নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: সমুদ্র থেকে নদী, আর নদী থেকে ফের সমুদ্র—ইলিশের জীবনচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নদীর পরিবেশ, জলপ্রবাহ এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকা। এই গুরুত্বপূর্ণ মাছের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এবার বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণ ও নদী পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইলিশ মূলত সমুদ্র ও নদীর মধ্যে পরিযানকারী মাছ। বর্ষাকালে প্রজননের জন্য সমুদ্র থেকে নদীর উজানের দিকে উঠে আসে। ডিম ফুটে ছোট ইলিশ নদীতে বেড়ে ওঠে এবং নির্দিষ্ট সময় পর আবার মোহনা হয়ে সমুদ্রের দিকে ফিরে যায়।
ইলিশের এই স্বাভাবিক পরিযানপথ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই লক্ষ্যেই ICAR-CIFRI এবং ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গার উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কর্মসূচি চলছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নদীতে ইলিশের র্যাঞ্চিং, স্টক বৃদ্ধি, কৃত্রিম প্রজনন, ডিম ও পোনা ছাড়া এবং মাছের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের জুনে ফারাক্কায় ICAR-CIFRI-এর উদ্যোগে গঙ্গায় ১১০টি ইলিশের পোনা ছাড়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য গঙ্গায় ইলিশের প্রজনন ও মজুত পুনরুদ্ধার করা এবং দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যজীবীদের জীবিকা সুরক্ষিত করা।
সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফলও মিলছে। কয়েক দশক পর উত্তরপ্রদেশের চন্দৌলি জেলার গঙ্গার উজানে ইলিশের সন্ধান পাওয়া গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গার ঐতিহাসিক পরিযানপথ পুনরুদ্ধারে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একইসঙ্গে ছোট ইলিশ ধরা বন্ধ করা, পরিণত ও ডিমভরা ইলিশের সুরক্ষা এবং নদীর স্বাস্থ্য বজায় রাখার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ICAR-এর মতে, ইলিশের টেকসই উৎপাদনের জন্য নদীতে পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ, উপযুক্ত লবণাক্ততার ভারসাম্য, গভীর জলপথ এবং নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশকে বাঁচাতে শুধু মাছ সংরক্ষণ নয়, ইলিশের পুরো জীবনচক্রের সঙ্গে যুক্ত নদী-মোহনা-সমুদ্রের পরিবেশকেও সুরক্ষিত করতে হবে। কারণ সুস্থ নদী ও নিরাপদ পরিযানপথই ভবিষ্যতে ইলিশের মজুত এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকা ধরে রাখার অন্যতম ভিত্তি।