নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ২০৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস (ASFHM)-এর উদ্যোগে কলকাতার বি.আই.টি.এম. অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হল বিশেষ সেমিনার। সংগঠনের সাংস্কৃতিক উপসমিতির পরিচালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ২০০-রও বেশি প্রধানশিক্ষক ও প্রধানশিক্ষিকা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যাসাগরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন ASFHM-এর রাজ্য সভাপতি ড. হরিদাস ঘটক এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার মাইতি।
সেমিনারের প্রধান বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সুদীন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে বিদ্যাসাগরের জীবন, কর্ম, শিক্ষাদর্শ, সমাজসংস্কার এবং মানবতাবাদী চিন্তার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বর্ণপরিচয়ের স্রষ্টা হিসেবে তাঁর ভূমিকার পাশাপাশি নারীশিক্ষা, শিক্ষাবিস্তার, যুক্তিবাদ ও সামাজিক ন্যায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগরের অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়।
ড. চট্টোপাধ্যায় বলেন, বিদ্যাসাগরের শিক্ষাচিন্তা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মানুষের মধ্যে মানবিকতা, যুক্তিবোধ ও নৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটানোও তাঁর শিক্ষাদর্শের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। বর্তমান সময়েও সেই আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ASFHM-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার মাইতি বিদ্যাসাগরের জীবনাদর্শের সঙ্গে বর্তমান সময়ের প্রধানশিক্ষকদের দায়িত্বের যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধানশিক্ষকদের দৃঢ়চেতা, নীতিনিষ্ঠ, মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার উপর গুরুত্ব দেন। বিদ্যাসাগরের কর্মনিষ্ঠা ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে বিদ্যাসাগরের জীবন ও শিক্ষাদর্শ নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের বক্তব্য, এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র জন্মবার্ষিকী স্মরণে সীমাবদ্ধ না থেকে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষকদের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের মানবতাবাদী ও শিক্ষাচিন্তার পুনঃসংযোগ ঘটানোর একটি প্রয়াস।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের জন্য প্রাতরাশ এবং মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থাও করা হয়। সমগ্র আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করে পাথফাইন্ডার। ASFHM-এর সাংস্কৃতিক উপসমিতির পরিকল্পনা ও সদস্যদের সম্মিলিত উদ্যোগে সেমিনারটি সম্পন্ন হয়।
আয়োজকদের মতে, বিদ্যাসাগরকে শুধু ইতিহাসের পাতায় স্মরণ নয়, তাঁর মানবিকতা, যুক্তিবাদ, শিক্ষাচিন্তা ও কর্মাদর্শকে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের মধ্য দিয়েই তাঁকে যথার্থভাবে শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।