করে। সাধারণত উষ্ণ পরিবেশে পাট দ্রুত পচে, আর ঠান্ডা বা অনুকূল পরিবেশ না থাকলে বেশি সময় লাগতে পারে।

তাই নির্দিষ্ট দিনের হিসাবের পরিবর্তে পাটের আঁশ সহজে ছাড়ছে কি না, তা পরীক্ষা করে জাগ দেওয়ার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা উচিত।

জমিতেই পাট পচানোর সুবিধা

এই পদ্ধতির অন্যতম বড় সুবিধা হল পাট জাগ দেওয়ার জন্য দূরের পুকুর বা জলাশয়ের ওপর নির্ভরতা কমে। বিশেষ করে যেখানে পুকুরের সংখ্যা কম বা অন্যের পুকুরে পাট জাগ দেওয়ার অনুমতি পাওয়া কঠিন, সেখানে জমিতেই নিয়ন্ত্রিতভাবে পাট পচানো কৃষকদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

এছাড়া পাট পরিবহণের ঝামেলাও কমে। পাট কাটার পর দূরে নিয়ে যাওয়ার বদলে চাষের জমির কাছাকাছি জায়গাতেই জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। এতে শ্রম ও পরিবহণ খরচ কমানোর সম্ভাবনাও থাকে।

তবে সতর্কতা জরুরি

জমিতে পাট পচানোর সময় অপরিষ্কার বা দূষিত পানি ব্যবহার করা উচিত নয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত পানি সরাসরি খাল, পুকুর বা পানীয় জলের উৎসে ফেলে দেওয়া উচিত নয়। পাট পচানোর পর অবশিষ্ট জল ও জৈব বর্জ্য পরিবেশের ক্ষতি না করে যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

পাট ভালোভাবে পচেছে কি না তা বোঝার জন্য অল্প কিছু পাট তুলে হাতে পরীক্ষা করা যেতে পারে। আঁশ যদি সহজে কাঠি থেকে আলাদা হয়ে আসে এবং ভালো মানের আঁশ পাওয়া যায়, তাহলে জাগ ভাঙার সময় হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

জলাশয়ের সংকটের কারণে পাট জাগ দেওয়া অনেক সময় কৃষকদের কাছে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সেই পরিস্থিতিতে চাষের জমির মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে জল ধরে পাট জাগ দেওয়ার প্রযুক্তি কৃষকদের জন্য কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে পদ্ধতিটি স্থানীয় মাটি, জলপ্রাপ্যতা ও আবহাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা দরকার।

কৃষকরা যদি জমিতে পাট জাগ দেওয়ার আগে স্থানীয় কৃষি দফতর বা কৃষি বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে পরামর্শ নেন, তাহলে পাটের মান বজায় রাখার পাশাপাশি জল ও শ্রমের অপচয়ও কমানো সম্ভব।

অর্থাৎ, পাট চাষের জমিই যদি সঠিকভাবে প্রস্তুত করে সেখানে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে সেই জমিতেই পাট জাগ দেওয়া সম্ভব। জলাশয়ের অভাবের সময় এই পদ্ধতি কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।